E-Paper

হিন্দিভাষী ঘরে টানতে সক্রিয় সবাই

গেরুয়া শিবিরের দাবি, ২০১৯ লোকসভা ভোটে কাঁকসা পঞ্চায়েত এলাকা থেকে প্রায় পাঁচ হাজার ভোটে তৃণমৃলের থেকে এগিয়ে ছিলেন তাদের প্রার্থী।

বিপ্লব ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:৪৬
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

একদা বামদুর্গ বলে পরিচিত কাঁকসা ব্লকের প্রতিটি পঞ্চায়েতে নিরঙ্কুশ তৃণমূল। তারই মধ্যে কাঁকসা পঞ্চায়েতের পানাগড় বাজার এলাকায় ২০১৮-য় পঞ্চায়েত ভোট থেকে ভাল ফল করে আসছে বিজেপি। পরিসংখ্যানে, প্রতিটি বিধানসভা ও পঞ্চায়েত নির্বাচনে এই এলাকার হিন্দিভাষী ভোটারদের মধ্যে বিজেপির প্রভাব দেখা গিয়েছে। সামনেই বিধানসভা ভোট। তার আগে হিন্দিভাষী ভোটারদের মধ্যে প্রভাব বাড়াতে সক্রিয় হয়েছে তৃণমূল। বিজেপিও সংগঠন বাড়াতে সচেষ্ট। ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা চলছে বলে দাবি সিপিএমের।

গলসি বিধানসভা কেন্দ্রের কাঁকসা ব্লকে রয়েছে চারটি পঞ্চায়েত। গত লোকসভা ভোটে কাঁকসা পঞ্চায়েত এলাকা থেকে বিজেপি প্রায় সাড়ে চার হাজার ভোটে তৃণমূলের থেকে এগিয়ে ছিল। কাঁকসার ৩০টি বুথের মধ্যে মাত্র চারটিতে এগিয়ে ছিল তৃণমূল। বাকি বুথগুলিতে বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের দাবি, ২০১৯ লোকসভা ভোটে কাঁকসা পঞ্চায়েত এলাকা থেকে প্রায় পাঁচ হাজার ভোটে তৃণমৃলের থেকে এগিয়ে ছিলেন তাদের প্রার্থী। বিধানসভা ভোটেও তেমন হেরফের হয়নি। গত পঞ্চায়েত ভোটে কাঁকসা পঞ্চায়েতে দশটি আসন দখল করেছিল বিজেপি। তার মধ্যে আটটি আসনে হিন্দিভাষী ভোটার বেশি। পানাগড় বাজার লাগোয়া হিন্দিভাষী এলাকার বুথগুলিতে ভোটার সংখ্যা প্রায় ১৫ হাজার। এই বুথগুলিতে গত লোকসভা ভোটে প্রায় ছ’হাজারের বেশি ভোট পেয়েছিল বিজেপি। তৃণমূলের বাক্সে পড়েছিল কম-বেশি ৩০০০ ভোট। সিপিএম পেয়েছিল এক হাজার ভোট। বাকি দু’হাজার ভোট পেয়েছিলেন অন্য প্রার্থীরা। ভোট পড়েছিল কম-বেশি ১২ হাজার।

তৃণমূলের দাবি, শুধু পানাগড় নয়, রাজ্যের বেশির ভাগ হিন্দিভাষী এলাকায় বিজেপির পক্ষে ভোট তুলানায় বেশি পড়ে। তবে গত লোকসভা ভোটে আগের নির্বাচনগুলির তুলনায় হিন্দিভাষী এলাকায় বহু ভোটার তৃণমূলকে ভোট দিয়েছেন। পানাগড় বাজারে হিন্দিভাষী এলাকাগুলির ভোটারদের নিজেদের দিকে টানতে নানা পরিকল্পনা নিয়েছেন নেতৃত্ব। কাজে লাগানো হচ্ছে সরকারি প্রকল্পকে। এলাকায় পথবাতির ব্যবস্থা করা হয়েছে। নিকাশি সমস্যার সমাধানে কাজ হয়েছে। বাসিন্দাদের সমস্যা জানতে ছোট ছোট বৈঠক করা হচ্ছে।

তৃণমূলের কাঁকসা ব্লক সভাপতি নবকুমার সামন্ত বলেন, “হিন্দিভাষী ভোটারদের তৃণমূলের দিকে আনতে নানা পরিকল্পনা রয়েছে। রাজ্য সরকার উন্নয়নমূলক কাজ ওই এলাকায় হয়েছে। বাসিন্দাদের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলছি।” বিজেপির বর্ধমান সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি তথা ওই এলাকার বাসিন্দা রমন শর্মা বলেন, “আমরা সারা বছর পানাগড় বাজারে মানুষের স্বার্থে কাজ করে চলেছি। মানুষ প্রত্যেক বার নিজের ভোট নিজে দিতে পারেন। সেই কারণে এখানে বিজেপির ভোট বেশি।”

সিপিএমের জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য বীরেশ্বর মণ্ডলের স্বীকারোক্তি, “অবাঙালিদের মধ্যে বিজেপির প্রভাব বরাবর রয়েছে।” তিনি বলেন, “ওই এলাকায় আমাদের সংগঠন যাঁরা দেখতেন, তাঁদের অনেকেই প্রয়াত হয়েছেন। ওই এলাকায় নতুন করে সংগঠন গড়া হচ্ছে। চেষ্টা চলছে ঘুরে দাঁড়ানোর।”

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Kanksa TMC CPIM Congress BJP

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy