২০১৭ সালের পুরভোট আর ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোট— দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য বেশ লক্ষ্য করা গিয়েছে, দাবি দুর্গাপুরবাসীর। তাঁরা ভুলতে চান ২০১৭ সাল। মনে রাখতে চান ২০২৬ সালকে। এখন থেকে এমন ‘শান্তিপূর্ণ’ ভোট হোক, আর্জি শহরবাসীর।
দুর্গাপুরে ২০১৭ সালের মে মাসে পুরভোট হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভোট হয় ১৩ অগস্ট। বিরোধীদের অভিযোগ, সকাল থেকে শহর কার্যত চলে যায় বহিরাগতদের দখলে। সন্ত্রাস করে ৪৩টি ওয়ার্ডের সব আসনই দখল করে তৃণমূল। যদিও তৃণমূল নেতৃত্ব সেই অভিযোগ মানেননি।
তৃণমূলের একটি সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন সময়ে দলের অন্দরে বিষয়টি নিয়ে দায় ঠেলাঠেলি হয়েছে। দায় চাপানো হয়েছে দলের তৎকালীন জেলা সভাপতি জিতেন্দ্র তিওয়ারির উপরে। জিতেন্দ্র বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরে ২০২৩ সালে দুর্গাপুরে প্রকাশ্য সভায় দাবি করেন, অযোগ্যদের জেতাতে তৃণমূলের ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের নির্দেশে সন্ত্রাস করতে হয়েছিল। সে জন্য তিনি দুর্গাপুরবাসীর কাছে ক্ষমাও চেয়ে নেন। তবে তৃণমূলের জেলা সহ-সভাপতি উত্তম মুখোপাধ্যায় দাবি করেন, “উনি তখন দলের ‘হেভিওয়েট’ নেতা ছিলেন। বিজেপিতে গিয়ে উনি দায় এড়ানোর নাটক করতে পারেন। তবে মানুষ তা বিশ্বাস করেন না।”
পুরবোর্ডের মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২২ সালের ৫ সেপ্টেম্বর। বর্তমানে পুরসভা চালাচ্ছে প্রশাসকমণ্ডলী। এত দিন ভোট না হওয়ায় ওয়ার্ডগুলিতে কোনও পুর প্রতিনিধি নেই। এর জেরে পরিষেবা বিঘ্নিত হচ্ছে বলে অভিযোগ নাগরিকদের একাংশের। বিধানসভা ভোট শেষ হলে রাজ্যে সরকার গঠনের পরে পুরভোট হবে বলে আশা করছেন তাঁরা। বিধানসভা নির্বাচনের পরে যে দলই সরকার গঠন করুক, দুর্গাপুরের পুরভোটে ফের যেন ২০১৭ সালের পুনরাবৃত্তি না হয় এমনটাই চাইছেন শহরবাসী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিএসপি টাউনশিপের বাসিন্দা এক শিক্ষক বলেন, “সেই দিনটি ভোলার নয়। শান্ত টাউনশিপে বহিরাগতদের দাপাদাপি। সব স্পষ্ট মনে পড়ে আজও।” তাঁর দাবি, “আমার সামনেই তৃণমূলের এক প্রবীণ কর্মীর আক্ষেপ করেছিলেন, তাঁরাও ভোট দিতে পারেননি। তাই বৃহস্পতিবার কার্যত শান্তিপূর্ণ ভাবে বিধানসভা ভোট হয়েছে জেলায়। সেই মতো পুরসভা নির্বাচন হোক।” তিনি বলেন, “কোন দল জিতবে সেটা মানুষের উপরে ছেড়ে দেওয়া দরকার। সবাইকে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের সুযোগ দিতে হবে।”
বিজেপির দুর্গাপুর পশ্চিমের বিজেপি প্রার্থী লক্ষ্মণ ঘোড়ুইয়ের দাবি, বিধানসভা ভোটের প্রচারে বেরিয়ে পানীয় জলের হাহাকারের অভিযোগ পেয়েছেন শহরের বহু জায়গায়। এ ছাড়া, নিকাশি, রাস্তাঘাট-সহ ন্যূনতম নাগরিক পরিষেবা নিয়েও বিস্তর অভিযোগ শুনতে হয়েছে তাঁকে। তিনি বলেন, “দ্রুত স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমে উপযুক্তদের হাতে পুরসভা পরিচালনার ভার তুলে দিতে হবে। তা না হলে যত দিন যাবে দুর্ভোগ বাড়বে শহরবাসীর।” তাঁর দাবি, রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরে স্বচ্ছ নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হবে। তৃণমূলের জেলা সহ-সভাপতি উত্তম বলেন, “বিজেপির কথার কোনও ভিত্তি নেই। গত কয়েক বছরে অনেকগুলি নির্বাচন হয়েছে। নির্বাচনের ফল নিয়ে বিজেপির মতো আমাদের মায়া কান্না কাঁদতে হয় না।” সিপিএমের জেলা কমিটির সদস্য সিদ্ধার্থ বসুর দাবি, তৃণমূল বা বিজেপি, কেউই চায় না সাধারণ মানুষ গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করুক। এক মাত্র বামেরা ক্ষমতায় এলে দুর্গাপুরে সুষ্ঠু পুরভোট হবে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)