অনলাইন খাবার সরবরাহকারী অ্যাপের দৌলতে এখন বাড়ি বসেই যখন-তখন রেস্তরাঁর খাবার অর্ডার করছেন সবাই। আর বেশির ভাগ রেস্তরাঁ থেকেই বাড়িতে খাবার আসে কালো প্লাস্টিকের কৌটোয় ভরে। অনেক গৃহিণীর অভ্যাস বাড়িতে সেই কৌটো জমা করা। ফলে হেঁশেলের এক কোণে জমছে কালো প্লাস্টিকের কৌটোর স্তূপ। বারংবার খাবার গরম করতে ব্যবহার করা হচ্ছে সেই কৌটো। এই অভ্যাসের কারণে শরীরের কী কী ক্ষতি হচ্ছে জানেন?
প্লাস্টিকের কৌটোয় খাবার মজুত রাখা বা গরম করা কতটা ক্ষতিকর, তা কারও অজানা নয়। তবে পুষ্টিবিদ নন্দিতা আইয়ারের মতে, কালো প্লাস্টিকের কৌটোর ক্ষেত্রে ক্ষতির মাত্রা কয়েক গুণ বেশি। পুষ্টিবিদ বলেন, ‘‘কালো প্লাস্টিকের কৌটোগুলি সাধারণত পুনর্ব্যবহৃত প্লাস্টিকজাত বর্জ্য থেকে তৈরি করা হয়। যার মধ্যে রয়েছে ইলেকট্রনিক বর্জ্য, পুরনো পিভিসি, অগ্নি প্রতিরোধক এবং অন্যান্য রাসায়নিক। আর এই যৌগগুলির কোনওটাই খাওয়ার উপযোগী নয়। বিভিন্ন প্লাস্টিকের মিশ্রণে তৈরি হয় বলে কালো রঞ্জক দিয়ে তা আড়াল করা হয়।’’ চিকিৎসকের মতে, যখন কালো প্লাস্টিকের কৌটোয় ভরে মাইক্রোওয়েভে খাবার গরম করা হয়, তখন খাবারের সঙ্গে বিভিন্ন রকম রাসায়নিক, মাইক্রোপ্লাস্টিক, ক্ষতিকারক যৌগ আর ভারী ধাতু মিশে যায়। চর্বিযুক্ত খাবারের ক্ষেত্রে এই সমস্যা আরও বেশি। তাতে আরও বেশি মাত্রায় রাসায়নিক মেশে।
তাই স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে এই ধরনের বাসন হেঁশেলে জমিয়ে রাখার কোনও অর্থ হয় না, এমনটাই মত নন্দিতার। রেস্তরাঁ থেকে খাবার আসার পর সেই খাবার ওই পাত্রে গরম না করাই ভাল। মাইক্রোওয়েভ অভেনে ব্যবহারযোগ্য কোনও পাত্রে ঢেলে খাবার গরম করাই ভাল। এ ক্ষেত্রে খাটনি একটু বেশি হতে পারে, তবে স্বাস্থ্যের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হবে।