একে ভিন্ রাজ্যে থাকা ছেলেদের খোঁজ মিলছে না, তার উপর গুজরাতের আমদাবাদের আইনজীবী পরিচয় দিয়ে ওই যুবকদের জামিন পাইয়ে দেওয়ার নামে বেশ কয়েক হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
কালনার তিন পরিবারের দাবি, তাঁদের ছেলেদের জঙ্গি সন্দেহে এটিএস (অ্যান্টি টেররিজ়ম স্কোয়াড) গ্রেফতার করেছে বলে শুনেছেন তাঁরা। কিন্তু এটিএস বা স্থানীয় পুলিশ কেউ বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করেনি। প্রায় পাঁচ দিন ধরে খোঁজও মেলেনি কালনার আঙ্গারসন গ্রামের সৈফ নেওয়াজ, ঘোলা গ্রামের সুকুর আলি শেখ ও সফি নেওয়াজ ওরফে হানিফ মল্লিকের। উদ্বেগেই দিন কাটছে পরিজনেদের। জেলা পুলিশের দাবি, এই ধরনের ঘটনাগুলি সাধারণত এটিএস নিজেরাই তদন্ত করে। ফলে জেলায় তথ্য তেমন আসেনা। যদি কেউ পুলিশের সাহায্য চায়, তাহলে বিষয়টি দেখা হবে বলে জানিয়েছেন তাঁরা।
শুক্রবার ঘোলা গ্রামে সুকুর আলিদের অ্যাসবেসটসের চাল দেওয়া বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, মনমরা হয়ে বসে রয়েছেন তাঁর মা ডালিয়া শেখ এবং বোন সেলিমা খাতুন। মায়ের দাবি, ‘‘ছেলে ধর্মভিরু। দেশ বিরোধী কোন কাজ ও করতে পারে বলে আমি মনে করি না। পাঁচ দিন হল ছেলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারিনি।’’ তিনি জানান, এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার এক জন আমদাবাদের সরকারি আইনজীবী পরিচয় দিয়ে ফোনে ছেলের জামিন করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন। ১৬ হাজার টাকাও নেন। কিন্তু তারপর থেকেই ওই ব্যক্তির ফোন বন্ধ। ডালিয়া শেখের দাবি, ‘‘একে ছোট ছেলের এমন বিপদ, তার উপরে গরিব পরিবারের এতগুলো টাকা চলে যাওয়া মেনে নিতে পারছি না।’’ সুকুরের দাদা বাপন শেখ জানান, সংসারের হাল ধরতে বারো বছর ধরে তিনিও ভিন্ রাজ্যে কাজ করেন। বর্তমানে রায়পুরের একটি কারখানায় কাজ করেন তিনি। বাপন বলেন, ‘‘সরকারি আইনজীবী পরিচয় দিয়ে যিনি ফোন করেছিলেন, তিনি বাংলাতেই কথা বলছিলেন। ১৮ হাজার টাকা দাবি করেন প্রথমে। পরে ১৬ হাজারে রাজি হন। অনলাইনে টাকা পাঠাই। বিকেলে তিনি জানান, জামিন হয়নি। রাতে এক পুলিশ কর্তার সঙ্গে কথা বলিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন। কিন্তু তারপর থেকেই ফোন বন্ধ।’’
ওই গ্রামের আর এক যুবক সফি নেওয়াজ ওরফে হানিফ মল্লিকের মা হাসিনা বেগম মল্লিকের দাবি, ছেলে রাজকোটে যে শেঠের কাজে কাজে গিয়েছিল, তিনি শুক্রবার জানিয়েছেন দ্রুত জামিন করানোর চেষ্টা হচ্ছে। জামিনের ব্যাপারে ১৮ হাজার টাকা চেয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে তাঁর কাছেও এক জন ফোন করেন বলে জানিয়েছেন তিনি। হাসিনা বেগম বলেন, ‘‘ওই ব্যক্তিকে বলেছিলাম, অত টাকা নেই আমাদের।’’ ফোনের ওই ব্যক্তি গ্রামের যুব তৃণমূল নেতা বুলা শেখের সঙ্গে কথা বলেন। বুলার দাবি, ‘‘আইনজীবী পরিচয় দিয়ে সুকুর এবং হানিফের পরিবারের সম্বন্ধে বেশ কিছু তথ্য জানতে চান ওই ব্যক্তি। উনি দুই পরিবারকে সাহায্য করতে চান, সে কথা ওঁদের বলি। তবে কোনও ভাবেই তাঁকে আগাম অর্থ দিতে বলিনি। এখন বুঝতে পারছি ওই ব্যক্তির উদ্দেশ্য ভাল ছিল না।’’
কালনা ২ ব্লকের আঙ্গারসনের পরিবারটির কাছে অবশ্য কোনও ফোন যায়নি। সৈফ নেওয়াজের বাবা আবু সাহিদ টেলিফোনে জানান, গ্রেফতারের পর থেকে ছেলের কোনও খবর পাননি। কী ভাবে ছেলের কাছ পর্যন্ত পৌঁছনো যায়, তার পথ খুঁজছেন তাঁরা।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)