প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেসের উদ্বোধন হল পশ্চিমবঙ্গে। শুধু তা-ই নয়, পশ্চিমবঙ্গ পেল অমৃত ভারত এক্সপ্রেসও! পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাতায়াত আরও দ্রুত এবং সহজ হল বলে দাবি রেল মন্ত্রকের। শনিবার একগুচ্ছ দূরপাল্লা ট্রেনের সূচনা হল পশ্চিমবঙ্গ থেকে। তবে উদ্বোধন হলেও এখনই সাধারণের জন্য চালু হচ্ছে না বন্দে ভারত স্লিপার। রেল মন্ত্রক সূত্রে খবর, খুব শীঘ্রই চালু হবে।
বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেস নিয়ে নানা কৌতূহল ছিল। বহু প্রতীক্ষিত সেই এক্সপ্রেসের সূচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মালদহ টাউন স্টেশন থেকে ট্রেনটির উদ্বোধন করেন তিনি। হাওড়া থেকে কামাখ্যা, আবার কামাখ্যা থেকে হাওড়া— এই বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেসটি ছুটবে। হাওড়া থেকে উত্তরবঙ্গ হয়ে ট্রেনটি যাবে গুয়াহাটিতে। আর অমৃত ভারত এক্সপ্রেস ছাড়বে আলিপুরদুয়ার, রাধিকাপুর এবং নিউ জলপাইগুড়ি (এনজেপি) থেকে।
শনিবার উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন স্টেশন থেকে অমৃত ভারত এক্সপ্রেসগুলি যাত্রা শুরু করে। উত্তরবঙ্গ থেকে উত্তর বা দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে যাওয়া যাবে। নিউ জলপাইগুড়ি থেকে তিরুচিলাপল্লি যাওয়ার অমৃত ভারত এক্সপ্রেসের সূচনা হয় শনিবার। এ ছাড়াও, আলিপুরদুয়ার-পানভেল অমৃত ভারত এক্সপ্রেস, এনজেপি-নাগেরকোয়েল অমৃত ভারত এক্সপ্রেস, রাধিকাপুর-এসভিটি বেঙ্গালুরু এক্সপ্রেস এবং বালুরঘাট-এসএমভিটি বেঙ্গালুরু এক্সপ্রেস মিলবে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন স্টেশন থেকে।
উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ট্রেনগুলি সপ্তাহে দু’দিন করে সংশ্লিষ্ট স্টেশন থেকে ছাড়বে। খুব কম ভাড়ায় যাত্রীরা সরাসরি উত্তরবঙ্গ থেকে উত্তর এবং দক্ষিণ ভারতে এই সব ট্রেনের মাধ্যমে পৌঁছে যেতে পারবেন। ট্রেনগুলিতে থাকছে ১১টি স্লিপার কামরা, আটটি সাধারণ কামরা এবং একটি প্যান্ট্রি কোচ। দূরপাল্লার এই ট্রেনে দুর্ঘটনা এড়াতে থাকছে অত্যাধুনিক ব্যবস্থা। এক্সপ্রেসগুলিতে ব্যবহার করা হয়েছে ‘অ্যান্টি কলিশন কোচ’! ঘণ্টায় ১৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত বেগে ছুটতে পারবে এই দূরপাল্লার এক্সপ্রেসগুলি। রবিবার আরও তিনটি অমৃত ভারত এক্সপ্রেসের সূচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী।
আরও পড়ুন:
অনেকের মতে, আগে উত্তরবঙ্গ থেকে উত্তর বা দক্ষিণ ভারতে যেতে গেলে ভেঙে ভেঙে যেতে হত। তবে নতুন অমৃত ভারত এক্সপ্রেসে সেই ঝঞ্ঝাট অনেকটাই লাঘব হবে। শুধু তা-ই নয়, খরচও কমবে। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের কাটিহার ডিভিশনের এডিআরএম অজয়কুমার সিংহ বলেন, ‘‘এই ট্রেনগুলি অত্যাধুনিক প্রযুক্তির। উত্তরবঙ্গের সঙ্গে উত্তর এবং দক্ষিণ ভারতের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন হবে। এতে অনেক সময় কম লাগবে এবং যাত্রী পরিষেবা আরও উন্নত হবে।’’ অমৃত ভারত এক্সপ্রেসের চালক বিজয়কুমার শর্মা বলেন, ‘‘আমার খুব ভাল লাগছে। এই ট্রেনে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। যাত্রীদের সুরক্ষার বিষয়গুলিও নিশ্চিত করা হয়েছে। ট্রেনের দু’পাশেই ইঞ্জিন রয়েছে। খুব সহজে নিরাপত্তার সঙ্গে দ্রুত ব্রেক লাগানো যায়।’’
অমৃত ভারত এক্সপ্রেসগুলি ছাড়াও শনিবার উদ্বোধন হয় বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেসেরও। সপ্তাহে ছ’দিন পাওয়া যাবে হাও়ড়া-কামাখ্যা বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেস। রেল জানিয়েছিল, হাওড়া থেকে বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেসটি ছাড়বে সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে। কামাখ্যা পৌঁছোবে পরের দিন সকাল ৮টা ২০ মিনিটে। আর কামাখ্যা থেকে তা ছাড়বে সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে। হাওড়া পৌঁছোবে পরের দিন সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে। হাওড়া এবং কামাখ্যার মধ্যে ১৩টি স্টেশনে দাঁড়াবে ট্রেনটি। হাওড়া থেকে ছাড়ার পর বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেস প্রথম দাঁড়াবে ব্যান্ডেলে। তার পরে নবদ্বীপ ধাম, কাটোয়া, আজ়িমগঞ্জ, নিউ ফরাক্কা, মালদহ টাউন, আলুয়াবাড়ি রোড হয়ে নিউ জলপাইগুড়ি পৌঁছোবে। তার পরে সেখান থেকে ছেড়ে জলপাইগুড়ি রোড, নিউ কোচবিহার, নিউ আলিপুরদুয়ার, নিউ বঙ্গাইগাঁও, রঙ্গিয়া হয়ে কামাখ্যা পৌঁছোবে বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেস। সেই একই রুটে কামাখ্যা থেকে ট্রেনটি হাওড়া আসবে।
এই এক্সপ্রেসে ১১টি এসি থ্রি টিয়ার, চারটি এসি টু টিয়ার এবং একটি এসি ফার্স্ট ক্লাস কামরা থাকবে। ৮২৩ জন যাত্রী সফর করতে পারবেন। হাওড়া-কামাখ্যা বন্দে ভারত এক্সপ্রেসে ৪০০ কিলোমিটারের জন্য বাতানুকূল থ্রি-টিয়ারে ৯৬০ টাকা, বাতানুকূল টু-টিয়ারে ১২৪০ টাকা এবং প্রথম শ্রেণিতে ১৫২০ টাকা ভাড়া পড়বে। এর সঙ্গে যোগ হবে পাঁচ শতাংশ পণ্য পরিষেবা কর। হাওড়া থেকে নিউ জলপাইগুড়ি যেতে থ্রি-টিয়ারে খরচ পড়বে ১৩৩৪ টাকা। টু-টিয়ারে এই ভাড়া হবে ১৭২৪ টাকা। এসি ফার্স্ট ক্লাসের খরচ হবে ২১১৩ টাকা।