পিকআপ ভ্যানে থাক দিয়ে রাখা রয়েছে বস্তা। কয়েকটা দড়ি খুলতেই বেরিয়ে এল হাজার খানেক ‘সফট সেল টার্টেল’ বা কাউটা কচ্ছপ।
শনিবার গভীর রাতে পালশিটের কাছে দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ের উপর নজরদারি চালানোর সময় কচ্ছপগুলি উদ্ধার করে পুলিশ। রবিবার সেগুলি জেলা বন দফতরের হাতে তুলে দেওয়া হয়। মেমারির ওসি দীপঙ্কর সরকার জানান, ৬৫টি বস্তায় ১৬২৫টি কচ্ছপ ছিল। তার মধ্যে ১১০৫টি কচ্ছপ বেঁচে ছিল। কচ্ছপগুলি বর্ধমানের রমনাবাগানে রাখা হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে চার জনকে।
গত শুক্রবারও পালশিটে নজরদারি চালানোর সময় পুলিশ একটি পিকআপ ভ্যান আটক করে। রান্নার গ্যাস-বহনকারী ওই গাড়ির শাটার খুলতেই ৩৭টি বস্তায় ১৮৫০টি কচ্ছপ মিলেছিল। বিপন্ন প্রজাতির কচ্ছপ পাচারের দায়ে পুলিশ একই পরিবারের ৫ জনকে গ্রেফতার করে। ওই কচ্ছপগুলিও উত্তরপ্রদেশের সুলতানপুর থেকে কলকাতায় পাচার হচ্ছিল। দক্ষিণ পূর্ব মুখ্য বনপাল কল্যাণ দাস জানান, ওই পাঁচ জনকে জেরা করে কিছু মোবাইল নম্বর মিলেছিল। সেগুলির টাওয়ার লোকেশন দেখে আরও একটি পাচার হবে আন্দাজ করা গিয়েছিল। জেলা বনাধিকারিক বিজাকুমার সালিমাথ বলেন, “বড় রকমের পাচার চক্র কাজ করছে বোঝাই যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে বন্যপ্রাণী অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সংস্থার সঙ্গে কথা হয়েছে। সিআইডিকেও জানানো হয়েছে।” এ দিন ধৃত দিলীপ সিংহ, রাজু কানজার, পাপ্পু কানজার ও নানহেরা কানাজারের কাছে থাকা মোবাইল ও বস্তাবন্দি কচ্ছপবোঝাই গাড়িটিকেও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। চার জনেই উত্তর প্রদেশের সুলতানপুর জেলার পিপারপুরের বাসিন্দা।
মেমারি থানা সূত্রে জানানো হয়েছে, উত্তর প্রদেশের পিপারপুর থানার পর্কী গ্রামের পাশ দিয়ে ছোট নদী গিয়েছে। সেই নদীতেই কচ্ছপ চাষ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এক-একটি কচ্ছপ ২০ থেকে ২৫ টাকায় কিনে নেয় গ্রামেরই কানজার পরিবার। তারাই কলকাতার বাজারে সেগুলি ৮০ থেকে দু’শো টাকা প্রতিটিতে বিক্রি করে। পুলিশের দাবি, ধৃতেরা জেরায় জানিয়েছে, কোথায় গাড়ি দাঁড় করাতে হবে, ফোনে তার নির্দেশ আসে। মধ্যমগ্রাম ও বনগাঁ এলাকায় কচ্ছপবোঝাই গাড়িটি যাচ্ছিল বলেও প্রাথমিক ভাবে পুলিশ জেনেছে।