রাস্তা যতটা হওয়ার দরকার ছিল, তার থেকে কম তৈরি হওয়ায় দুর্নীতির অভিযোগ তুলল বিজেপি। কয়েক লক্ষ টাকা খরচে মলানদিঘি পঞ্চায়েতের আলিনগর আদিবাসী পাড়া থেকে ফরেস্টডাঙা পর্যন্ত রাস্তার কাজ শুরু হয়েছিল। কিন্তু, সেই ঢালাই রাস্তা ফরেস্টডাঙার আগেই শেষ হয়ে গিয়েছে। এই অবস্থায় রাস্তা তৈরিতে দুর্নীতির অভিযোগে সরব হয়েছেন স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। দুর্গাপুর পূর্বের বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, বিষয়টি তদন্ত করা হবে।
বিগত সরকারের আমলে এই পাকা রাস্তা তৈরিতে খরচ ধরা হয়েছিল ৩৪ লক্ষ টাকা। রাস্তার পাশেই লাগানো বোর্ডে দাবি করা হয়েছে, আলিনগর আদিবাসী পাড়া থেকে ফরেস্টডাঙা আদিবাসী পাড়া পর্যন্ত হয়েছে এই রাস্তা। বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, রাস্তা মাঝপথেই শেষ হয়ে গিয়েছে। কাঁকসার গড় জঙ্গলের ভিতরে আলিনগর আদিবাসী পাড়া থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে ফরেস্টডাঙা আদিবাসী পাড়া। স্থানীয়দের দীর্ঘ দিনের দাবি মেনে এই দুই গ্রামের মানুষের যোগাযোগের সুবিধার জন্য পাকা রাস্তার কাজ শুরু হয়। কিন্তু, সেই রাস্তা ফরেস্টডাঙায় পৌঁছনোর অনেক আগেই জঙ্গলে শেষ হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশ জানান, দুই গ্রামের মানুষের যাতায়াতের সুবিধায় রাস্তা তৈরিতে দীর্ঘ দিনের সমস্যা মেটার আশা তৈরি হয়েছিল। পরে দেখা গেল অর্ধেক রাস্তা করেই ঠিকাদার কাজ বন্ধ করেছেন। সেই সময় জিজ্ঞাসা করেও সদুত্তর পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ। পশ্চিমবঙ্গ আদিবাসী অধিকার মঞ্চের সদস্য গোপীনাথ মুর্মুর অভিযোগ, ‘‘বোর্ডে যে পরিমাণ রাস্তার খরচ লেখা রয়েছে, তা খরচ হয়নি। জঙ্গলের মধ্যে অল্প রাস্তা হয়েছে। পথচারীদের খুবই সমস্যা হচ্ছে। জঙ্গলমহলে উন্নয়ন থমকে গিয়েছে।’’
তৃণমূল পরিচালিত পশ্চিম বর্ধমান জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ সমীর বিশ্বাসের দাবি, অযথা অভিযোগ না করে তদন্ত করা হোক। তা হলেই সত্যি বেরিয়ে আসবে। দুর্গাপুর পূর্বের বিধায়ক চন্দ্রশেখর বলেন, ‘‘রাস্তাটি কেন মাঝ পথে বন্ধ হল, তার জবাব সেই সময়ের পদাধিকারী আধিকারিক, মন্ত্রীদের দিতে হবে। বিষয়টি জেলাশাসককে জানাব। দরকারে শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবিজানানো হবে।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)