ভোট এগিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে রাজনৈতিক তরজা। তা ছড়িয়ে পড়ছে সমাজ মাধ্যমেও। পাণ্ডবেশ্বরের তৃণমূল বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী ও গত ভোটে পরাজিত বিজেপি প্রার্থী তথা প্রাক্তন বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারির অনুগামীদের মধ্যেও ‘ডিজিটাল’ লড়াই তীব্র হচ্ছে। দু’পক্ষেরই অপর পক্ষের নেতাকে কটাক্ষ, আক্রমণে জমছে তরজা।
জিতেন্দ্র সম্প্রতি দুর্গাপুর-ফরিদপুর ব্লকের গোগলা পঞ্চায়েতের চন্দ্রডাঙা গ্রামে জনসংযোগে যান। কিন্তু সেখানে অধিকাংশ বাড়ির দরজা বন্ধ ছিল। কার্যত তাঁর কর্মসূচির উদ্দেশ্য ভেস্তে যায় সে দিন। জানা গিয়েছে, ওই গ্রামে পাণ্ডবেশ্বর বিধানসভার ১৪৭ নম্বর বুথটি রয়েছে। পর পর দু’টি বিধানসভা নির্বাচনে এখানে এগিয়ে থেকেছেন জিতেন্দ্র। ২০১৬ সালে তৃণমূলের হয়ে দাঁড়িয়ে জিতেন্দ্র পেয়েছিলেন ২৭৬ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সিপিএম পেয়েছিল ২৩৭ ভোট। ২০২১ সালের নির্বাচনে বিজেপির হয়ে দাঁড়িয়ে জিতেন্দ্র এই গ্রামে ৩২৪ ভোট পান। বর্তমান বিধায়ক তথা তৃণমূলের জেলা সভাপতি নরেন্দ্রনাথ পান ২১৯ ভোট। যদিও, ২০২৪ সালের নির্বাচনে বিজেপি এখানে মাত্র ৩১টি ভোট পায়। তৃণমূল পায় ৫৫১টি ভোট।
জনসংযোগে গিয়ে অধিকাংশ বাড়ির দরজা বন্ধ দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েন জিতেন্দ্র। তিনি দাবি করেন, বিধায়ক থাকাকালীন গ্রামে কমিউনিটি সেন্টারের কাজ শুরু করেছিলেন। তা আর সম্পন্ন হয়নি পরের পাঁচ বছরে। পানীয় জলের ট্যাঙ্ক তৈরি করা হয়, কিন্তু কল দেওয়া হয়নি। তিনি দাবি করেন, ‘‘বর্তমান বিধায়ক শোলে সিনেমার গব্বরের মতো মানুষের মধ্যে ভয় জাগিয়ে বলছেন, ‘বাচ্চারা ঘুমোতে চলে যাও, না হলে গব্বর আসবে।’ আমি এই গ্রামে গত বিধানসভায় তৃণমূলের চেয়ে বেশি ভোট পেয়েছি। মানুষকে ভয় দেখিয়ে তাঁদের ঘর থেকে বেরোতে দেওয়া হচ্ছে না।” পাল্টা নরেন্দ্রনাথের দাবি, ‘‘উনি তো নিজেই নিজেকে ‘গব্বর’ বলছেন। কারণ, শোলে সিনেমায় দেখা গিয়েছে, গব্বর এলেই সবাই দরজা-জানলা বন্ধ করে দেন। নির্বাচন আসছে বলে উনি এলাকায় আসছেন। আমরা ২৪ ঘণ্টা মানুষের সঙ্গে থাকি। গ্রামের বাসিন্দারা তো দূর, বিজেপির লোকেরাও তাঁর সঙ্গে নেই।’’
দুই নেতার ‘গব্বর’-তরজা কাজে লাগিয়ে সমাজ মাধ্যমে ছড়িয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সাহায্যে তৈরি হাস্যরসের নানা পোস্ট। অনুগামীদের পাশাপাশি, দুই নেতাও তাঁদের সমাজমাধ্যমের পাতায় দিয়েছেন তেমন ‘রিল’। জিতেন্দ্রের ‘শেয়ার’ করা রিলে দেখা যাচ্ছে, নরেন্দ্রনাথের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ছবি। সেই ছবিতে হাতে লাঠি নিয়ে এসে তিনি বলছেন, ‘দরজা বন্ধ করো, জিতেন্দ্র তিওয়ারি আসছে। বাড়ি থেকে বেরোলে লক্ষ্মীর ভান্ডার বন্ধ করে দেব, কাজ বন্ধ করে দেব।’ আবার, নরেন্দ্রনাথের ‘শেয়ার’ করা রিলে দেখা যাচ্ছে, জিতেন্দ্রের প্রতিরূপ বলছেন, পাণ্ডবেশ্বরের মানুষও আর তাঁদের জালে ফাঁসছেন না। চন্দ্রডাঙা গ্রামের মানুষ তাঁকে ‘গব্বর’ বলে দরজা বন্ধ করে দেন, কারণ এত দিন না গিয়ে সাড়ে ৪ বছর পরে তিনি ভোট চাইতে গিয়েছেন।
চন্দ্রডাঙা গ্রামের এক বাসিন্দার কথায়, ‘‘ভোট ঘোষণার আগেই যা শুরু হয়েছে, মনে হচ্ছে, এ বার প্রচারে আরও কৌতুকের উপাদান মিলবে।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)