Advertisement
E-Paper

পরীক্ষাতেই বিপত্তি, প্রশ্নে বিশ্ববিদ্যালয়

২০১১-য় বিধানসভা ভোটে রাজ্যে পালাবদলের পরেই আসানসোলে বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি হবে বলে ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার বছর দুয়েকের মাথায় ২০১৩-র ১০ জানুয়ারি আসানসোলে এসে আনুষ্ঠানিক ভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী।

সুশান্ত বণিক

শেষ আপডেট: ০৮ জুলাই ২০১৮ ০১:৩৫
আসানসোলে কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়। ফাইল চিত্র

আসানসোলে কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়। ফাইল চিত্র

প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর কেটে গিয়েছে আসানসোলের কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের পথচলার। কিন্তু তার পরে প্রশ্নপত্র বিভ্রাট, প্রশ্ন ফাঁস, উপযুক্ত পরিকাঠামো বা শিক্ষকের অভাব— এমনই নানা বিষয়ে অভিযোগ জানিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক বার সরব হয়েছেন পড়ুয়া এবং পশ্চিম বর্ধমানের শিক্ষকদের একাংশ। তাঁদের আশঙ্কা, এমনটা চলতে থাকলে বিশ্ববিদ্যালয় ও অধীনস্ত কলেজগুলিতে মেধাবী পড়়ুয়ারা ভর্তি হতে চাইবেন না।

২০১১-য় বিধানসভা ভোটে রাজ্যে পালাবদলের পরেই আসানসোলে বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি হবে বলে ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার বছর দুয়েকের মাথায় ২০১৩-র ১০ জানুয়ারি আসানসোলে এসে আনুষ্ঠানিক ভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রাথমিক ভাবে শহরের সুকান্ত ময়দানে একটি অব্যবহৃত তিনতলা আদিবাসী ছাত্রাবাসে ওই বছরের জুন মাস থেকে পঠনপাঠন শুরু হয়। প্রথম বছরে বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাস ও অঙ্ক, এই চারটি বিষয়ে মোট ১২০ জন পড়ুয়াকে ভর্তি করা হয়। তার পরে কাল্লায় তৈরি হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ভবন। বেড়েছে পড়ুয়ার সংখ্যাও।

কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে শিক্ষার গুণমান নিয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পঠনপাঠন ও পরিকাঠামো সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে প্রায়শই সরব হতে দেখা গিয়েছে পড়ুয়াদের একাংশকে। শিক্ষকদের অন্দরেও একাংশের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে। সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রশ্নপত্র-বিভ্রাট। যেমন, চলতি বছরেরই ১৭ জানুয়ারি স্নাতক স্তরে ভূগোল বিষয়ে দ্বিতীয় বর্ষের প্রথম সেমেস্টারের পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র হাতে পাওয়ার পরেই পরীক্ষার্থীরা বুঝতে পারেন, ভুল প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়েছে। এর পরে পরীক্ষা বাতিল করেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পরীক্ষা নিয়ামক পদে এখনও স্থায়ী নিয়োগ হয়নি বিশ্ববিদ্যালয়ে। তবে এ বিষয়ের অস্থায়ী দায়িত্বপ্রাপ্ত সলিল দাসের কাছে প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলেও তিনি কোনও মন্তব্য করতে চাননি।

সম্প্রতি ঠিক সময়ে পরীক্ষার ফল প্রকাশ না করার অভিযোগে দিনকয়েক ধরে স্নাতক স্তরের পড়ুয়ারা লাগাতার বিক্ষোভও হয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান ও জাতীয় সড়ক অবরোধের মতো ঘটনাও ঘটেছে। প্রায় প্রতিটি বিভাগের পড়ুয়াদের অভিযোগ, সেমেস্টারের রেজাল্ট বেরনোর কয়েক মাস পরেও মার্কশিট হাতে মেলে না।

প্রশ্ন উঠেছে উচ্চশিক্ষার অন্যতম মাপকাঠি, গবেষণা সংক্রান্ত বিষয়টি নিয়েও। বিশ্ববিদ্যালয় তৈরির বছরখানেক বাদেও এখনও ইতিহাস ছাড়া অন্য কোনও বিষয়ে এমফিল পাঠ্যক্রম চালু হয়নি। প্রায় ছ’টি বিষয়ে এ পর্যন্ত নেই পিএইচডি-র সুযোগও। নানা সমস্যার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক আদর্শ শর্মার বক্তব্য, ‘‘মাঝে কিছু সমস্যা হয়েছিল। আমরা তা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজরে আনি। এখন সমস্যা মিটেছে।’’ তবে বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছে এসএফআই। এসএফআই নেতা হিমগ্ন চন্দ বলেন, ‘‘শুরু থেকেই এমন নানা অনিয়ম নিয়ে সরব আমরা। এমনটা চলতে থাকলে সাধারণ পড়ুয়া-স্বার্থেই আঘাত লাগবে। জুলাই থেকে ধারবাহিক ভাবে বিষয়টি নিয়ে আন্দোলনে নামবে সংগঠন।’’

সমস্যাগুলির বিষয়ে উপাচার্য সাধন চক্রবর্তী অবশ্য বলেন, ‘‘পরিস্থিতি কাটিয়ে তুলতে উপযুক্ত পদক্ষেপ করা হচ্ছে।’’ (চলবে)

Kazi Nazrul University কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy