বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠেছে শিল্পাঞ্চলে। তাই কারিগরি শিক্ষামূলক পাঠ্যক্রমের দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন— সমাবর্তন অনুষ্ঠানে এসে আসানসোলের কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে পরামর্শ দিলেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য তথা রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠী পড়ুয়াদের স্মরণ করিয়ে দিলেন দায়িত্ববোধের কথা। সোমবার এই অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে সাম্মানিক ডক্টরেট উপাধি তুলে দেওয়া হল প্রাক্তন ক্রিকেটার সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে।
এ দিন দুপুর ১২টা নাগাদ শুরু হয় সমাবর্তন। বার্ষিক সমাবর্তন অনুষ্ঠান শুরুর আগে বিশেষ সমাবর্তনের আয়োজন করেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আচার্য সাম্মানিক ডিলিট উপাধি তুলে দেন সৌরভ ও সঙ্গীতশিল্পী প্রতুল মুখোপাধ্যায়কে। ডক্টর অব সায়েন্স সম্মানে ভূষিত করা হয় কানপুর আইআইটি-র ডিরেক্টর ইন্দ্রনীল মান্নাকে। রাজ্যপাল তাঁর ভাষণে জানান, কম সময়ের মধ্যে এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রভূত উন্নতি করেছে। তা থেকেই প্রমাণ হয় সমাজে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উপযোগিতা রয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নতিতে পড়ুয়াদেরও ভূমিকা আছে। তাঁরা সেই ভূমিকা ও সামাজিক দায়িত্ব পালন করলেই এই বিশ্ববিদ্যালয় এবং তাঁরা নিজেরা সমাজে প্রতিষ্ঠা পাবে।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আগ্রহে কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য বিষয়ক গবেষণাকে উদ্বুদ্ধ করতে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি নজরুল চর্চাকেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে। গত ছ’বছরে রাজ্যে প্রচুর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরি হয়েছে। কিন্তু শুধু পরিকাঠামো গড়লেই হবে না। উৎকর্ষও বাড়াতে হবে। এখন সরকার সেই লক্ষ্যেই এগোচ্ছে জানিয়ে পার্থবাবুর আশ্বাস, এখানে যে সব শিক্ষকের পদ এখনও খালি তা অবিলম্বে পূরণ করে দেওয়া হবে। পড়ুয়াদের কাছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শান্তি বজায় রাখার আর্জিও জানান তিনি।
ক্রিকেট প্রশাসক সৌরভ গঙ্গেপাধ্যায়কে সম্মান জানানোর সময়ে এ দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে ‘বাংলার সিংহ’ নামে আহ্বান করা হয়। সৌরভ জানান, এ নিয়ে মোট ছ’টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিলিট উপাধি পেলেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও পডুয়াদের শুভেচ্ছা জানান দেশের প্রাক্তন ক্রিকেট অধিনায়ক।