Advertisement
E-Paper

স্কুলের রাস্তা পাকা করতে জমি

আকাশ কালো হয়ে এলেই মন খারাপ হয়ে যেত ছোট্ট আয়েশার। বৃষ্টি নামলেই যে আর স্কুলে যাওয়া হবে না! আয়েশার মতোই কাদায় আলপথ ধরে স্কুলে পৌঁছনো প্রায় অসম্ভব ছিল কাটোয়ার বড়মেইগাছি এফপি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রায় ৬৮ জন ছাত্রছাত্রীর। তবে স্থানীয় চার বাসিন্দার চেষ্টায় শেষ পর্যন্ত আয়েশাদের মুখে হাসি ফুটেছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২১ জুলাই ২০১৬ ০০:৩৬
নতুন রাস্তা ধরে স্কুল। নিজস্ব চিত্র।

নতুন রাস্তা ধরে স্কুল। নিজস্ব চিত্র।

আকাশ কালো হয়ে এলেই মন খারাপ হয়ে যেত ছোট্ট আয়েশার। বৃষ্টি নামলেই যে আর স্কুলে যাওয়া হবে না! আয়েশার মতোই কাদায় আলপথ ধরে স্কুলে পৌঁছনো প্রায় অসম্ভব ছিল কাটোয়ার বড়মেইগাছি এফপি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রায় ৬৮ জন ছাত্রছাত্রীর। তবে স্থানীয় চার বাসিন্দার চেষ্টায় শেষ পর্যন্ত আয়েশাদের মুখে হাসি ফুটেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এত দিন শিমুলগাছি থেকে হেঁটে দীর্ঘ আলপথ পেরিয়ে স্কুলে যেতে হত ওই ছাত্রছাত্রীদের। বর্ষাকাল এলেই সেই রাস্তাও চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ত। ফলে সারা বর্ষা একরকম স্কুলে না গিয়েই কাটাত পড়ুয়ারা। বিপাকে পড়তেন স্কুলের শিক্ষকেরাও। প্রায় ৬০ বছরের এই স্কুলে এটাই দস্তুর হয়ে দাঁড়িয়েছিল। শেষমেশ, বহু বছর ধরে চলতে থাকা এই অবস্থা পাল্টাতে বছর খানেক আগে উদ্যোগী হন স্থানীয় চার বাসিন্দা পরেশ মণ্ডল, আজিজুল শেখ, নাসের শেখ ও স্বপন ঘোষ। নিজেদের ছেলেমেয়েদের দিকে তাকিয়েই রাস্তা তৈরির জন্য জমি দান করার সিদ্ধান্ত নেন তাঁরা। সেই জমিতেই মাস চারেক আগে বড়মেইগাছি মোড় থেকে বাঁধপুকুরপাড় পর্যন্ত ৬০০ ফুট লম্বা ও ৬ ফুট চওড়া পাকা রাস্তা তৈরি হয়েছে। সেই রাস্তা ধরে এখন বর্ষাকালেও দিব্যি স্কুলে পৌঁছে যায় আবু সিদ্দিক শেখ, মমতা খাতুন, জলি মণ্ডলেরা।

পড়ুয়ারা জানায়, আগে বৃষ্টি হলে প্রায়ই স্কুল কামাই হতো। সমস্যা হতো পড়াশোনায়। কিন্তু রাস্তা পাকা হওয়ায় সে সমস্যা মিটেছে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক পুলককুমার যশ জানান, মূলত সংখ্যালঘু অধ্যুষিত গৌরডাঙা, শিমুলগাছি, ওকড়সা, পূর্বস্থলীর হাপানিয়া থেকে ছাত্রছাত্রীরা আসে এই স্কুলে। বর্ষার সময় মাঠে জল-কাদা জমে গিয়ে আলপথ ঢেকে যেত। ফলে পড়ুয়ারা তো বটেই স্কুলের তিন শিক্ষকও মুশকিলে পড়তেন। এখন রাস্তা তৈরি হওয়ায় সমস্যা মিটেছে। সারা বছরই ক্লাসঘর পড়ুয়াতে ভর্তি থাকছে। আর যাঁদের চেষ্টায় কচিকাঁচাদের মুখে হাসি ফুটল, সেই চার জন জানান, দীর্ঘদিনের সমস্যা মেটাতে কাউকে এগিয়ে আসতেই হতো। তাই তাঁরাই এগিয়ে এলেন।

যাতায়াতের অসুবিধা দূর হওয়ায় আকারে বেড়েছে স্কুল। স্কুলের পাশেই তৈরি হচ্ছে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র। স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন কাটোয়া ২ ব্লকের বিডিও শিবাশিস সরকার। বাসিন্দাদের উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন তিনি। শিবাশিসবাবু জানান, সর্বশিক্ষা মিশন প্রকল্পের আওতায় শ্রেণিকক্ষ তৈরির জন্য পাওয়া ৪ লক্ষ ৫৫হাজার টাকায় কাজ শুরু হয়েছে। আইএমডিপি প্রকল্পে ৭লক্ষ ৫৫ হাজার টাকা পাওয়া গিয়েছে বলেও জানান তিনি। সেই টাকাতেই তৈরি হচ্ছে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রটি।

Concreted road students
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy