Advertisement
E-Paper

পুজোর বাজেট ছেঁটে পড়ুয়াকে সাহায্য

পুজোর বাজেট কাটছাঁট করে কেউ দুঃস্থ কিশোরের পড়াশোনার খরচ দিতে এগিয়ে এসেছেন। কেউ আবার থিমের মাধ্যমে বিপদে পড়লে কী করা উচিত সেই বার্তা দিচ্ছেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৯ অক্টোবর ২০১৬ ০২:০২

পুজোর বাজেট কাটছাঁট করে কেউ দুঃস্থ কিশোরের পড়াশোনার খরচ দিতে এগিয়ে এসেছেন। কেউ আবার থিমের মাধ্যমে বিপদে পড়লে কী করা উচিত সেই বার্তা দিচ্ছেন। এককথায়, বর্ধমান শহরের দিনে দিনে বেড়ে চলা বারোয়ারি কালীপুজোর উদ্যোক্তারা সমাজ সচেতনতা থেকে বিশিষ্টদের সংবর্ধনা সবেরই ব্যবস্থা করে ফেলেছেন এক মণ্ডপে।

শাঁখারিপুকুরের অগ্রদূত সঙ্ঘ যেমন পড়শি কিশোরকে পড়াশুনো চালিয়ে যাওয়ার জন্য আর্থিক সাহায্য করতে চলেছে। আবার পড়াশোনা চালিয়ে যেতে যাতে কোনও বাধা না আসে তার জন্যও ক্লাব থেকে যতটা সম্ভব সহযোগিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কর্তারা। ওই ক্লাবের গায়েই বাড়ি বিসি রোডের সিএমএস উচ্চ বিদ্যালয়ের একাদশ শ্রেণির ছাত্র দীপাঞ্জন ঘোষের। মাধ্যমিকের টেস্ট পরীক্ষার আগেই বাবা দিলীপবাবু ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। দিলীপবাবু একটি লগ্নি সংস্থার এজেন্ট ছিলেন। ফলে দিনরাত টাকা ফেরতের দাবিতে লেগে থাকা ভিড়ের সঙ্গে যুঝেই এগিয়েছে দীপাঞ্জন। স্বামীকে হারানোর পরে পারিবারিক সাহায্যে আর বাড়িতে বসে শাড়ি বিক্রি করে কোনও রকমে দিন গুজরান করেন অরূপাদেবী। তাঁর কথায়, ‘‘অনেক লড়াই করতে হয়েছে। ছেলেও ওই পরিবেশ এবং বাবার মৃত্যুর পরেও কষ্ট সহ্য করে পরীক্ষা দিয়েছে। মাধ্যমিকে ৯৩ শতাংশ নম্বর পেয়েছে।’’ সিএমএস স্কুলেই বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে পড়তে চায় দীপাঞ্জন। ভবিষ্যতে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্নও দেখে সে। এই অবস্থায় পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর শপথ নিয়েছে অগ্রদূত ক্লাব। ক্লাবের সম্পাদক ভানু সেন বলেন, ‘‘দীপাঞ্জন আমাদের গর্ব। ওর লড়াই আমাদের প্রেরণা। আমরা ঠিক করেছি, আর্থিক কারণে ওর পড়া যাতে বন্ধ না হয় তার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাব।’’ পুজো কমিটির সভাপতি প্রফুল্ল মণ্ডল, সদস্য আদিদেব অধিকারীরাও বলেন, ‘‘এ বছর আমরা মণ্ডপের বাজেট কমিয়ে নগদ টাকা দীপাঞ্জনের হাতে তুলে দিচ্ছি।’’ অগ্রদূত সঙ্ঘ এ বার দৃশ্যাঙ্কনের মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদীদের সঙ্গে লড়াইয়ের দৃশ্য তুলে ধরেছে।

কালীবাজারের মিলনী সঙ্ঘ ১৯ বছরে পা দিল এ বার। তাঁদের থিম ‘ত্রিনয়নী’। বর্ধমান পুরসভার কাছে আরইউসি ক্লাবের থিম, ‘জঙ্গলে মা’। সর্বমঙ্গলা মন্দিরের কাছে ভাতছালার বাঁকার পাড়ে ভাইভাই সঙ্ঘ আবার থিম করেছে ‘জ্যান্ত কালী’। উদ্যোক্তাদের দাবি, শান্তিপুর থেকে দু’জন মডেল-শিল্পী আসছেন। তাঁদের একজন ভবতারিণী সাজবেন ও আরেকজন গদাই সাজবেন। বাঁকার পাড়ে কুঁড়ে ঘরে গদাইয়ের হাতে দেবীর মিষ্টি খাওয়ার গল্প তুলে ধরা হবে। পিছনে আলো ও শব্দের মিশ্রণে মায়াজাল তৈরি করা হবে। ১৫ মিনিট ধরে দর্শকদের সামনে এই দৃশ্য তুলে ধরবেন শিল্পীরা। ছোটনীলপুরের আমবাগান অগ্রণী সঙ্ঘের মণ্ডপে আবার দক্ষিণেশ্বর কালীমন্দিরের আদল। উদ্যোক্তারা জানান, মূর্তিটাও দক্ষিশ্বরের কালীমূর্তি অনুকরণ করে বানানো হয়েছে।

শহরের অন্যতম বড় পুজো ছোটনীলপুরের জাগরণী সঙ্ঘের। ৪৬ বছরের এই পুজোয় জগন্নাথের রথের আদলে ৬৫ ফুটের মণ্ডপ তৈরি হয়েছে। সেখানে তারাপীঠ ও দক্ষিণেশ্বরের মূর্তির অনুকরণে কালী প্রতিমা, শ্যামা, শিবদুর্গা ও গণেশজননী মূর্তি রয়েছে। মণ্ডপের সামনে বসেছে মেলাও।

শহর ছাড়িয়ে গ্রামেও কালীপুজোর ধুম রয়েছে। অভিনেতা নবদ্বীপ হালদার, নিমু ভৌমিকের জন্মভিটে সোনাপলাশী গ্রাম এখন লোকমুখে ‘কালী গ্রাম’ বলে পরিচিত হয়ে উঠছে। এখানকার সেভেন স্টার ক্লাব এ বছরের থিম করেছে ‘ভূমিকম্প’। সেখানে কী ভাবে ভূমিকম্প হয়, তার থেকে রক্ষা পেতে কী করা উচিত তা নিয়ে সচেতন করা হবে দর্শকদের।

এ ছাড়াও শহরের চিরাচরিত ঐতিহ্যবাহী বীরহাটার ‘বড় মা’, কাঞ্চননগরের কঙ্কালেশ্বরী, বোরহাটের কমলাকান্তের কালীমন্দির তো চোখ টানতে রয়েইছে।

Puja budget students
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy