Advertisement
E-Paper

‘ভোট পাবে না জেনেই বঞ্চনা পশ্চিমবঙ্গকে’, কেন্দ্রের বাজেট মিথ্যার জঞ্জাল, বললেন মমতা! অভিষেক বললেন, বিমাতৃসুলভ

রবিবার দিল্লি যাওয়ার আগে কলকাতা বিমানবন্দরে কেন্দ্রীয় বাজেটের সমালোচনা করে মমতা বলেন, “সাধারণ মানুষের জন্য কিছু নেই। সামাজিক সুরক্ষায় কিছু নেই। বাজেটকে ‘বিমাতৃসুলভ’ বলে অভিহিত করেন অভিষেক।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৪:১২
(বাঁ দিক থেকে) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, নির্মলা সীতারমণ এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

(বাঁ দিক থেকে) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, নির্মলা সীতারমণ এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

কেন্দ্রীয় বাজেটকে ‘মিথ্যার জঞ্জাল’ বলে কটাক্ষ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার দিল্লি যাওয়ার আগে কলকাতা বিমানবন্দরে মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রীয় বাজেটের সমালোচনা করে বলেন, “সাধারণ মানুষের জন্য কিছু নেই। সামাজিক সুরক্ষায় কিছু নেই। ওরা বাংলায় হারবে। রাজনৈতিক ভাবে কিছু করতে পারবে না। ভোট পাবে না বলেই পশ্চিমবঙ্গকে বঞ্চনা।” প্রায় একই সুরে বাজেটের সমালোচনায় সরব হয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনি এই বাজেটকে ‘বিমাতৃসুলভ’ বলে অভিহিত করেছেন।

রবিবার মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এই বাজেট হচ্ছে গারবেজ অফ লাই (মিথ্যার জঞ্জাল)। গোটা দেশে এখন একটাই কর কাঠামো, জিএসটি। বাংলার থেকে সব টাকা তুলে নিয়ে যাচ্ছে। একটা টাকা রাজ্যকে দিচ্ছে না। যে টাকার কথা বলা হয়েছে, সব আমাদের টাকা।” রবিবার বাজেট পেশের সময় কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ জানান, ডানকুনি এবং গুজরাতের সুরতের মধ্যে নতুন পণ্য (ফ্রেট) করিডর গঠন করা হবে। এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২০০৯ সালে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী থাকার সময় ডানকুনি পণ্য করিডরের কথা ঘোষণা করেছিলেন তিনি। তার পর ওই কাজ থমকে যায় বলে জানিয়েছেন মমতা।

গত রাজ্য বাজেটে তাঁর সরকার ছ’টি পণ্য করিডর তৈরির কথা জানিয়েছিল বলেও স্মরণ করিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রসঙ্গত, ওই বাজেটে ডানকুনি-রঘুনাথপুর, রঘুনাথপুর-তাজপুর, ডানকুনি-ঝাড়গ্রাম, ডানকুনি-কোচবিহার এবং পুরুলিয়ার গুরুডি থেকে জোকা এবং খড়্গপুর-মোরগ্রাম করিডর গড়ে তোলার কথা জানানো হয়েছিল। বিজেপিকে আক্রমণ করে মমতা বলেন, “ওরা কী করবে? আমরাই তো জঙ্গলমহলের জন্য জঙ্গলসুন্দরী করেছি। পুরুলিয়ার জন্য আলাদা ফ্রেট করিডর করেছি। ইতিমধ্যেই ৭২ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে।” রবিবারের বাজেটে শিলিগুড়ি এবং বারাণসীর মধ্যে হাইস্পিড রেল করিডর তৈরির কথা বলা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে মোদীর নির্বাচনী কেন্দ্র বারাণসীকে ‘ডিজ়নিল্যান্ড’ বানানো হচ্ছে বলে কটাক্ষ করেন মমতা।

কেন্দ্রীয় বাজেটকে ‘হাম্পটি ডাম্পটি’ বাজেট বলে কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রীর সংযোজন, “বাজেটে শুধু কথার ফুলঝুরি। বাংলার ২ লক্ষ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে।” কেন্দ্রীয় বাজেট বণিকমহলকে কতটা হতাশ করেছে, সে কথা জানাতে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “শেয়ারবাজারে বড় ধস নেমেছে। সেনসেক্স প্রায় ১০০০ পয়েন্ট পড়েছে।”

বাজেট পেশ হওয়ার পরেই পশ্চিমবঙ্গের প্রতি কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের ‘বঞ্চনা’ নিয়ে সরব হয়েছেন অভিষেক। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বলেন, “৮৫ মিনিটের বাজেট ভাষণে বাংলার জন্য কিছু ঘোষণা করা হয়নি।” কেন্দ্রীয় বাজেটকে ‘দিশাহীন, ভিত্তিহীন এবং লক্ষ্যহীন’ বলে কটাক্ষ করেন তিনি। অভিষেক আরও এক বার অভিযোগ তুলেছেন যে, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর বিজেপি কেন্দ্রীয় প্রকল্পে টাকা দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। ২০২১-এর পর রাজ্যের এক জন বাসিন্দাও ১০০ দিনের কাজে কেন্দ্রের টাকা পেয়েছেন প্রমাণ করতে পারলে তিনি রাজনীতি ছেড়ে দেবেন বলে জানিয়েছেন অভিষেক। এই প্রসঙ্গে পদ্মশিবিরকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, “বাংলায় ওরা হারছে। তাই বিজেপি বিমাতৃসুলভ মনোভাব নিয়ে বাংলার মানুষকে শিক্ষা দিতে চাইছে। আসন্ন নির্বাচনে মানুষ বিজেপিকে সমুচিত জবাব দিয়ে দেবে।”

কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ হওয়ার পর তৃণমূল শিবির মনে করছে, নির্মলার ঘোষণাপত্রে পশ্চিমবঙ্গের বিশেষ উল্লেখ না-থাকা বিধানসভা ভোটের আগে তাদেরই লাভবান করবে। সে ক্ষেত্রে ‘কেন্দ্রীয় বঞ্চনা’র বিষয়টি তাদের হাতে নতুন অস্ত্র তুলে দিতে পারে। রবিবার সেই অস্ত্রেই শান দিয়ে রাখলেন মমতা এবং অভিষেক।

Mamata Banerjee Abhishek Banerjee Nirmala Sitharaman
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy