Advertisement
E-Paper

এ বার বিপণনেও জোর মাটিমেলায়

বর্ধমান প্রতি বছরই সরকারি নানা দফতরের স্টল থাকে। বিভিন্ন জিনিসও থাকে সেখানে। কিন্তু তা বিপণনে বিশেষ নজর দেওয়া হয় না। এ বার মাটি উৎসবে সেই ধারা পাল্টে বিকিকিনির উপরে জোর দিতে চাইছে কৃষি দফতর।

সৌমেন দত্ত

শেষ আপডেট: ০১ জানুয়ারি ২০১৮ ০২:১৮
চলছে মাটি উৎসবের প্রস্তুতি। নিজস্ব চিত্র

চলছে মাটি উৎসবের প্রস্তুতি। নিজস্ব চিত্র

বর্ধমান প্রতি বছরই সরকারি নানা দফতরের স্টল থাকে। বিভিন্ন জিনিসও থাকে সেখানে। কিন্তু তা বিপণনে বিশেষ নজর দেওয়া হয় না। এ বার মাটি উৎসবে সেই ধারা পাল্টে বিকিকিনির উপরে জোর দিতে চাইছে কৃষি দফতর।

বর্ধমানের সাধনপুরের কৃষি খামারে মঙ্গলবার দুপুরে মাটিমেলার উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মেলা চলবে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। মেলার আয়োজক কৃষি দফতর সূত্রে জানা যায়, এ বছর বিপণনের দিকে নজর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কৃষি বিপণন দফতরকে উৎপাদিত দ্রব্য দিয়ে স্টল সাজার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প দফতরও হস্তশিল্প নিয়ে পৃথক প্যাভিলিয়ন করছে। প্রতিটি জেলার হস্তশিল্পের জন্য আলাদা করে বিপণিকেন্দ্র তৈরি করা হয়। ওই দফতরও এ বার বিপণনে জোর দিচ্ছে বলে আধিকারিকেরা জানান।

কৃষি দফতর জানায়, মাটিমেলায় বাংলার ‘কালো চাল’কে বাজারজাত করায় বিশেষ উদ্যোগী হয়েছে। গত কয়েক বছরে এই চাল বিদেশেও সুনাম কুড়িয়েছে। দফতরের দাবি, আরব দুনিয়া, জাপান হয়ে ইউরোপ-আমেরিকাতেও বাণিজ্যে ভাল সম্ভাবনা তৈরি করেছে এই চাল। দফতরের বিজ্ঞানীদের দাবি, সাদা চালের তুলনায় পুষ্টিগুণ ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি কালো চালের। এই চালের ভাত ক্যানসার প্রতিরোধেও সহায়ক। কালো চাল যাতে বাংলাতেও বাজার করতে পারে, সে জন্য মাটিমেলাকে পাখির চোখ করতে চাইছে দফতর।

কৃষি-কর্তারা জানান, ২০০৮ সালে ফুলিয়ার কৃষি দফতর প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রথম কালো চালের দেখা মিলেছিল। বছর দুয়েক আগে খরিফ মরসুমে আউশগ্রাম-সহ দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জায়গায় চাষ শুরু হয়। গত বছর কোচবিহারেও কালো চালের চাষ শুরু হয়। কৃষিমন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “উত্তরবঙ্গ-সহ বিভিন্ন জেলার ব্লক স্তরের কৃষিমেলায় কালো চালের প্রচার চালানো হয়েছে। মানুষজনের মধ্যে চাহিদাও রয়েছে। এ বার মাটিমেলায় আমরা কালো চাল আরও বেশি করে বিপণন করব। আশা করছি, ভাল বিক্রি সম্ভব হবে।”

কমল প্রজাতির চাল বাজারে বিক্রিতেও জোর দিচ্ছে কৃষি দফতর। মাটিমেলায় চাষিদের ওই প্রজাতির চাল চাষে উৎসাহ দেওয়া বলে জানা গিয়েছে। চাষিদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের জন্য প্রতিটি কৃষি খামারে কমল প্রজাতির ধান চাষ বাধ্যতামূলক করতে চলেছে কৃষি দফতর। মন্ত্রী বলেন, “সাধারণ জলেও কমল-চাল সেদ্ধ হয়ে যায়। এই প্রজাতি চাষ করলে আয় বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।”

ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প দফতরের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ বলেন, “প্রতি বছরই আমাদের অনেকগুলি বিপণিকেন্দ্র থাকে মাটিমেলায়। এ বার আমরা হস্তশিল্পীদের আয় বাড়াতে বিপণনে জোর দিচ্ছি।” তাঁর আশা, গত তিন বছরের চেয়ে এ বছর মেলায় বেচাকেনা বেশি হবে।

মাটি উৎসব Mati Utsav Agriculture Department Mamata Banerjee মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় Marketing
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy