E-Paper

অন্নপূর্ণা ভান্ডারেরফর্ম নিয়ে অশান্তি,বিধিভঙ্গের নালিশ

অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম পূরণকে কেন্দ্র করে সোমবার সকালে তেতে ওঠে দুর্গাপুরের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের তামলা এলাকা।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২১ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:৪১
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

তৃণমূলের ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ বনাম বিজেপির প্রস্তাবিত ‘অন্নপূর্ণা ভান্ডার’, এ বার বিধানসভা নির্বাচনে মহিলাদের ভোট নিজেদের দিকে টানতে এই দুই প্রকল্প নিয়ে কার্যত দড়ি টানাটানি শুরু হয়েছে দু’পক্ষের। বাধছে অশান্তিও।

অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম পূরণকে কেন্দ্র করে সোমবার সকালে তেতে ওঠে দুর্গাপুরের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের তামলা এলাকা। বিজেপির কর্মীরা পাড়ার মহিলাদের এক জায়গায় জড়ো করে তাঁদের দিয়ে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র ফর্ম পূরণ করাচ্ছিলেন বলে তৃণমূলের অভিযোগ। স্থানীয় তৃণমূল নেতা মানিক রুইদাসের কথায়, ‘‘মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে কয়েক দিনের মধ্যে অন্নপূর্ণা ভান্ডারের টাকা ঢুকে যাবে, এই প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিজেপিকে ভোট দিতে বলা হচ্ছিল। এটা নির্বাচনী বিধিভঙ্গ।” খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তিন বিজেপি কর্মীকে আটক করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। রবিবার সন্ধ্যায় বেনিচিতিতে তৃণমূলের হাতে আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগ তোলে বিজেপি। দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি হন আহত দুই বিজেপি কর্মী।

একই পরিস্থিতি চলছে পাণ্ডবেশ্বরেও। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং বিজেপি প্রার্থী জিতেন্দ্র তিওয়ারির ছবি দিয়ে ‘অন্নপূর্ণা ভান্ডারের’ রঙিন ফর্ম ছাপিয়ে তাতে নম্বর দিয়ে বাড়ি বাড়ি মহিলাদের দেওয়া হচ্ছে। এই কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর দাবি, বিভিন্ন জায়গায় বিজেপি কর্মীরা এমন ফর্ম বিলি করছেন। ১৭ এপ্রিল খোট্টাডিহি কোলিয়ারি সাহেববাংলো এলাকায় ফর্ম বিলি করা হয়। এর পরেই তিনি বিজেপি কর্মীদের নাম উল্লেখ করে কমিশনে ই-মেল পাঠিয়ে নির্বাচনী বিধিভঙ্গের অভিযোগ জানান। সোমবার সকালে দুর্গাপুরের ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের পাড়দই এলাকায় এক মহিলা অন্নপূর্ণা ভান্ডারের ফর্ম পূরণ করাতে গেলে, স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ বাধা দেন।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, পাণ্ডবেশ্বর বিধানসভার মোট ১২টি পঞ্চায়েতে ৬২,৭৬৯ জন লক্ষ্মীর ভান্ডারের অনুদান পান। এ ছাড়া, নতুন করে আবেদন করেছেন আরও ৩,৩০০ জন। তৃণমূলের জেলা সম্পাদক পঙ্কজ রায় সরকারের অভিযোগ, মহিলাদের ভোট পেতে পাণ্ডবেশ্বরে ‘অন্নপূর্ণা ভান্ডারের’ ফর্ম দিয়ে বিজেপিকে ভোট দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। প্রতিবাদ করায় সম্প্রতি এক মহিলা, তাঁর স্বামী ও তাঁর মেয়ে আক্রান্ত হন। পুলিশ সেই ঘটনায় এক বিজেপি কর্মীকে গ্রেফতার করে। পঙ্কজের কথায়, “মহিলারা লক্ষ্মীর ভান্ডার পান। যাঁরা নতুন আবেদন করেছেন, তাঁদেরও ভোটের পরে চালু হয়ে যাবে। এই পরিস্থিতিতে, কী করবে বুঝে উঠতে পারছে না বিজেপি। মহিলাদের উপরে জোর খাটাতে চাইছে।”

বিজেপির মুখপাত্র সুমন্ত মণ্ডলের পাল্টা দাবি, “তৃণমূল ভয় পেয়েছে। বুঝেছে, মহিলাদের আর আটকে রাখা যাবে না। মহিলারা জানেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে তাঁরা আর্থিক ভাবে লাভবান হবেন। হারের ভয়ে সব জায়গায় বাধা দিচ্ছে তৃণমূল।”

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Durgapur BJP

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy