হনহনিয়ে হাঁটছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাস্তার দু’পাশে ভিড়। কেউ এক বার হাত ছুঁতে চাইছেন, কেউ গোলাপ ফুল দেবেন বলে ঠায় দাঁড়িয়ে রয়েছেন। শুধু দলের কর্মী-সমর্থকেরা নন, মুখ্যমন্ত্রীকে দেখার জন্য শহরের মানুষ রাস্তায়, বাড়ির ছাদে ভিড় জমিয়েছিলেন রবিবাসরীয় বিকেলে। মোবাইলে ছবি তুলতেও দেখা গিয়েছে বহু মানুষকে। মুখ্যমন্ত্রীর পদযাত্রায় যে ছবি সাধারণত দেখা যয়া, এ দিন ঠিক সেই ছবিই ধরা পড়ল ক্যামেরায়।
পদযাত্রার মাঝেই বর্ধমান দক্ষিণের তৃণমূল প্রার্থী খোকন দাসকে মুখ্যমন্ত্রী ‘সবাইকে নিয়ে চলার’ পরামর্শ দেন। কোনও অসুবিধা হলে যোগাযোগ করতে বলেন খোকনকে। মন্তেশ্বরের সভা সেরে বিকেল ৪টে ২০ মিনিট নাগাদ শহরের স্পন্দনের মাঠে মুখ্যমন্ত্রীর হেলিকপ্টার নামে। তার পাঁচ মিনিটের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী জিটি রোড ধরে পদযাত্রা শুরু করেন। তাঁর পাশে ছিলেন দলের বর্ধমান দক্ষিণের প্রার্থী খোকন দাস, পুরপ্রধান পরেশ সরকার, শহর সভাপতি তন্ময় সিংহরায়, জেলা ছাত্র পরিষদ সভাপতি স্বরাজ ঘোষ, বিডিএ-র চেয়ারম্যান উজ্জ্বল প্রামাণিক। পুরসভা মোড় থেকে পার্কাস রোড, বাদামতলা, কার্জন গেট, বীরহাটা মোড়— পদযাত্রা যত দীর্ঘ হয়েছে, ভিড়ও তত বেড়েছে।
ব্যারিকেড টপকে মুখ্যমন্ত্রীকে গোলাপ ফুল দিতে যান অনেকে। পার্কাস রোডের মুখে মহিলারা শাঁখ, উলুধ্বনীতে বরণ করেন। কোথাও মহিলা ঢাকি, আদিবাসী নৃত্যও ছিল। প্রায় পৌনে দু’কিলোমিটার রাস্তায় মুখ্যমন্ত্রীর পদযাত্রা স্থায়ী হয়েছে আধ ঘণ্টা। তার পরে ছোটনীলপুর মোড়ে গাড়িতে উঠে পুলিশ লাইনে চলে যান তিনি। সেখান থেকে বিকেল ৫টা নাগাদ তাঁর হেলিকপ্টার কলকাতা অভিমুখে উড়ে যায়।
এ দিন রাস্তায় বার বার মুখ্যমন্ত্রীকে ছুঁয়ে দেখার আর্জি জানান অনেকে। দু’তিন জনের অনুরোধ রাখলেও বাকিদেরে তিনি হাতের ঘড়ি দেখিয়ে বার্তা পাঠান, সময় পার হয়ে যাচ্ছে। কার্জন গেটের সামনে মূর্তি দেখে মুখ্যমন্ত্রী জানতে চান, ‘এটা কাদের মূর্তি’? খোকন জানান, সেটি বর্ধমানের রাজা-রানির। পারবীরহাটা মোড়ে য় মহিলাদের সঙ্গে হাত মেলানোর সময়ে হাত ধরে মুখ্যমন্ত্রীকে নিজেদের কাছে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করেন কয়েক জন মহিলা। নিরাপত্তাকর্মীরা দ্রুত এসে পরিস্থিতি সামাল দেন। কিছু ক্ষণের জন্যে হাতজোড় করে দাঁড়িয়ে থকাতে দেখা যায় মমতাকে। তার পরে ফের প্রচার শুরু করেন।
পদযাত্রা শেষে খোকন দাবি করেন, “মিছিল দেখে মুখ্যমন্ত্রী সন্তুষ্ট। তাঁকে দেখার জন্য প্রচুর মানুষ জমায়েত হয়েছিলেন। শুধু আমার বিধানসভা কেন্দ্র থেকেই মানুষ এসেছিলেন।” স্বরাজ বলেন, “জয় শুধু সময়ের অপেক্ষা, সেটাও মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দিয়ে গিয়েছেন।” যদিও বিজেপির দাবি, বর্ধমান শহরে মুখ্যমন্ত্রীকে দেখার তেমন ভিড় ছিল না। রাস্তার দু’ধার ফাঁকা ছিল। বিজেপি নেতা কল্যাণ মাজির প্রশ্ন, “ভিড় কোথায়।”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)