কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী অর্জুন মেঘওয়ালের সামনেই কেন্দ্রের ‘বঞ্চনা’ নিয়ে সরব হলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার জলপাইগুড়িতে কলকাতা হাই কোর্টের সার্কিট বেঞ্চের নতুন ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে একই মঞ্চে ছিলেন তাঁরা। সেই মঞ্চে বক্তৃতা করতে গিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে রাজ্যের টাকা বন্ধ রাখার অভিযোগ করেন মমতা। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গের ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট তৈরির টাকা দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে কেন্দ্র। পাশাপাশি, অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকল বিচারপতির উদ্দেশে সংবিধান এবং গণতন্ত্র রক্ষার অনুরোধও করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী।
শনিবারের অনুষ্ঠানে আইনব্যবস্থা বা আদালতের জন্য রাজ্য সরকার কী কী করেছে, তার খতিয়ানও তুলে ধরেন মমতা। জলপাইগুড়িতে কলকাতা হাই কোর্টের সার্কিট বেঞ্চের নতুন ভবন দেখে তিনি যে অভিভূত, তা গোপন করেননি মমতা। তাঁর কথায়, ‘‘আজ উত্তরবঙ্গের মানুষের জন্য এক ঐতিহাসিক দিন। এটা বড় মাইলস্টোন। কলকাতা হাই কোর্টের থেকেও এই বিল্ডিং বড় হয়েছে।’’ মোট ৪০.৮ একর জমিতে তৈরি হয়েছে জলপাইগুড়িতে কলকাতা হাই কোর্টের সার্কিট বেঞ্চের নতুন ভবন। খরচ হয়েছে ৫০০ কোটি টাকা। সেখানে বিচারপতিদের থাকার জন্য ৮০টি ঘর রয়েছে। প্রধান বিচারপতির জন্য রয়েছে বাংলো। এ ছাড়াও ছ’টি আদালত রয়েছে ওই চত্বরে।
মমতা জানান, রাজ্যের আদালতের জন্য ১,২০০ কোটি টাকা খরচ করেছে তাঁর সরকার। তার পরেই নতুন আদালত তৈরির বিষয়ে কেন্দ্রীয় বঞ্চনার বিরুদ্ধে সরব হন মমতা। সেই সময় মঞ্চে ছিলেন কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী। তাঁর উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘দয়া করে কিছু মনে করবেন না। কেন্দ্রীয় সরকার এই আদালত (ফাস্ট ট্র্যাক আদালত) তৈরির টাকা দেওয়া বন্ধ করেছে।’’ যদিও কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী এই অভিযোগ নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি।
মমতা জানান, তাঁর সরকার ৮৮টি ফাস্ট ট্র্যাক আদালত তৈরি করেছে। তার মধ্যে ৫২টি মহিলাদের জন্য, সাতটি পকসো, চারটি লেবার (শ্রম বিষয়ক) এবং ১৯টি মানবাধিকার আদালত। মমতা বলেন, ‘‘বিচারব্যবস্থার জন্য আমরা আরও অনেক কিছু করতে চাই।’’ শনিবারের অনুষ্ঠান থেকে মমতা মনে করিয়ে দেন, ‘‘চারটি জিনিস আমাদের কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ। এক, সংবিধান। দুই, দেশের নাগরিক। তিন, বিচারব্যবস্থা এবং চার, সাংবাদমাধ্যম।’’ তার পরেই প্রধান বিচারপতি এবং সব বিচারপতির কাছে মুখ্যমন্ত্রীর অনুরোধ, ‘‘আপনারা দয়া করে দেখবেন, বিপর্যয় থেকে যেন আমাদের সংবিধান রক্ষা পায়। গণতন্ত্র যেন রক্ষা পায়। আমাদের সুরক্ষা, নিরাপত্তা, ইতিহাস, সীমান্ত যেন রক্ষা পায়।’’
আরও পড়ুন:
মমতা আরাও একবার জানিয়েছেন, কোনও মামলার চূড়ান্ত রায় না-আসা পর্যন্ত ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ করা উচিত নয়! তাঁর দাবি, কোনও মামলার চূড়ান্ত নির্দেশ আসার আগেই মানুষকে কালিমালিপ্ত করার ‘ট্রেন্ড’ তৈরি হয়েছে। কিছু এজেন্সি এই সব কাজ করছে বলে অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর। বিচারপতিদের কাছে তাঁর অনুরোধ, ‘‘দয়া করে মানুষকে মানহানির হাত থেকে রক্ষা করুন। আমি আমার জন্য বলছি না। গণতন্ত্র বাঁচান, সংবিধান বাঁচান, দেশ বাঁচান। আমরা আপনাদের হেফাজতে। আর আপনারা সংবিধানের অভিভাবক। আপনাদের থেকে কেউ শক্তিশালী নন।’’
এরই পাশাপাশি জুনিয়র আইনজীবীদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তাও দিয়েছেন মমতা। তাঁর কথায়, ‘‘সকলের কাছে আমার অনুরোধ, নতুন প্রজন্মকে রক্ষা করুন। জুনিয়র আইনজীবীরা লড়াই করছেন। তাঁরা পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন না। আমরা দেখতে চাই তাঁরা যেন পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা পান।’’