ছেলেকে স্কুল থেকে আনতে গিয়েই সমস্যাটি টের পেলেন অর্পিতা। ট্রেন থেকে উঠতে কিংবা নামতে গেলেই পায়ে ব্যথা করছে। চল্লিশের দোরগোড়ায় পৌঁছে ওজন বেড়েছে অনেকটাই। সংসার, সন্তান, পেশার কাজ সামলে নিজের যত্ন নেওয়ার ফুরসতই মেলে না। চিকিৎসক দেখেশুনে বলেছেন, ব্যথা কমাতে চাইলে আর সুস্থ থাকলে হলে ওজন কমানো এবং শরীরচর্চাই একমাত্র উপায়।
অর্পিতার মতো সমস্যা হয় অনেক মহিলা এবং পুরুষেরও। ৪০ বছরে পৌঁছে অনেকের শরীরেই বাসা বাঁধে নানা রোগ। একটানা ডেস্কটপের সামনে বসে কাজ করার ফলে ঘাড়ে, হাতে ব্যথাও হয়। এই সবের সমাধান লুকিয়ে ব্যায়ামে। কিন্তু করবেন কখন? ব্যস্ত জীবনে এমন ফুরসৎ কোথায়?
চিকিৎসকেরা বলছেন, কাজের ফাঁকে ছোটখাটো শরীরচর্চা করা যেতে পারে। একেবারেই ব্যায়াম না করার চেয়ে সুযোগ-সুবিধা মতো হালকা ব্যায়াম করলে শরীর ভাল থাকবে।
স্ট্যান্ডিং মার্চ: ছোটবেলায় শেখা ‘লেফ্ট-রাইট’-এ করতে পারেন রান্না করতে করতে বা ঘরের কাজ সারতে সারতে। স্ট্যান্ডিং মার্চ হল, এক জায়গায় দাঁড়িয়ে হাঁটা। পা, কোমর এবং তলপেটের পেশির জোর বাড়ে এতে।পায়ের তালে তালে হাতও নাড়ালে গোটা শরীরেই ব্যায়াম হয়।
কাফ রেইজ়
সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে গোড়ালি উঁচু করতে হয়ে এই ব্যায়ামে। সহজ ব্যায়ামটি যখন-তখন করা যায়। তবে বার কয়েক প্রতি দিন করলে পায়ের পেশি মজবুত হয়, শরীরের ভারসাম্য ঠিক থাকে।
আর্ম সার্কল
হাত ঘোরানোর ব্যায়ামও করা যায় যে কোনও সময়ই। ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
হাত ঘোরানোর এই ব্যায়ামটিও কাজের ফাঁকেই সেরে ফেলতে পারেন। পন্থা সহজ। দুই হাত দুই পাশে প্রসারিত করতে হবে যাতে মাটির সঙ্গে সমান্তরাল অবস্থানে থাকে। কনুই ভাঁজ না করে দুই হাতই বাহুমূল থেকে বৃত্তাকারে ঘোরান। সামনে ১০ বার, উল্টোদিকে ১০ বার। যাঁদের দীর্ঘ ক্ষণ কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ করতে হয়, তাঁদের অনেকেরই কাঁধে বা অস্থিসন্ধিতে ব্যথা হয়। এই ব্যায়ামে সেই সব কমবে। রক্ত সঞ্চালন ভাল হবে।
স্ট্যান্ডিং সাইড স্ট্রেচ
এই স্ট্রেচিংটিও মোটেই কঠিন নয়। ছবি: সংগৃহীত।
সকালবেলা ঘুম থেকে উঠেই বিছানা ছাড়ার পরেই স্ট্যান্ডিং সাইড স্ট্রেচ করে নিন। পা দু’টি স্বল্প ফাঁক করে সোজা হয়ে দাঁড়ান। দুই হাত মাথার উপর তুলে এক হাতের আঙুল দিয়ে অন্য হাতের তালু ছুঁয়ে থাকুন। এই অবস্থায় কোমর থেকে শরীরে একবার বাঁ দিকে বাঁকান আবার আগের অবস্থানে এসে ডান দিকে বাঁকান। ব্যায়ামের সময় হাঁটু ভাঁজ হবে না, শরীর এগিয়ে আসবে না। শুধু দুই পাশে হেলবে।
স্কোয়াট: বাড়িতেই কাজের ফাঁকে স্কোয়াট করে নিন। সোজা হয়ে দুই পা ফাঁক করে দাঁড়ান, দুই হাত জড়ো করে মুঠো করে নিন। এবার কাল্পনিক চেয়ারে বসার ভঙ্গিতে বসুন, সেই অবস্থায় কয়েক সেকেন্ড অপেক্ষা করে পূর্বের অবস্থানে ফিরে আসুন। এতে শরীরের নীচের অংশের পেশি মজবুত হয়। বয়স বাড়লেই যে কোমরের ব্যথা, হাঁটুর ব্যথা হয়, এটি নিয়ম করে করলে তা থেকে মুক্তি মিলবে। হাঁটতে গিয়ে ক্লান্ত হবেন না।