Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

০৭ ডিসেম্বর ২০২১ ই-পেপার

জামিন খারিজের পরেও অধরা নেতা

শুভাশিস ঘটক
কলকাতা ২৮ মার্চ ২০১৬ ০২:৩৪
মাস খানেক আগে রায়দিঘির বিদায়ী বিধায়ক দেবশ্রী রায়ের সঙ্গে এক মঞ্চে অভিযুক্ত আবদুস সালেম শাহ  (চিহ্নিত)। —ফাইল চিত্র।

মাস খানেক আগে রায়দিঘির বিদায়ী বিধায়ক দেবশ্রী রায়ের সঙ্গে এক মঞ্চে অভিযুক্ত আবদুস সালেম শাহ (চিহ্নিত)। —ফাইল চিত্র।

তিনি স্থানীয় তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ। স্থানীয় একটি প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষকও বটে। কিন্তু শাসক দলের ওই নেতা আবদুস সালেম শাহের বিরুদ্ধেই ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। গ্রেফতারের ভয়ে এলাকায় দেখা যেত না তাঁকে।

কিন্তু ইদানীং দেখা যাচ্ছে মথুরাপুর ২ পঞ্চায়েত সমিতির কৃষি কর্মাধ্যক্ষ সালেমকে। রায়দিঘির তৃণমূল প্রার্থী দেবশ্রী রায়ের সঙ্গে একই মঞ্চেও উঠেছেন। কর্মী সম্মেলনে বক্তব্য করছেন। বাড়িতেও ফিরে এসেছেন। স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের কথায়, ‘‘প্রার্থীর হাত ধরে এলাকায় ফিরেছেন সালেম। প্রার্থী বহির গত। এলাকার সমস্যা বোঝেন না। স্থানীয় নেতাদের কথার কোনও গুরুত্বই দিচ্ছেন না। তৃণমূল সমর্থিত পরিবারের এক তরুণীকে চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে সালেমের বিরুদ্ধে। একাধিক বার প্রার্থীকে তা জানানো হয়েছে। কিন্তু তিনি কোনও কথাই কানে নিচ্ছেন না।’’

কী বলছেন ওই তরুণী?

Advertisement

প্রায় বছর দু’য়েক আগে সম্পর্কীয় এক কাকার পরিচিতি নিয়েই বাড়িতে আসতেন ওই শাসক দলের নেতা। সরকারি চাকরির টোপ দিয়ে তাঁকে মাসের পর মাস যৌন হেনস্থা করা হয়েছে বলে অভিযোগ। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ঢোলাহাট থানার হরিণডাঙা এলাকার শঙ্করপুরের বাসিন্দা ওই তরুণী এক আত্মীয়ের বাড়িতে বসে জানালেন শাসক দলের নেতার ‘অত্যাচারের’ কাহিনী। শাসক দলের চাপে অভিযোগ দায়ের করার পরেও পুলিশের নিষ্ক্রিয় ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ওই ছাত্রী।

তাঁর কথায়, ‘‘আমি মাধ্যমিকে প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হয়েছিলাম। তারপরে উচ্চ মাধ্যমিক পড়তে স্কুলে ভর্তিও হই। কিন্তু তারপরেই যা অঘটন ঘটে গেল। আর পড়াশোনা করা সম্ভব হল না।’’

তরুণী বলে চলেন, ‘‘মাঝে মধ্যেই বাড়িতে আসতেন ওই নেতা। চাকরি দেওয়ার টোপ দিয়ে বেশ কয়েক বার সহবাস করেছিলেন। তারপর লোকের কাছে সব বলে দেবেন বলে প্রায় জোর করে মাসের পর মাস ধর্ষণ চালিয়ে গিয়েছেন। পরে বাড়ির সকলে বিষয়টি ধরে ফেলেন। আমিও আর কিছু লুকোইনি।’’ গত বছর মে মাসে ঢোলাহাট থানায় সালেমের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করা হয়।

ওই ছাত্রীর এক কাকার কথায়, ‘‘থানায় অভিযোগের পরে পুলিশ কোনও পদক্ষেপ করেনি। উল্টে ওই নেতা আমাদের শাসানি দেওয়া শুরু করেন। ঘটনার পরে ওই নেতা একাধিকবার জেলা আদালতে আগাম জামিনের আবেদন করেছেন। জেলা আদালতে আবেদন খারিজ হয়ে গিয়েছে। পরে হাইকোর্টেও আগাম জামিনের আবেদন করেন। সেখানেও আর্জি খারিজ হয়ে গিয়েছে।’’

তারপরেও অবশ্য ধরা পড়েননি সালেম। স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের অভিযোগ, পুলিশ ও বড় নেতারা সালেমের পাশে রয়েছেন। সেই বলেই বলীয়ান সালেম বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এলাকায়।

সালেমের মাথায় যে বড় নেতানেত্রীদের হাত আছে, তা মাস দু’য়েক ধরে আরও নিশ্চিত ভাবে টের পাচ্ছেন শঙ্করপুর এলাকার স্থানীয় তৃণমূল নেতারা। রায়দিঘি কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী দেবশ্রী রায়ের সঙ্গে ঘোরাফেরা করতে দেখা যাচ্ছে সালেমকে।

কী বলছেন দেবশ্রী?

তাঁর কথায়, ‘‘সালেমের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ তো প্রমাণ হয়নি।’’ সালেম মাঝে মধ্যে যাতায়াত করছেন পঞ্চায়েত সমিতিতে। সঙ্গে বহু বার মোবাইলে যোগাযোগ করা হলেও ফোন বেজে গিয়েছে। তিনি এসএমএসেরও জবাব দেননি।

স্থানীয় এক তৃণমূল নেতার কথায়, ‘‘ঘটনার পর থেকে শঙ্করপুরে বাড়িতে থাকত না সালেম। কিন্তু ভোটের ঢাকে কাঠি পড়তেই সালেম বাড়িতে ফিরে এসেছে। ফের ওই ছাত্রীর পরিবারকে শাসানি দেওয়া শুরু করেছে।’’

ছাত্রীর পরিবারের এক সদস্যের কথায়, ‘‘সালেমের স্ত্রী-সন্তান রয়েছে। অথচ, আমাদের মেয়ের ভবি ষ্যৎটা শেষ করে দিল। দলের বড় নেতাদের সব কিছু জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। ওই সদস্যের কথায়, ‘‘আমরা ওই নেতার বিরুদ্ধে সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দায়ের করেছি। কাকদ্বীপ আদালতে বিচারকের কাছে গোপন জবানবন্দি দিয়েছে নির্যাতিতা। তা সত্ত্বেও পুলিশ কোনও পদক্ষেপ নেয়নি।’’

জেলা পুলিশের এক কর্তার কথায়, ‘‘আমরা ওই বিষয়টি খোঁজ নিচ্ছি। ওই কেন্দ্রের প্রার্থীকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’’

আরও পড়ুন

Advertisement