×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

২৯ জুলাই ২০২১ ই-পেপার

বহিরাগত দিয়ে ধর্ষণের হুমকি, অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক

সুব্রত সীট
দুর্গাপুর ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৪ ০২:৩০
অভিযুক্ত বিশুদ্ধানন্দ রায়।—নিজস্ব চিত্র।

অভিযুক্ত বিশুদ্ধানন্দ রায়।—নিজস্ব চিত্র।

সাংসদ, উপ-পুরপ্রধানের পরে এ বার প্রধান শিক্ষক। ছাত্রীকে ‘বাইরের ছেলে দিয়ে ধর্ষণ’ করানোর হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠল অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণ দফতরের আবাসিক স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। শিক্ষক দিবসের ঠিক আগের দিন, বৃহস্পতিবার এই অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছে দুর্গাপুরে।

প্রধান শিক্ষক বিশুদ্ধানন্দ রায় সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে স্থানীয় শিক্ষক-শিক্ষিকাদের একটা বড় অংশের বক্তব্য, “অভিযোগ সত্যি কি না, তা দেখবে প্রশাসন। কিন্তু স্কুলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়াই উচিত নয়, যেখানে কোনও পড়ুয়া এমন অভিযোগ তুলতে পারে।”

দুর্গাপুরের ফুলঝোড়ে মাধ্যমিক স্তরের এই আবাসিক স্কুলে পড়ুয়া প্রায় চারশো। গত ১ সেপ্টেম্বর প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহার, হস্টেলে অব্যবস্থা, স্কুলে নানা দুর্নীতির অভিযোগে কিছু ছাত্রছাত্রী মহকুমাশাসকের কাছে একটি অভিযোগপত্র জমা দেয়। তাতে তারা অভিযোগ করে, গত ১৪ জুলাই এই সমস্ত বিষয় স্কুল পরিচালন সমিতির সম্পাদক কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানালেও তিনি গুরুত্ব দেননি।

Advertisement

স্কুল সূত্রের দাবি, ২২ জুলাই এই আন্দোলনে সামনের সারিতে থাকা নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে প্রধান শিক্ষক ক্লাস থেকে টেনে বার করার চেষ্টা করেন এবং বহিরাগত ছেলে দিয়ে ধর্ষণ করানোর হুমকি দেন। পড়ুয়ারা মহকুমাশাসককে (দুর্গাপুর) দেওয়া চিঠিতে জানিয়েছে, তার পর থেকে ছাত্রীরা দুশ্চিন্তায় পড়ে গিয়েছে। অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

যে ছাত্রীকে প্রধান শিক্ষক এই হুমকি দেন বলে অভিযোগ, এ দিন সে বলে, “প্রধান শিক্ষক আমাকে বহিরাগতদের দিয়ে নোংরা কাজ করানোর হুমকি দেন। আমি আসল শব্দটা বলতে পারব না।”

বহিরাগত দিয়ে ধর্ষণ করানোর হুমকি দেওয়ার অভিযোগ সম্প্রতি উঠেছিল তৃণমূল সাংসদ তাপস পালের বিরুদ্ধে। আগামী সপ্তাহে কলকাতা হাইকোর্টে সেই মামলার শুনানি রয়েছে। একই অভিযোগে মেদিনীপুর পুরসভার উপপুরপ্রধান তথা তৃণমূল নেতা জিতেন্দ্রনাথ দাসের বিরুদ্ধে এফআইআর হলেও এ পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ। প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের কী হবে?

মহকুমাশাসক (দুর্গাপুর) কস্তুরী সেনগুপ্তই পদাধিকারবলে স্কুল পরিচালন সমিতির সভাপতি। তিনি বলেন, “তদন্ত চলছে।” আসানসোল-দুর্গাপুর কমিশনারেটের এডিসিপি (পূর্ব) সুনীল যাদব জানান, ওই ছাত্রী ও প্রধান শিক্ষককে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠানো হবে।

প্রধান শিক্ষক বিশুদ্ধানন্দবাবু অবশ্য দাবি করেছেন, “হস্টেল নিয়ে কিছু সমস্যা রয়েছে। তবে ওই ছাত্রীর অভিযোগ একেবারে ভিত্তিহীন।” তাঁর সংযোজন, “নিয়ম-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গিয়ে কিছু সহকর্মীর চক্ষুশূল হয়েছি। তাই পরিকল্পনা করে এমন সব অভিযোগ আনা হচ্ছে।” একই দাবি স্কুল পরিচালন সমিতির সম্পাদক তথা তৃণমূলের শিক্ষা সেলের নেতা কল্যাণবাবুর। তাঁর বক্তব্য, “ছোটখাট কিছু সমস্যা নিশ্চয় আছে। কিন্তু যে গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা মানা মুশকিল। প্রধান শিক্ষক এমন বলতে পারেন বলে বিশ্বাস হয় না।”

এ দিনই ওই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে তাঁকে মারধর করার অভিযোগ করেন স্কুলের শিক্ষিকা করুণাময়ী মণ্ডল। তাঁর দাবি, বিএড সংক্রান্ত দরখাস্ত জমা দিতে গেলে প্রধান শিক্ষক তা নিতে চাননি। উল্টে, তাঁকে মারধর করেন। প্রতিবাদ করায় আর এক শিক্ষকের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে মাটিতে আছড়ে ফেলেন এবং তাঁকেও কিল-চড় মারেন। করুণাময়ীদেবীর কথায়, “প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্কুল পরিচালনায় বহু অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তা আমরা পরিচালন সমিতি ও মহকুমাশাসককে জানিয়েছি। তাতেই খেপে উঠে উনি এমন আচরণ করেছেন। এমনকী প্রতিবাদ করছে বলে উনি ছাত্রীদেরও নোংরা হুমকি দিতে ছাড়ছেন না।”

প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে এ ধরনের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ শুনে স্তম্ভিত শহরের প্রবীণ শিক্ষকেরা। তৃণমূল শিক্ষা সেলের জেলা কোর কমিটির সদস্য তথা শিক্ষক বিমল রায় বলেন, “একটা স্কুলে এই পরিস্থিতি, এই অভিযোগ ভাবাই যায় না!”

Advertisement