পথচারী মহিলার গলা থেকে হার ছিনতাইয়ের চেষ্টা করছিল মোটরবাইকে চড়ে আসা দুষ্কৃতীরা। মহিলার চিৎকার শুনে মোটরবাইকের রাস্তা আটকাতে গিয়েছিলেন এক ব্যক্তি। প্রকাশ্যে দিনের আলোয় শহরের রাস্তায় তাঁকে লক্ষ করে গুলি ছুড়ে পালাল দুষ্কৃতীরা।
সোমবার সকাল ১১টা নাগাদ দুর্গাপুর শহর লাগোয়া শঙ্করপুর (পশ্চিম) এলাকায় তপন মাইতি নামে ওই ব্যক্তির গা ছুঁয়ে বেরিয়ে যায় গুলিটি। তিনি শহরের বিধাননগরে একটি নার্সিংহোমে ভর্তি। দিনেদুপুরে এমন দুষ্কৃতী-দৌরাত্ম্যের ঘটনায় শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
শহরের নিউটাউনশিপ থানার শঙ্করপুর এলাকায় গত কয়েক বছরে ঘন বসতি গড়ে উঠেছে। তৈরি হয়েছে বেশ কিছু নতুন বাড়ি ও বহুতল। পাশাপাশি দুই আবাসন এলাকা, নিবেদিতা পার্ক ও গোল্ডেন পার্ক মাথা তুলেছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এ দিন সকালে নাগাদ নিবেদিতা পার্কের বাসিন্দা খুকু মুখোপাধ্যায় আড়াই বছরের নাতি সাগ্নিককে নিয়ে পাড়ার মুদি দোকানে ধূপ কিনতে বেরিয়েছিলেন। কয়েক পা হেঁটে গোল্ডেন পার্কে যেতেই পিছন থেকে লাল রঙের মোটরবাইকে চড়ে আসা দু’জন তাঁর গলার হার ধরে টান মারে। খুকুদেবী জানান, তিনি সতর্ক হয়ে যেতেই দুষ্কৃতীরা হারটি ধরে টানাটানি শুরু করে। তাতে হার ছিঁড়ে অর্ধেক চলে যায় দুষ্কৃতীর হাতে।
খুকুদেবী জানান, সেই সময় সামনে বিদ্যুতের খুঁটিতে টিভির কেব্ল মেরামতির কাজ করছিলেন তপনবাবু ও রাজু গড়াই। তপনবাবু খুকুদেবীর পূর্ব পরিচিত। তাই তিনি তাঁর নাম ধরে চিৎকার করেন। তপনবাবু জানান, গোড়ায় তিনি মনে করেছিলেন, মোটরবাইকটি খুকুদেবীকে ধাক্কা দিয়ে পালাচ্ছে। তিনি মোটরবাইকের সামনে গিয়ে রাস্তা আটকানোর চেষ্টা করলে এক দুষ্কৃতী সতর্ক করে, ‘‘গুলি করে দেব, সরে যা।’’ তপনবাবু জানান, তিনি পাত্তা দেননি। তখনই হঠাৎ পিছনে বসা দুষ্কৃতী তাঁর দিকে গুলি ছোড়ে। সেটি তাঁর কোমর ছুঁয়ে বেরিয়ে যায়। তিনি পড়ে যান।
আশপাশের বাসিন্দারা শব্দ শুনে ছুটে এলেও মোটরবাইকের আরোহীরা তার মধ্যে পালিয়ে যায়। তপনবাবুকে প্রথমে দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে স্থানান্তর করা হয় বিধাননগরের নার্সিংহোমে। তপনবাবু বলেন, ‘‘ভেবেছিলাম গুলির কথা বলে ভয় দেখাচ্ছে। সত্যিই যে গুলি ছুড়বে ভাবিনি। আগে থেকে বুঝলে অন্য ভাবে মোকাবিলার চেষ্টা করতাম।’’
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি গুলির খোল উদ্ধার করেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ছিঁচকে চোর-ছিনতাইবাজদের হাতেও যে আগ্নেয়াস্ত্র পৌঁছে গিয়েছে, এই ঘটনাই প্রমাণ। দিনেদুপুরে এমন কাণ্ডে আতঙ্কিত তাঁরা। খুকুদেবী বলেন, ‘‘নিজের বাড়ির পাশে দিনের বেলায় এমন ঘটবে, কখনও দুঃস্বপ্নেও ভাবিনি। এখনও ভয় করছে। সঙ্গে নাতি ছিল। ঘটনার আকস্মিকতায় ও চুপ করে গিয়েছে।’’ স্থানীয় বাসিন্দা উৎসব মজুমদারের দাবি, ‘‘দুষ্কৃতীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। অবিলম্বে পুলিশ কড়া ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।’’ আর এক বাসিন্দা শিখা সাহার কথায়, ‘‘বাইরে বেরোতে গায়ে কাঁটা দিচ্ছে। প্রকাশ্য রাস্তায় এমন ঘটনা ঘটতে পারে, ভাবতেই পারছি না!’’
এডিসিপি (পূর্ব) কুমার গৌতম এ দিন ঘটনাস্থলে তদন্তে যান। কী ভাবে গোটা ঘটনা ঘটল, খুকুদেবীকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে শোনেন তিনি। পরে তিনি জানান, দুষ্কৃতীদের খোঁজ শুরু হয়েছে। দ্রুত গ্রেফতার করা হবে বলে তাঁর আশ্বাস।