E-Paper

ছাঁচ নেই, শিল্পীর হাতে রূপ পাচ্ছে ‘কিউট’ সরস্বতী

আসানসোলে বিশেষ করে মহিশীলা পালপাড়াকে অনেকে ‘আসানসোলের কুমোরটুলি’ বলে চেনেন। মোট ১০-১২টি ঘর মূর্তি তৈরির কাজ করে।

সৌমিত্র গঙ্গোপাধ্যায়, অর্পিতা মজুমদার

শেষ আপডেট: ২২ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:৫৪
আসানসোলের মহিশীলায় প্রতিমা সাজাচ্ছেন শিল্পী।

আসানসোলের মহিশীলায় প্রতিমা সাজাচ্ছেন শিল্পী। নিজস্ব চিত্র ।

সমাজ মাধ্যমের ধারা (‘ট্রেন্ড’) অনুসরণ করে প্রতিমা গড়ছেন মৃৎশিল্পীরা। এর আগে দুর্গা ও কালী প্রতিমাতে দেখা গিয়েছিল এই প্রবণতা। এ বার সরস্বতী প্রতিমাতেও চলে এল। চাহিদা বাড়ছে ‘কিউট’ সরস্বতীর। আসলে বাগদেবীকে বাড়ির খুদে সদস্য হিসাবেই চাইছে ছাত্রছাত্রীরা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে ছবি বানিয়ে তা মৃৎশিল্পীদের দেখানো হচ্ছে। সেই রকম প্রতিমা বানানোর বায়না দিয়েছে তারা। পাশাপাশি কাঁচামালের দাম বাড়ায় তার প্রভাব পড়েছে প্রতিমাতেও, জানালেন জেলার মৃৎশিল্পীরা।

‘কিউট’ সরস্বতী মানে শিশু মুখের সরস্বতী। দেখতে ছোট, অবয়বে শিশুর আদল। শিল্পীরা জানান, এই ধরনের প্রতিমা গড়তে কোনও ছাঁচের ব্যবস্থা নেই। শিল্পী হাতের কেরামতিতে গড়ে তুলছেন এই প্রতিমা। দুর্গাপুরে কিউট সরস্বতী অধিকাংশ আসছে কলকাতার কুমোরটুলি থেকে। তবে আসানসোল ও দুর্গাপুরের শিল্পীরাও পিছিয়ে নেই।

আসানসোলে বিশেষ করে মহিশীলা পালপাড়াকে অনেকে ‘আসানসোলের কুমোরটুলি’ বলে চেনেন। মোট ১০-১২টি ঘর মূর্তি তৈরির কাজ করে। এ বছর তৈরি হয়েছে ৭০০-৮০০টি প্রতিমা। শিল্পী শ্রীকৃষ্ণ পাল বলেন, “কিউট সরস্বতীর চাহিদা অনেক বেশি। তবে ভাল মানের প্রতিমা গড়লে দামও ভাল মিলছে।” আর এক শিল্পী রঞ্জিত পালের কথায়, “কিউট সরস্বতী আমি মাত্র ১০টির মতো বানিয়েছি। রং, পাট, কাপড়ের দাম আগের তুলনায় বেড়েছে। আগের মতো লাভ হচ্ছে না। তাই প্রতিমা তৈরির পরিমাণ কিছুটা কমেছে।” দুর্গাপুরে এসবিএসটিসি গ্যারাজ এলাকার শিল্পী ভুপেন দে এবং গ্যামনব্রিজ সংলগ্ন হ্যানিম্যান সরণির কাছে মৃৎশিল্পী দীপেনচন্দ্র পাল বনিয়েছেন যথাক্রমে ছ’টি ও আটটি প্রতিমা। দীপেন বলেন, “এ বার বাজারে নতুন ট্রেন্ড কিউট সরস্বতী।”

হ্যানিম্যান সরণির ধারে কারখানা শিল্পী দীপেনের। তিনি জানান, বাঁশ, কাঠ, খড়, পেরেক, সুতলি সবের দাম বেড়েছে। রায়ডাঙার শিল্পী বিকাশ পাল জানান, সব থেকে বেশি বেড়েছে সুতলির দাম, ১০০ টাকা কেজি থেকে ১৮০ টাকা। শিল্পীদের কথায়, “খড়ের দাম প্রতি কাহন হাজার টাকা থেকে হয়েছে ১,৮০০ টাকা। তবে বাঁশ, কাঠের দাম সে হারে বাড়েনি। শোলার বদলে এখন থার্মোকলের সাজ ব্যবহার হয়। শোলার তুলনায় দাম অল্প বেড়েছে। সব থেকে সমস্যা মাটি নিয়ে। মূলত কলকাতার দিক থেকে আসে গঙ্গার পাড়ের মাটি। আনার ভাড়া পড়ে যায় অনেক।” বিকাশ জানান, ছাঁচের প্রতিমার চাহিদা বেশি। দাম ৩০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে।

কাঁচামালের দাম বাড়লেও ‘কিউট’ সরস্বতী সবার মন জয় করবে বলে আশা শিল্পী থেকে পুজোর উদ্যোক্তাদের।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Asansol

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy