তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তোলা বন্ধ রাখার আর্জি জানিয়ে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিলেন দলের ‘সদ্য প্রাক্তন’ কোষাধ্যক্ষ অরূপ বিশ্বাস। বিধানসভা ভোটে বিপর্যয়ের পরে গত ৫ জুন দলের সাংগঠনিক রদবদলের কথা ঘোষণা করে তৃণমূলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, অরূপ বিশ্বাসের বদলে নতুন কোষাধ্যক্ষ হয়েছেন প্রাক্তন সাংসদ শুভাশিস চক্রবর্তী। ব্যাঙ্ককে দেওয়া চিঠিতে অবশ্য অরূপ দাবি করেছেন, তিনিই এখনও দলের কোষাধ্যক্ষ।
একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কের সেন্ট্রাল প্লাজা শাখায় তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট রয়েছে। দলের তরফে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া অডিট রিপোর্ট অনুসারে জমা থাকা টাকার পরিমাণ ৬৭৫ কোটি। ব্যাঙ্কের ম্যানেজারকে অরূপ যে চিঠি দিয়েছেন, তার তারিখ ১২ জুন। ব্যাঙ্কের তরফে অবশ্য সেটা ১৬ জুন গ্রহণ করা হয়েছে। চিঠিতে অরূপ বলেছেন, বর্তমানে তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে বিরোধ দেখা দিয়েছে। বিদ্রোহী গোষ্ঠী দাবি করছে, তারাই তৃণমূলের বৈধ প্রতিনিধি। দলের নামে থাকা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট কে নিয়ন্ত্রণ করবেন, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই অবস্থায় দলের তহবিল সুরক্ষিত রাখতে অনুমোদনহীন কোনও ব্যক্তির টাকা তোলা বা লেনদেন বন্ধ রাখা প্রয়োজন বলে জানিয়ে অরূপের আর্জি, দলের অন্দরের সমস্যা না-মেটা পর্যন্ত অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তোলা বন্ধ রাখা হোক। তিনি আগাম যে চেকগুলি সই করে রেখেছিলেন, সেগুলি যাতে অপব্যবহার না-হয় সে জন্যও ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানিয়েছেন অরূপ।
অরূপের চিঠির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পরে শুভাশিস চক্রবর্তীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না। তবে আমি রাজ্য সংগঠনের কোষাধ্যক্ষ। অরূপ ছিল সর্বভারতীয় তৃণমূলের কোষাধ্যক্ষ।” সর্বভারতীয় তৃণমূল এবং রাজ্য তৃণমূলের আলাদা আলাদা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট আছে কি না জানতে চাওয়া হলে শুভাশিসের জবাব, “অ্যাকাউন্ট একটাই।”
আরও পড়ুন:
বিধানসভা ভোটে হারের পর থেকে তৃণমূল কার্যত তিন টুকরো হয়ে গিয়েছে। একটা ভাগ বিধায়কদের, দ্বিতীয় ভাগ সাংসদদের। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে থাকা নেতাদের সংখ্যা প্রতিদিনই কমছে। এই অবস্থায় তৃণমূলের প্রতীক এবং তহবিল কোন পক্ষের এক্তিয়ারে থাকবে তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদারের সঙ্গী সাংসদেরা ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া (এনসিপিআই)-তে যোগ দিলেও প্রতীক পাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়ছেন। আর ঋতব্রতের সঙ্গে যাওয়া বিধায়কেরা তো নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ বলেই দাবি করছেন।
তবে এই বিদ্রোহ পর্বে অরূপ তাঁর সঙ্গেই আছেন বলে সম্ভবত মনে করছিলেন মমতা। ৫ তারিখের বৈঠকে অরূপকে কোষাধ্যক্ষ পদ থেকে সরালেও দলের সাধারণ সম্পাদক পদে রেখে দেওয়া হয়েছিল। যদিও ভাই স্বরূপ বিশ্বাস গ্রেফতার হওয়া এবং নিজে মেসিকাণ্ডে পুলিশের তলব পাওয়ার পর থেকে প্রকাশ্যে আর অরূপের দেখা মিলছিল না। তিন বার সমন এড়ানোর পরে বৃহস্পতিবারই বিধাননগর দক্ষিণ থানায় হাজিরা দিয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী। তার আগে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে লেখা চিঠি প্রকাশ্যে এসে বুঝিয়ে দিল, অরূপও আর দিদির হাতে নেই!