বিহারে বিধানসভা নির্বাচনের আগে উপুড়হস্ত হয়েছিল কেন্দ্র। পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনের আগেও সেই পথে হাঁটার ইঙ্গিত দিচ্ছে নরেন্দ্র মোদী সরকার।
গত সপ্তাহে দিল্লি এসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। সূত্রের মতে, বৈঠকে রাজ্যে দলের পরিস্থিতি, রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি আগামী দিনে আর্থিক ভাবে কী ভাবে রাজ্যকে শক্তিশালী করা যায়, তা নিয়েও আলোচনায় হয়। সূত্রের মতে, শিল্পে বিকাশের প্রশ্নে পশ্চিমবঙ্গ যে অন্য রাজ্যের তুলনায় অনেকাংশে পিছিয়ে পড়েছে, তা নিয়ে বৈঠকে উদ্বেগ জানান শাহ। সূত্রের মতে, তিনি শমীককে বলেন, এশীয় দেশগুলির সঙ্গে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে ওঠার পূর্ণ সম্ভাবনা থাকলেও, রাজনৈতিক সদিচ্ছার কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। তুলনায় পিছিয়ে থেকেও ধীরে ধীরে শিল্প সম্ভাবনা বাড়ছে পার্শ্ববর্তী রাজ্য অসমে। যার অন্যতম কারণ হল, কেন্দ্র ও রাজ্যে বিজেপির সরকার থাকা। আগামী দিনে দলীয় প্রচারে ডাবল ইঞ্জিনের সরকার হলে পশ্চিমবঙ্গে শিল্প সম্ভাবনা কী ভাবে বাড়তে পারে, সেই বিষয়টির উপরে জোর দিতে বলেছেন শাহ।
সূত্রের মতে, বৈঠকে বাংলায় আগামী দিনে ক্ষমতায় এলে কী ধরনের কেন্দ্রীয় শিল্প খোলা সম্ভব, তা নিয়েও শমীকের কাছ থেকে ধারণা পেতে চেয়েছেন শাহ। বিশেষ করে পিছিয়ে থাকা উত্তরবঙ্গ বা রাঢ়বঙ্গের ভূপ্রকৃতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে কী ধরনের শিল্পের সম্ভাবনা রয়েছে, তা নিয়ে আলোচনা হয়। বিভিন্ন কেন্দ্রীয় শিল্পের একাধিক শাখা সংস্থা, যেগুলি বন্ধ হয়ে গিয়েছে, সেগুলির জমিতে নতুন করে শিল্প গড়ার প্রশ্নেও শমীকের কাছে তথ্য চাওয়া হয়েছে। ওই তথ্যের ভিত্তিতে রাজ্যবাসীর মন জয়ে আসন্ন বাজেটে পশ্চিমবঙ্গের জন্য আলাদা করে প্রকল্প ঘোষণা হতে পারে বলে আশায় বুক বাঁধছেন পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতৃত্ব। বৈঠকে রাজ্যের বন্দর আধুনিকীকরণ, ক্ষমতা বৃদ্ধি ও নতুন বন্দর গড়ার উপরেও জোর দেওয়া হয়েছে। সূত্রের মতে, গুজরাতের উদাহরণ দেখিয়ে শাহ বলেছেন, গুজরাতের যদি একাধিক বন্দর সক্রিয় থাকতে পারে, তা হলে পশ্চিমবঙ্গে কেন তা হবে না।
বিশেষ ভাবে জোর দিতে বলা হয়েছে রাজ্যে স্টার্ট আপ শিল্পের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলার উপরেও। সূত্রের মতে, দেশের অন্য প্রান্তের তুলনায় স্টার্ট আপে পশ্চিমবঙ্গ অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে বলে শমীককে জানিয়েছেন শাহ। ফলে চাকরির বাজার বাড়ছে না। এ ছাড়া বৈঠকে প্রত্যেক সাংসদের এলাকায় কী ধরনের শিল্পের বিকাশ হওয়া সম্ভব, সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। সূত্রের মতে, সাংসদদের দেওয়া পরিকল্পনাগুলি রূপায়ণের ক্ষেত্রে বিশ্বাসযোগ্যতার ভিত্তিতে দলের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিপত্রে রাখার কথা ভেবে রেখেছেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)