এক বিএলও-কে প্রকাশ্যেই ‘মেরে চামড়া তুলে দেওয়া’র হুমকি দিয়েছেন এইআরও (অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার)— এমনই এক ভিডিয়োয় তোলপাড় হচ্ছে পূর্ব মেদিনীপুরের সুতাহাটা। এক সরকারি প্রতিনিধির সঙ্গে আরেক সরকারি আধিকারিকের আচরণ নিয়েউঠেছে প্রশ্ন।
সমাজমাধ্যমে ছড়ানো ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, নিজের বুথের ভোটারদের নথি কেন বারবার বাতিল করা হচ্ছে, এইআরও-রকাছে জানতে চেয়েছিলেন বিএলও। তখনই এইআরও তাঁকে বেরিয়ে যেতে বলেন। অভিযোগ, তিনি রাজি না হওয়ায় গায়ে হাত পর্যন্ত তোলেন ওই আধিকারিক। তখনই এক জনকে গোটা ঘটনা ভিডিয়োবন্দি করার অনুরোধ করেন ওই বিএলও। এর পরেই আঙুল উঁচিয়ে বিএলও-কে মেরে চামড়া তুলে দেওয়ার হুমকি দেন ওই আধিকারিক।
খোঁজ নিয়ে জানা গিয়েছে, ওই এইআরও হলেন সুতাহাটা ব্লকের বিপর্যয় মোকাবিলা আধিকারিক শ্রীজিত মিত্র। আর বিএলও হলেন সঞ্জয় মিদ্যা দাস। তিনি ব্লকের ১৫৩ নম্বর বুথের বিএলও। সূত্রের খবর, শুক্রবার সকালে শ্রীজিতের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন ওই বিএলও। এক প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, ‘‘একটা বুথে ছ’জন ভোটারের তথ্য বারবার বাতিল হয়ে যাচ্ছিল। কেন বাতিল হচ্ছে সেটাই জানতে চেয়েছিলেন সঞ্জয়। তখনই ওই ঘটনা ঘটেছে।’’
সঞ্জয় শিক্ষক। শনিবার তিনি বলেন, ‘‘১৩ জন ভোটারের ৬ নম্বর ফর্ম যথাযথ ভাবে জমা দিয়েছিলাম। তা সত্ত্বেও এইআরও বাতিল করে দেন। তার কারণ জানতে গিয়েছিলাম। ওই আধিকারিক আমায় মেরে পিঠের চামড়া তুলে দেবেন বলে হুমকি দিয়েছেন। বিডিও-কে মৌখিক অভিযোগ জানিয়েছি।’’ অভিযুক্ত আধিকারিক অবশ্য এ দিন ‘‘এসআইআরের কাজে ব্যস্ত আছি, পরে কথা বলব’’ বলে বিষয়টি এড়িয়ে যান। ওই আধিকারিকের বিরুদ্ধে এসআইআরের শুনানি চলাকালীনও সাধারণ মানুষের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছিল।
ঘটনায় রাজনৈতিক চাপান-উতোর শুরু হয়েছে। বিজেপির তমলুক সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি আনন্দময় অধিকারী বলেন, ‘‘ওই বিএলও-র সঙ্গে কেন এই ধরনের আচরণ করা হয়েছে, ব্লকের সর্বদল বৈঠকে তা প্রশাসনের কাছে জানতে চাওয়া হবে।’’ সুতাহাটার বিডিও সৌমিত্র মুদলি এ নিয়ে কিছু বলতে চাননি। তবে গোটা ঘটনা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলার এক নির্বাচনে আধিকারিক।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)