জয় বাংলা উধাও। তার জায়গা দখল করছে জয় শ্রীরাম। সমাজমাধ্যমে চলছে দলবদলের হিড়িক।
দু’দিন আগেও সমাজ মাধ্যমের প্রোফাইল পিকচারে জ্বলজ্বল করত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি। পাশে লেখা ছিল ‘জয় বাংলা।’ এখন তাঁদের অনেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি মুছে অযোধ্যার রাম মন্দিরের ছবি আপলোড করছেন। স্লোগানও বদলে হয়েছে ‘জয় শ্রীরাম’। সমাজমাধ্যমে এ যাবৎ কাল পর্যন্ত তৃণমূলের সমর্থনে করা পোস্ট মুছে দেওয়ার হিড়িকও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনেকে রাম মন্দিরের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা নিজের ছবি পোস্ট করছেন। সমাজমাধ্যমে রাম মন্দিরের ছবি আপলেড করে তাঁদের কেউ কেউ লিখেছেন ‘মুক্ত বাতাসে ছবিগুলি অক্সিজেন পাক।’ তার পাশে লেখা ‘জয় শ্রীরাম’ অথবা ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতার স্বাদ পাওয়া গেল’।
শুধু তাই নয়। এমন খবরও আসছে, কেউ কেউ গ্যাঁটের টাকা খরচ করে পাড়ার ছেলেদের নিয়ে পিকনিক করে তৃণমূল নেতাদের গালমন্দ করছেন। সেই ভিডিয়ো পোস্ট করছেন সমাজমাধ্যমে। তাঁদের দু’দিন আগেও জয় বাংলা বলে তৃণমূলের মিছিলে হাঁটতে দেখা গিয়েছে। এ সব দেখে কাটোয়া শহরের বাসিন্দদের অনেকে বলছেন, ‘রং বদলের এমন প্রতিযোগিতা দেখে গিরগিটিও লজ্জা পাবে।’
এই ’দলবদলুদের’ তালিকায় রয়েছেন কাটোয়া শহরের অনেক শিক্ষক, ব্যবসায়ী, ঠিকাদার।কাটোয়া শহরের বাসিন্দা সত্য চট্টোপাধ্যায় বলেন, “দেখছি, আমার বহু পরিচিত ব্যক্তিও রাতারাতি গিরগিটির মতো রং পরিবর্তন করে সমাজমাধ্যমে অযোধ্যা মন্দির ও রামচন্দ্রের ছবি পোস্ট করেছেন। ভয়ের পরিবেশ মুক্ত হতেই নাকি তাঁদের এই সিদ্ধান্ত। আবার অনেকের যুক্তি ‘জয় শ্রীরাম’ বললে নাকি এগিয়ে থাকা যাবে। রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হতেই মনের এমন পরিবর্তন দেখে আমরাও বিস্মিত।”
কাটোয়া শহরের বছর একুশের অজয় সাহা নামে এক কলেজ পড়ুয়া বলেন, “ভোট গণনার দিন সকালেও শহরের এক শিক্ষককে দাপিয়ে জয় বাংলা স্লোগান দিতে দেখেছি। কিন্তু, গত দু’দিন ধরেও ওই শিক্ষককেই সমাজমাধ্যমে গিরগিটির মতো রং পরিবর্তন করে ছবি পোস্ট করতে দেখা যাচ্ছে। শিক্ষকের যদি আদর্শ না থাকে, তাহলে স্কুলে গিয়ে ছাত্র সমাজকে কী শেখাবেন তিনি।” কাটোয়া শহরের আর এক বাসিন্দা বলেন, ‘‘কয়েক দিন আগেও কাটোয়ার এক শিক্ষককে বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় ও ঘাসফুলের ছবি নিয়ে একটি ঘরে কর্মীদের সঙ্গে বসে থাকতে দেখা গিয়েছিল। এখন তাঁর ফেসবুক প্রোফাইলে বিজেপির গুণগান গাইতে দেখা যাচ্ছে।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)