রক্তচাপ বাড়লে, রক্তে শর্করা বশে না থাকলে ওষুধ খেতেই হবে। তবে সে সব যাতে মাত্রা না ছাড়ায়, সে ব্যাপারে সাহায্য করতে পারে ঘরোয়া উপকরণই। অনেক বাড়িতেই আনা থাকে ভিনিগার। মাংস নরম করতে এবং নানা রকম রান্নায় তা ব্যবহার করা হয়। ভিনিগার হল মজিয়ে তৈরি হওয়া তরল। ইথানল জারিত হয়ে অ্যাসিটিক অ্যাসিডে পরিণত হয়। সেটিই ভিনিগার।
ভিনিগার কী ভাবে কাজ করে?
খাওয়ার জন্য অবশ্য অ্যাপেল সাইডার ভিনিগারই ভাল। পরিমিত এবং সঠিক ভাবে খেলে বশে থাকতে পারে ওজন থেকে রক্তচাপ, রক্তে শর্করার মাত্রা।
রক্তচাপ বশে রাখে: এতে থাকা অ্যাসিটিক অ্যাসিড কার্বোহাইড্রেটের শোষণের মাত্রা কমিয়ে দেয়, ফলে রক্তে শর্করা দ্রুত মিশতে পারে না।
ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক: অল্প খাবার খেলেও তৃপ্তির বোধ তৈরি করে জিএলপি১ হরমোন।অন্ত্র থেকে নিঃসৃত এই হরমোন ইনসুলিনের ক্ষরণ বৃদ্ধি করে, মস্তিষ্কে পেট ভরে যাওয়া সংক্রান্ত সঙ্কেত বহন করে। এই হরমোনের ক্ষরণ সঠিক রাখতে সাহায্য করে ভিনিগার।
হার্ট ভাল রাখে: রক্তচাপ, ট্রাইগ্লিসারাইড বশে রেখে হার্ট ভাল রাখতেও সাহায্য করে। এতে মেলে পলিফেলন, যা প্রদাহ এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে।
কী ভাবে ভিনিগার খাওয়া ভাল?
নিয়মিত খাওয়ার জন্য অ্যাপেল সাইডার ভিনিগারই ভাল। এই ধরনের ভিনিগারে প্রোটিন এবং প্রোবায়োটিক থাকে স্বল্প মাত্রায়। প্রোবায়োটিক পেটের স্বাস্থ্য ভাল রাখে। এটি টনিক হিসাবে ব্যবহার করা যায়, স্যালাডেও খাওয়া যায়। খাওয়া যেতে পারে বলস্যামিক ভিনিগারও। এতে মেলে পলিফেনলের মতো অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট। আঙুরের রস থেকে তৈরি এই ভিনিগার একটু মিষ্টি ধরনের। স্যালাডে মিশিয়ে খাওয়া যায়। এ ছাড়াও রয়েছে রেডওয়াইন ভিনিগার, যা হার্টের জন্য ভাল।
খাওয়ার পন্থা
· এক গ্লাস জলে এক টেবিল চামচ অ্যাপেল সাইডার ভিনিগার মিশিয়ে সেই জলটি খান।
· অ্যাসিডে দাঁতের এনামেল ক্ষয়ে যেতে পারে। তাই খাওয়ার সময় স্ট্র ব্যবহার করতে পারেন।
· দিন কয়েক ভিনিগার খাওয়ার পরে শরীরে কী ভাবে প্রতিক্রিয়া করছে, দেখা প্রয়োজন।
· এক দিন অন্তর স্যালাডে ছড়িয়ে এটি খেতে পারেন।
কোনটি করবেন না?
· জলে না মিশিয়ে সরাসরি ভিনিগার খেলে গলা-বুক জ্বলে যেতে পারে, খাদ্যনালিতেও প্রদাহ হতে পারে।
· অম্বল বা গা-বমির ধাত থাকলে খালিপেটে ভিনিগার না খাওয়াই ভাল।
· দিনে ২ টেবিল চামচের বেশি খাওয়া ঠিক নয়।
· কিডনি, গ্যাস্ট্রিক, অ্যাসিড রিফ্লাক্স, ডায়াবিটিসের সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
· ভিনিগারই সব সমস্যার একক সমাধান নয়, পুষ্টির ভারসাম্যও জরুরি।