জেলার দুই কেন্দ্র— দুর্গাপুর পূর্ব ও বারাবনিতে দলীয় প্রার্থীদের সমর্থনে লাগানো পোস্টার, ব্যানার খুলে ও ছিঁড়ে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। শুক্রবার সকালে বিষয়টি জানাজানি তৃণমূল কর্মী-সমর্থকেরা ক্ষোভ জানান। যদি বিজেপি অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুর্গাপুরের এবিএল এলাকার তৃণমূল প্রার্থী প্রদীপ মজুমদারের সমর্থনে লাগানো ব্যানার তুলে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এর প্রতিবাদে শুক্রবার প্রাক্তন পুর প্রতিনিধি দীপেন মাজির নেতৃত্বে দলীয় কর্মী-সমর্থকেরা স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের দাবি, বিজেপি ও সিপিএমের ব্যানার, ফ্লেক্স যথা জায়গায় রয়েছে। বেছে বেছে শুধু তৃণমূলের ব্যানার তুলে ফেলে দেওয়া হয়েছে। দীপেন বলেন, “বুধবার ব্যানার লাগানো হয়েছিল। বৃহস্পতিবার রাত ১১টা নাগাদ দলের কর্মীরা দেখেছেন, সব ঠিক রয়েছে। শুক্রবার সকালে দেখি, তুলে ফেলে দেওয়া হয়েছে।” বিক্ষোভকারীদের দাবি, এর পিছনে বিজেপির হাত রয়েছে। তৃণমূল প্রার্থী প্রদীপ সরাসরি বিজেপির নাম নেননি। তবে তিনি বলেন, “ব্যানার, ফেস্টুন ছিঁড়ে নির্বাচনী ফলাফলের পার্থক্য করা যায় না। এ সব উস্কানিমূলক কাজকর্ম। কর্মীদের বলেছি, এই ধরনের প্ররোচণার ফাঁদে পা না দিতে। মানুষ সব দেখছেন।” এই কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বিজেপি এ সবে বিশ্বাস করে না। এ সব তৃণমূলের সংস্কৃতি।”
তৃণমূলেরই ব্যানার ছেঁড়ার ঘটনাকে ঘিরে বৃহস্পতিবার উত্তেজনা ছড়ায় বারাবনি বিধানসভার সালানপুর ব্লকের জিৎপুর-উত্তরামপুর পঞ্চায়েতের কুসুমকানালি এলাকায়। কর্মী-সমর্থকদের অভিযোগ, পরিকল্পিত ভাবে বিদায়ী বিধায়ক তথা প্রার্থী বিধান উপাধ্যায়র ব্যানার ছেঁড়া হয়েছে। সরব হন পঞ্চায়েতের উপপ্রধান সুজিত মোদক-সহ দলের কর্মীরা। সুজিত বলেন, “রাতের অন্ধকারে বিজেপি এই কাজ করেছে। কিন্তু এ ভাবে ব্যানার ছিঁড়ে মানুষের মন ছিঁড়ে ফেলা যায় না। বিধান উপাধ্যায় বারাবনির মানুষের হৃদয়ে রয়েছেন।” তৃণমূল নেতৃত্ব ঘটনার তীব্র নিন্দা করে দ্রুত দোষীদের চিহ্নিত করার দাবি জানিয়েছেন।
সালানপুর ব্লক তৃণমূল সভাপতি মহম্মদ আরমানের দাবি, “বিজেপি এলাকায় উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে। নির্বাচনের আগে শান্ত পরিবেশ অশান্ত করার চেষ্টা চলছে। আমরা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চাই। এ বিষয়ে অভিযোগ জানানো হবে।” বিজেপি জেলা নেতা অভিজিৎ রায় বলেন, “এই মুহূর্তে যে হাওয়া বইছে, তাতে তৃণমূলকে এখন তৃণমূলই দেখতে পাচ্ছে না। জনগণ তৃণমূলের উপরে ক্ষিপ্ত। বারাবনির মানুষের রাগ ও ক্ষোভ থেকেই এই হাওয়া বইছে। এগুলো তৃণমূল লজ্জায় বলতে পারছে না যে, সাধারণ মানুষই তাদের ব্যানার ছিঁড়ে দিচ্ছেন। বিজেপির এমন রুচি নেই। কিছু দিন পরে তৃণমূল শুধু ব্যানারেই থাকবে।”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)