পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রামের রাইখাঁ গ্রামের বাসিন্দা ১১ বছরের নাবালিকা পরিচারিকা হত্যাকাণ্ডে পুলিশ গ্রেফতার করেছে গৃহকর্তী রুবিনা সুলতানা ওরফে সাহিদা বিবি (৪৫) ও তাঁর ছোট ছেলে টুয়েল শেখকে। বুধবার রাতে গ্রেফতার করার পর বৃহস্পতিবার ধৃত মা ও ছেলেকে কাটোয়া মহকুমা আদালতে হাজির করানো হয়। বিচারক তাঁদের ছ’দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। ধৃতদের বিরুদ্ধে খুন, প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা-সহ পকসো আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ধৃতদের নিয়ে মামলার পুনর্গঠন করা হতে পারে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
রাইখাঁ গ্রামের এক হতদরিদ্র পরিবারের মেয়ে ওই নাবালিকা। তার জন্মের পরেই বাবা ছেড়ে চলে যাওয়ায় মেয়েকে নিয়ে বাপেরবাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন মা। কন্যার ভরণপোষণের জন্য মহিলা পরিচারিকার কাজে লাগেন। তীব্র অভাব ও অসহায় অবস্থার কারণে মেয়েটি আর স্কুলের চৌকাঠে পা রাখতে পারেনি। মায়ের মতোই মাত্র ১০ বছর বয়স থেকেই পরিচারিকার কাজে লেগে যায়। রাইখাঁ থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে সুলতানপুর গ্রামে জনৈক জালাল শেখের বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করছিল ওই নাবালিকা। জালালের বাড়িতে থাকার সময় ফোনে মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ হত। কিন্তু সোমবার থেকে আর মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি মা। টুয়েল শেখদের বাড়ি থেকে শুধু একটাই কথা বলা হচ্ছিল, ‘‘তোমার মেয়েকে পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও চলে গিয়েছে।’’
মঙ্গলবার টুয়েল শেখ তাঁর ফেসবুকে পোস্ট করে ওই নাবালিকার ছবি। সেখানে মেয়েটির নাম পরিচয় উল্লেখ করে লেখে, ‘‘গতকাল থেকে এই মেয়েটিকে পাওয়া যাচ্ছে না। সুলতানপুর গ্রাম থেকে নিখোঁজ হয়েছে।’’
জানা গিয়েছে, জালালের পরিবার বারবার নিখোঁজের কথা বললেও শেষে তাঁদের প্রতি সন্দেহ হয় নাবালিকার প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজনদের। তাঁরা বেশ কয়েক জন মিলে সুলতানপুর গ্রামে জালালের বাড়িতে বুধবার বিকেলে যান। গ্রামবাসীরা নিজেরাই জোর করে তাদের বাড়িতে ঢুকে প্রতিটি ঘরে ঘরে তল্লাশি শুরু করেন। তখন চিলেকোঠা ঘরে কাপড় ঢাকা দেওয়া অবস্থায় নাবালিকার দেহ শোয়ানো অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়। এলপরেই পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশের প্রাথমিক জেরায় টুয়েল শেখ স্বীকার করেছেন, নাবালিকাকে ধর্ষণ করার পর শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে। এর পর তাঁর মা রুবিনা সুলতানা ওরফে সাহিদা বিবি বুদ্ধি দেন, গলায় ফাঁস দিয়ে দেহটি ঝুলিয়ে দিতে। যাতে সাব্যস্ত হয় নাবালিকা আত্মঘাতী হয়েছে।