বিজেপির সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ না করলে দল থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার মন্তেশ্বরের কুসুমগ্রামে তাঁর সভায় দেখা মেলেনি মন্তেশ্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি আহমেদ হোসেন শেখের। নাম না করে মমতা বলেন, ‘‘এখানে কেউ আমার কাছে টিকিট চেয়েছিল, সেটা সত্যি। আমি সেটাকে অসম্মান করি না। কিন্তু তা বলে বিজেপিকে সমর্থন করবে? টাকা আছে, গুন্ডামি-মস্তানি? আমি পরিষ্কার বলে যাই, যদি দলে থাকতে হয়, তৃণমূলের হয়ে নামো, আর বিজেপিকে টাকা দেওয়া বন্ধ করো। আর যদি দলে না থাকতে চাও, কোনও অসুবিধে নেই। আমার সভাতেও তুমি আসনি, তোমাকে আমি তাড়িয়ে দেব, তুমি যে কোনও দল করতে পারো, আমার আপত্তি নেই। কিন্তু বিজেপির সঙ্গে যাদের সম্পর্ক তাদের আমি দলেরাখব না।’’
সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর খণ্ডঘোষের সভায় দেখা যায়নি ব্লক সভাপতি অপার্থিব ইসলামকেও। নবীনচন্দ্র বাগকে প্রার্থী করার পর থেকেই দলের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মুখ খোলেন তিনি। দলের পরামর্শদাতা সংস্থার কাছেও ক্ষোভ উগড়ে দেন। তৃণমূলের দাবি, দলের সিদ্ধান্তে হওয়া প্রার্থীদের যাঁরা মানছেন না, তাঁদের এ ভাবেই বার্তা দিচ্ছেন মমতা।
বিদায়ী বিধায়ক তথা প্রার্থী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর সঙ্গে আহমেদের দ্বন্দ্ব বছরখানেক ধরে বার বার সামনে এসেছে। সিদ্দিকুল্লা প্রার্থী হওয়ার পর থেকে প্রচারে দেখাই যায়নি আহমেদ বা তাঁর ঘনিষ্ঠ ব্লক সভাপতি কুমারজিত পানকে। আহমেদ গোষ্ঠীর দাবি ছিল, মুখ্যমন্ত্রী আসার কথা প্রার্থী বা নির্বাচন কমিটির লোকজন তাঁদের জানায়নি। তাই তাঁরা যাননি। কিন্তু মমতা বেশ কড়া বার্তা দেন। তাঁর দাবি, ‘‘একটা নির্বাচনে দশ জন টিকিট চাইতে পারে। কিন্তু দল ঠিক করে কাকে টিকিট দেবে। চাওয়াটা অপরাধ নয়। শেষ পর্যন্ত যে টিকিট পায়, সে-ই কিন্তু দলের প্রার্থী। আমাকে যদি আপনারা ভালবাসেন, যদি আমাদের সরকার চান, যদি অধিকার রক্ষা করতে চান, ওয়াকফ বাঁচাতে চান, অস্তিত্ব বাঁচাতে চান, ভাষা বাঁচাতে চান, এনআরসি-ডিটেনশন ক্যাম্প না চান, জোড়াফুল মানে আমি, জোড়াফুলে ভোটটা দিন।’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘লজ্জা করে না। তোমার সম্প্রদায়ের যখন ভোট কেটেছিল, কোথায় ছিলে? লক্ষ লক্ষ লোকের যখন ভোট কেটেছিল, কোথায় ছিলে? আমাদের ছেলেমেয়েরা লড়াই করেছে।’’
গত কয়েক বছর ধরে মন্তেশ্বরের রাজনীতিতে আহমেদ হোসেনেরই দাপট ছিল। ব্লক সভাপতি, অঞ্চল সভাপতি, বুথ সভাপতি, পঞ্চায়েত প্রধান, উপপ্রধান থেকে মন্তেশ্বর পঞ্চায়েত সমিতি তাঁরই অধীনে ছিল। কিন্তু ভোট যত কাছে এসেছে, তত পাল্টেছে সমীকরণ। মন্তেশ্বর বাদ দিয়ে অন্য এলাকায় প্রচার করতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। এ দিন আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। ব্লক তৃণমূল সভাপতি কুমারজিত পান বলেন, ‘‘দ্বিতীয়বারের জন্য প্রার্থী ঘোষিত হওয়ার পরে উনি (সিদ্দিকুল্লা) ব্লকের কোনও নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। উল্টে আমাদের ‘কাটোয়ায় গিয়ে ভোট করুক গে’ বলেছেন। দলের পরামর্শদাতা কমিটির লোকজনকেও জানিয়েছিলেন আমাদের দরকার নেই। ব্লক নির্বাচনী কমিটিতেও আমাদের রাখেননি। গত কয়েক দিনে দলের প্রত্যেকটি মিটিংয়ে আমাদের সম্পর্কে কুরুচিকর মন্তব্য ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে।’’ যদিও সিদ্দিকুল্লার দাবি, ‘‘মন্তেশ্বর জুড়ে স্বৈরশাসন চলেছে।সাধারণ মানুষজন থেকে সরকারি কর্মচারীদের উপরে আঘাত করা হয়েছে। প্রার্থী ঘোষণার পরেও দলের হয়ে প্রচার না করে বিজেপি ও কংগ্রেসের সঙ্গে হাত মেলানো উচ্চ নেতৃত্বের নজর এড়ায়নি। সেটাই স্পষ্ট করে দিয়ে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী।’’ ব্লক সভাপতি বিজেপি যোগের কথা মানতে চাননি। তাঁর দাবি, ‘‘দল যা নির্দেশ দেবে, মাথা পেতে নেব।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)