Advertisement
E-Paper

সিনিয়র আধিকারিকের পথেই হাঁটলেন এ বার অন্য সাক্ষীরাও

অমিত হত্যা মামলায় সাক্ষ্য দিতে এসে দুই সিনিয়র পুলিশ আধিকারিকের পথেই হাঁটলেন জুনিয়ার কনস্টেবল শঙ্কর রানা। ব্যতিক্রমী হননি অপর সাক্ষী গাড়ির চালক জাকির শা-ও।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৮ জুলাই ২০১৬ ০১:২৯

অমিত হত্যা মামলায় সাক্ষ্য দিতে এসে দুই সিনিয়র পুলিশ আধিকারিকের পথেই হাঁটলেন জুনিয়ার কনস্টেবল শঙ্কর রানা। ব্যতিক্রমী হননি অপর সাক্ষী গাড়ির চালক জাকির শা-ও।

বছর দু’য়েক আগে সেদিন ঠিক কী ঘটেছিল, আদালতে সাক্ষ্য দিতে এসে তার বর্ণনা দিলেও আদালতে উপস্থিত অভিযুক্তদের কাউকেই চিহ্নিত করতে পারলেন না দুই সাক্ষী। মঙ্গলবার সাক্ষ্য দিতে এসে যেমনটা পারেননি দুবরাজপুরের নিহত এসআই-এর দুই সহকর্মী, ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী তথা তদন্তকারী অফিসার রণজিৎ বাউড়ি এবং এএসআই আদিত্য মণ্ডল। সেই একই ঘটনা ঘটল বুধবারও। সিউড়ির অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্যের এজলাসের ঘটনা।

মামলার সরকারি আইনজীবী তপন গোস্বামী বলেন, ‘‘দুই পুলিশ কর্মী ও সেদিনের গাড়ির চালকের সাক্ষ্য ছিল এ দিন। সুনীল মণ্ডল নামে এক পুলিশ কর্মী এ দিন সাক্ষ্য দানে অনুপস্থিত ছিলেন। পরবর্তী সাক্ষ্যদানের দিন ধার্য হয়েছে আগামী মাসের ১২ তারিখ।’’

২০১৪ সালের ৩ জুন দুবরাজপুরের যশপুর পঞ্চায়েতের আউলিয়া গোপালপুর গ্রামে ১০০ দিন প্রকল্পে একটি পুকুর সংস্কার করাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল ও সিপিএমের সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে দুষ্কৃতীদের ছোড়া বোমার আঘাতে মারাত্মক জখম হয়েছিলেন দুবরাজপুর থানার এসআই অমিত চক্রবর্তী। অমিতবাবু মারা যান ওই বছর ২৮ জুলাই। মোট ৫০ জন অভিযুক্তের মধ্যে ধৃত ১৭জনের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করে বিচার প্রক্রিয়া চলছে। ইতিমধ্যেই মূল অভিযোগকারী তৎকালীন দুবরাজপুর থানার ওসি ত্রিদীপ প্রামাণিকের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে গত ১৭ জুন।

মঙ্গলবার সাক্ষ্য দিয়েছেন রণজিৎবাবু এবং আদিত্যবাবুরা। বুধবার দিলেন শঙ্কর, জাকিররা।

শঙ্কর রানা সাক্ষ্য দিতে গিয়ে বলেন, ‘‘সেদিন সিপিএম ও তৃণমূল দু’পক্ষের মধ্যে একটা উত্তেজনা চলছিল। সন্ধ্যার পর মধ্যে থেকেই দু’পক্ষের শতাধিক লোক বন্দুক, বোমা, লাঠি টাঙি-সহ নানা অস্ত্র নিয়ে একে অপরের সঙ্গে সংঘর্ষের জন্য তৈরি ছিল। খবর পেয়ে দুবরাজপুর থানার তৎকালীন ওসি ত্রিদীপ প্রামাণিকের নির্দেশ দেন। সেটা মেনে আমিতস্যারের সঙ্গে ঘটনাস্থলে যাই। জমায়েত হওয়া লোকজন আরও আক্রমণাত্বক হয়ে ওঠে। ইট পাটকেল ছুঁড়তে থাকে, যখনই গাড়ি থেকে নেমে আমিতস্যার এগোতে গিয়েছেন তখনই একটা বোমা এসে ওঁর বাদিকের কোমরের কাছে লাগে। সঙ্গে সঙ্গেই পিচ রাস্তার উপরে লুটিয়ে পড়েন।’’ অন্যদিকে জাকির জানিয়েছেন, তিনি ওসির নির্দেশ চার কনস্টেবল ও অমিতবাবুদের নিয়ে ওখানে গিয়েছিলেন।

মঙ্গলবার দুই সহ কর্মীও অভিযুক্তদের চিনতে না পারায় অমিতবাবুর স্ত্রী পুতুল দেবীর প্রতিক্রিয়া ছিল, যাঁদের সামনে ঘটনা ঘটল, যাঁরা অভিযুক্তদের গ্রেফতার করলেন তাঁরাই যদি চিনতে না পারেন তাহলে আর কে চিনবেন। মামলার ভবিষ্যত স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি। আর এ দিনের পরে পুতুল বলছেন, ‘‘যাঁদের চেনার কথা তাঁরাই যেখানে পারেনি তখন এঁদের কী করে দোষ দিই।’’

Amit death case witnesses senior officer
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy