পেট্রল ও ডিজ়েলের ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে এবং সাংবিধানিক মূল্যবোধ রক্ষার বার্তা দিয়ে শনিবার দুর্গাপুরের কংগ্রেস প্রার্থীরা তাঁদের মনোনয়ন জমা দিলেন। দুর্গাপুর পূর্ব, পাণ্ডবেশ্বর ও রানিগঞ্জ কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থীরা এলেন সাইকেলে চড়ে। দুর্গাপুর পশ্চিমের কংগ্রেস প্রার্থী এলেন হাতে সংবিধান নিয়ে। যা নিয়ে কটাক্ষ করেছে বিজেপি।
দুর্গাপুর পশ্চিমের প্রার্থী তরুণ রায় হাতে সংবিধান নিয়ে আসেন মনোনয়ন জমা দিতে। তরুণের দাবি, “দুর্গাপুর গড়ে তুলেছিলেন বিধানচন্দ্র রায়, আনন্দ গোপাল মুখোপাধ্যায়, লাবণ্য গোপাল ঘটকের মতোকংগ্রেস নেতারা। আজকের রাজনৈতিক দলের নেতাদের কোনও অবদান নেই।” তিনি বলেন, “কারখানা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। কর্মসংস্থান তলানিতে। সংবিধানকে নস্যাৎ করার চেষ্টা চলছে। এ সবের বিরুদ্ধেই আমাদের প্রতিবাদ।” চড়া রোদের মধ্যে দুর্গাপুর পূর্বের প্রার্থী দেবেশ চক্রবর্তী, পাণ্ডবেশ্বরের প্রার্থী উত্তমকুমার রায় এবং রানিগঞ্জের প্রার্থী ফৈয়াজ আহমেদ সাইকেল চালিয়ে পৌঁছন মহকুমাশাসকের দফতরে। ঢাক-ঢোল সহ বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা করে তাঁরা মনোনয়ন জমা দিতে আসেন। সঙ্গে ছিলেন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা সুদেব রায়-সহ অন্যেরা। দেবেশ বলেন, “নির্বাচনের আগে সাময়িক স্বস্তি দিতে মোদী সরকার কর কমিয়েছে। নির্বাচন শেষ হলেই পেট্রল, ডিজ়েল, গ্যাস এবং অন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আবার আকাশছোঁয়া হবে। তাই প্রতীকী প্রতিবাদ জানালাম।”
আসানসোল ও কুলটিতে মনোনয়ন জমা দেন তিন কংগ্রেস প্রার্থী। আসানসোল উত্তরের প্রার্থী প্রসেনজিৎ পুইতন্ডি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা সহকারে আসানসোলের বিএনআর মোড় থেকে মহকুমাশাসকের (আসানসোল) দফতরে মনোনয়নপত্র জমা দেন। প্রসেনজিৎ বলেন, “বিগত ১৫ বছর ধরে যারা ক্ষমতায় রয়েছে, তাদের ব্যর্থতার বিরুদ্ধে লড়াই হবে আমার নির্বাচন। হটন রোডে যানজট, গারুই নদী সংস্কার না হওয়া, চিকিৎসা ব্যবস্থা ও কর্মসংস্থান, মূলত এই সব বিষয় তুলে ধরে আমি লড়ব।” তিনি আরও বলেন, “আজও গ্যাস সিলিন্ডারের লাইনে মানুষকে দাঁড়াতে হয়। যারা এসআইআরের নামে বিভাজনের রাজনীতি করছে এবং বৈধ নাগরিকদের নাম কেটে দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধেও এই লড়াই।” আসানসোল দক্ষিণের প্রার্থী সৌভিক মুখোপাধ্যায় ও কুলটির রবি যাদব মনোনয়ন দেন।
বিজেপির জেলা মুখপাত্র সুমন্ত মণ্ডলের কটাক্ষ, “এমনিতে বড়-গাড়ি ছাড়া ঘোরেন না। এখন সাইকেল নিয়ে নাটক করছেন। বাড়িতে কি গ্যাস ছেড়ে কাঠ, কয়লা দিয়ে রান্না করছেন?” তিনি বলেন, “এ সব করে কিছু হবে না। মানুষ আপনারা যেখানে ছিলেন সেখানেই রেখে দেবে।”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)