Advertisement
E-Paper

কৃষ্ণের পাতে হিট ‘তালপোয়া’

পানুহাট চৌরাস্তায় পঁচাত্তর বছরের মিষ্টির দোকান সুমঙ্গল তালুকদারের। বছরভর রসগোল্লা, কালাকাঁদে খদ্দের তুষ্ট করলেও জন্মাষ্টমীতে তাঁর দোকান ‘তাল স্পেশ্যাল’।

সুচন্দ্রা দে

শেষ আপডেট: ১৫ অগস্ট ২০১৭ ০৬:৩০
রসেবশে: রসে ডোবা তালপোয়া। নিজস্ব চিত্র।

রসেবশে: রসে ডোবা তালপোয়া। নিজস্ব চিত্র।

ভেজা শ্রাবণ আর ভাদ্রের গরমে তালের বড়া না খেলে বাঙালির বছর কাটে না। তার উপর জন্মাষ্টমীতে গোপালকে খুশি করতে তালের বড়া, ক্ষীর, ফুলুরি, লুচি— সুগন্ধে ম ম করে বাঙালির হেঁসেল।

তবে ইদানিং রোজকার ব্যস্ততার মাঝে সবসময় তাল মজিয়ে এত পদ বানাতে পারেন না গিন্নিরা। ছোট সংসারে মা-ঠাকুমাদের না থাকা আরও বেশি করে বাজে এই দিন। তবে কাটোয়াবাসীর সে আক্ষেপ নেই। রেডিমেড নাড়ু, মোয়ার মতো হাতের কাছেই আছে ‘তালপোয়া’। জন্মাষ্টমীর দিন পানুহাটে রসে চোবানো এই তালের বড়া বিকোচ্ছে দেদার।

পানুহাট চৌরাস্তায় পঁচাত্তর বছরের মিষ্টির দোকান সুমঙ্গল তালুকদারের। বছরভর রসগোল্লা, কালাকাঁদে খদ্দের তুষ্ট করলেও জন্মাষ্টমীতে তাঁর দোকান ‘তাল স্পেশ্যাল’। সে দিন রস তালপোয়া, রস পান্তুয়া, রসবড়া ঠাসা তাঁর ঝুলিতে। তবে সেরা রসে ভরা তালের ফুলুরি ‘তালপোয়া’। সারা দিন ধরে প্রতি কেজি ৮০ টাকায় দেদার বিকিয়েছে তালপোয়া। খুদেদের তালপোয়া চাখার চাহিদা বাড়ায় ২ টাকা পিসেও শালপাতার ঠোঙায় বিক্রি করেছেন তিনি। পাশের গোবিন্দ তালুকদারের দোকানেও ফি জন্মাষ্টমীতে তৈরি হয়। ভাদ্র সংক্রান্তিতে তাঁরা বানান এই মিষ্টি।

কারিগরেরা জানান, তাল মজিয়ে তাতে মেশানো হয় ময়দা। চিনি ছাড়া ওই মিশ্রন ঘন্টা চারেক রেখে দেওয়ার পরে ফুলুরির আকারে ভেজে নিয়ে চিনির রসে ডোবালেই তৈরি তালপোয়া। সুমঙ্গলবাবু বলেন, ‘‘আগে ৯০ কেজি বানাতাম। এখন ১৫০ কেজির জোগান রাখতে হয়।’’তৃ তাঁর দাবি, সোমবার বিকেলের মধ্যেই ১১০ কেজি তালপোয়া বিক্রি হয়ে গিয়েছে। রসে ভর্তি কড়াইয়ে ফুলুরি ছাড়তে ছাড়তে কারিগর সুভাষ দেবনাথ বলেন, ‘‘স্কুলের বয়স থেকে তালপোয়া বানাচ্ছি। খেলে স্বাদ জিভে লেগে থাকবে।’’

বাড়ির জন্য কেজি দেড়েক তালপোয়া কিনে অভিরাম হালদার বলেন, ‘‘বাড়িতে তাল কিনে বড়া বানাতে যেমন খরচ, তেমন সময়ও লাগে প্রচুর। পরিশ্রমও হয়। গিন্নির নির্দেশে তাই ফি বছর এখান থেকেই তালপোয়া কিনে নিয়ে যাই।’’ আর এক ক্রেতা সুচেতনা গুহ বলেন, ‘‘গোপালকে নিবেদন হোক বা প্রসাদ বিলি, তালপোয়াই ভরসা। মুখে পুরলে অমৃতের মতো মিলিয়ে যায়।’’

ক্রেতাদের কথা শুনে গোপালকে পেন্নাম ঠোকেন সুমঙ্গল। মুচকি হেসে বলেন, ‘‘বেঁচে থাকুক তালপোয়া, রসে বশ করে রাখুক কাটোয়াবাসীকে।’’

Janmashtami Bengali sweets traditional sweets কাটোয়া Katwa
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy