Advertisement
E-Paper

দুর্ঘটনায় আহত যুবকের পায়ে মৃত মানুষের হাড় প্রতিস্থাপন! আরজি করে অস্ত্রোপচার, পূর্ব ভারতের মধ্যে প্রথম

লরি দুর্ঘটনার শিকার হন উত্তর ২৪ পরগনার বিড়ার বাসিন্দা রিজাউদ্দিন মণ্ডল। তাঁর উরুর হাড়ের নীচের অংশ গুঁড়িয়ে যায়। তাঁকে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করানো হয়েছিল।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৪:২৫
হাড় প্রতিস্থাপন করা হয়েছে রিজাউদ্দিনের পায়ে। নিজস্ব চিত্র।

হাড় প্রতিস্থাপন করা হয়েছে রিজাউদ্দিনের পায়ে। নিজস্ব চিত্র।

মৃত মানুষের হাড় প্রতিস্থাপন করা হল দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত এক যুবকের পায়ে। আর এই হাড় প্রতিস্থাপন করল আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গে তো বটেই পূর্ব ভারতেও প্রথম হল এই ধরনের প্রতিস্থাপন। চিকিৎসা পরিভাষায় একে ‘অ্যালোগ্রাফ্ট রিকনস্ট্রাকশন’ বলা হয়। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি অস্ত্রোপচার করে ওই যুবকের পায়ে এই হাড় প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। সরকারি সহায়তায় এই প্রক্রিয়ার জন্য খরচ হয়েছে ২ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা। আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের অর্থোপেডিক বিভাগের প্রধান (এইচওডি) সঞ্জয় কুমার জানিয়েছেন, অস্ত্রোপচার ভালই হয়েছে। রোগী সুস্থ আছেন। তবে রোগীকে এখনও পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। এই প্রক্রিয়া রোগীর শরীর কতটা নিতে পারছে সেটাও পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে। পাশাপাশি হাড় জুড়তে কত দিন সময় লাগবে, সেটাও একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালে দুর্ঘটনার শিকার হন উত্তর ২৪ পরগনার বিড়ার বাসিন্দা পেশায় দিনমজুর রিজাউদ্দিন মণ্ডল। লরির ধাক্কায় তাঁর উরুর হাড়ের নীচের অংশ গুঁড়িয়ে যায়। তার পর তাঁকে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করানো হয়। ওই বছরেরই মে মাসে পায়ের অস্ত্রোপচার করা হয় রিজাউদ্দিনের। জুনে আবার প্লাস্টিক সার্জারিও করা হয়। অগস্টে আরও একটি অস্ত্রোপচার করা হয় রিজাউদ্দিনের পায়ে। কিন্তু তার পরেও পরিস্থিতির বিশেষ কিছু উন্নতি হয়নি। ২০২৪ সালে গ্রাফ্টিং করা হয়। কিন্তু তাতেও খুব একটা লাভ হয়নি। তখন একটি বিকল্পই বাকি ছিল চিকিৎসকদের কাছে।

এইচওডি জানিয়েছেন, রোগীর যা অবস্থা ছিল, তা দেখে প্রথমেই স্থির করা হয়, আগে রোগীকে বাঁচাতে হবে। তার জন্য প্রয়োজনীয় যা যা করার দরকার তা-ই করা হল। বেশ কয়েক বার অস্ত্রোপচার, প্লাস্টিক সার্জারি করা হয়। সংক্রমণও ঠিক হল। ক্ষত শুকোল। এ বার দ্বিতীয় কাজ ছিল পায়ের হাড়ের বিষয়। কারণ সেটি পুরো গুঁড়িয়ে গিয়েছিল। এইচওডি জানান, হয় হাঁটুর অংশ থেকে কেটে বাদ দিয়ে পা জুড়তে হত। না হলে টিউমর প্রস্থেটিস প্রক্রিয়া কাজে লাগাতে হত। ফলে পা ছোট হয়ে যেত। বয়সও কম রোগীর। ফলে সারাজীবন তাঁকে এ ভাবে অনেক কষ্টে চলতে হত। তাই বিকল্প ব্যবস্থার কথা চিন্তা করা হয়। তখন ‘অ্যালোগ্রাফ্ট’-এর বিষয়টি নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু হয়। হাড়ের যদি কোনও অংশ নষ্ট হয়ে যায়, প্রয়োজনে এই প্রক্রিয়া প্রয়োগ করা হয়। কোনও মৃত ব্যক্তির শরীর থেকে হাড় নিয়ে তা প্রতিস্থাপন করা হয়। বীরার যুবকের ক্ষেত্রেও তা-ই করা হয়েছে। কেউ মারা গেলে চিকিৎসা পরিভাষায় তাকে ‘ক্যাডাভার’ বলে। মৃত ব্যক্তির হাড় প্রতিস্থাপন করলেই হবে না, তার কী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে, সেটাও দেখার বিষয় আছে বলে জানিয়েছেন এইচওডি সঞ্জয় কুমার। তার পর বেশ কয়েকটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেটি প্রতিস্থাপন করা হয়। তবে এই প্রক্রিয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মতামত নেওয়া হয়। সম্মতি এবং ছাড়পত্র পাওয়ার পর অস্ত্রোপচার করা হয়। চিকিৎসক সুনীত কুমার হাজরা নেতৃত্বে এই অস্ত্রোপচার হয়েছে।

rg kar medical college
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy