রাতের খাওয়ার ঘণ্টা খানেকের মধ্যেই শোয়ার তোড়জোড়। তার পরে ভরা পেটে বিছানায় শুয়ে নিশ্চিন্তে ঘুম। এটা করতে গিয়ে হজমের প্রক্রিয়া কতটা ব্যাহত হচ্ছে, তা নিয়ে মাথা ঘামানো হয় না সচরাচর। ফলে ঘুমন্ত শরীরে পেট ভরা খাবার থেকে যায় ৬-৭ ঘণ্টার জন্য। হজম হতে থাকে অত্যন্ত ধীরে। হজম হয়ও না কখনও সখনও। আর এর থেকেই যাবতীয় মেদ বৃদ্ধির সমস্যা।
বলিউডের নায়ক নায়িকারা তাই অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রাতের খাবার শেষ করে নেন সন্ধ্যা ৬-৭টার মধ্যে। বিদেশে ডিনার বা নৈশভোজ শুরু হয় দিনের আলো থাকতে থাকতে। আমজনতার জীবনে অত তাড়াতাড়ি রাতের খাবার খাওয়া বিলাসিতা মনে হতে পারে। সেক্ষেত্রে মেদ বৃদ্ধি রুখতে হলে রাতের খাবারে এমন কিছু খান, যা হজম ক্ষমতা ভাল রেখে খাবার হজম করার প্রক্রিয়াটি সচল রাখবে। সেই সঙ্গে শরীরে মেদ জমতে দেবে না।
১। লিনপ্রোটিন অর্থাৎ চর্বিহীন মাছ বা মুরগির বুকের অংশের মাংস। এটি পেশির স্বাস্থ্য ভাল রাখতে এবং পেশি মেরামত করতে সাহায্য করে। যা ঘুমের মধ্যেও ফ্যাট ঝরাতে সাহায্য করবে।
২। পাঁচ-ছ’টি কাঠবাদাম খেতে পারেন। এতে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট এভং প্রোটিন থাকে। যা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। যা খাবারের পরিমাণ অল্প মাত্রায় বেঁধে রাখতে সাহায্য করে।
৩। দই খেতে পারেন। প্রোটিন এবং প্রোবায়োটিক উপাদানে ভরপুর দই অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে সাহায্য করে। খাবার দ্রুত হজম করতে সাহায্য করে। রক্তে শর্করার মাত্রাও ঠিক রাখে। ফলে ইনসুলিন নিজের কাজ যথাযথ ভাবে করতে পারে।
৪। ছানায় রয়েছে ক্যাসিন প্রোটিন। যা ধীরে ধীরে হজম হয় এবং দ্রুত পেট ভরিয়ে দেয়। ছানা খেলে রাতে বেশি খাওয়ার প্রবণতা কমবে। অল্পেই পেট ভরে যাবে। ফলে তা ওজন কমানোর ক্ষেত্রে কাজে দেবে। তাছাড়া ছানা পেশি মেরামতেও সাহায্য করে। সে কাজ চলতে পারে ঘুমের মধ্যেও।
৫। ভেষজ চা খেতে পারেন। চা পাতায় ক্যাফিন থাকে। তা ঘুমের সমস্যা তৈরি করতে পারে। তবে তার বদলে ক্যামোমিলের চা, আদা-পুদিনার নির্যাস থেকে তৈরি চা, বা তুলসী মধু দেওয়া চা খেলে তা যেমন স্নায়ুকে আরাম দেবে তেমনই বিপাকের হার বাড়িয়ে ঘুমের মধ্যেও ফ্যাটঝরানোর প্রক্রিয়ায় সাহায্য করবে।