করদাতারা রেশন সংগ্রহ না করলে সাধারণ নিম্নবিত্ত মানুষের জন্য খাদ্যদ্রব্যের সরবরাহ বাড়তে পারে বলে মনে করছে রাজ্য সরকার। শুক্রবার কলকাতায় খাদ্য ভবনে মন্ত্রী অশোক কীর্তনীয়া বলেন, ‘‘কত প্রত্যন্ত গ্রাম রয়েছে, জঙ্গলমহল রয়েছে, যেখানে মানুষের সত্যিই রেশনের প্রয়োজন। শহরে বসে বোঝা যায় না। আমি করদাতাদের অনুরোধ করছি আপনারা রেশন না নিলে গরিব মানুষের খুব উপকার হবে।’’
রেশন দুর্নীতির অভিযোগে তৃণমূল সরকারের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক গ্রেফতার হয়েছিলেন। এই জমানায় যাতে তেমন না ঘটে, বার্তা দিয়ে খাদ্যমন্ত্রীর আর্জি, ‘‘হাতজোড় করে আধিকারিকদের বলব নিজেদের শুধরে নিতে। পরে কিন্তু কলম চালাতে বাধ্য হব। দুর্নীতির সঙ্গে কোনও আপস করা হবে না।’’
উল্লেখ্য, খাদ্য দফতরকে সব সময়ে ফড়েদের উপদ্রব নিয়ে সতর্ক থাকতে হয়। তাই ধান কেনার মরসুম শুরুর আগে দালালরাজ পুরোপুরি নির্মূল করার নির্দেশ দিয়েছেন নতুন খাদ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, চাষিরা ১০০ কেজি ধান নিয়ে এলে তাঁরা ৮০ কেজি ধানের দাম পেতেন। বাকি ধান মধ্যস্বত্ত্বভোগীদের হাতে চলে যেত। আবার চাষিদের বরাদ্দ সহায়ক মূল্যের একটি অংশও দালালেরা নিয়ে যেত। এর পিছনে দফতরের আধিকারিকদের একাংশকে দায়ী করেছেন খাদ্যমন্ত্রী।
খাবারের মান নিয়েও আপস করা হবে না বলে খাদ্যমন্ত্রীর বার্তা। রেশনের আটা মানুষের খাওয়ার অযোগ্য বলে গম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জুন থেকে সেই নিয়ম চালু হবে। অশোক জানান, রেশনদ্রব্য বণ্টনের ক্ষেত্রে কেউ যদি ফুড কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া-র গুদামের গমের সঙ্গে নিম্নমানের গম বদলে নেন কিংবা আগের সরকারের সময়ের মতো খোলা বাজারে বিক্রি করে দেন, তা হলে অভিযুক্ত ডিস্ট্রিবিউটর, ডিলারের লাইসেন্স বাতিল করা হবে। যে আধিকারিকেরা ওই এলাকার দায়িত্বে থাকবেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপ করা হবে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)