জেলার সব আসনেই জয়ী হয়েছেন বিজেপি প্রার্থীরা। তাঁদের মধ্যে তিন জন জয় পেলেন টানা দ্বিতীয় বার। শনিবার শপথগ্রহণ নতুন সরকারের। পশ্চিম বর্ধমান থেকে জয়ী বিধায়কদের কেউ কি জায়গা পাবেন, রাজ্যের মন্ত্রিসভায়, চর্চা চলছে জেলায়। অগ্নিমিত্রা পাল বা জিতেন্দ্র তিওয়ারিরা মন্ত্রিত্ব পান কি না, সে দিকে তাকিয়ে রয়েছেন জেলার মানুষ।
অন্ডালে ভোটের প্রচারে সভা করতে এসে দলের প্রার্থীদের পরিচিত করার সময়ে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছিলেন, ‘‘জিতেন্দ্র তিওয়ারি গত বার অল্প ব্যবধানে হেরে গিয়েছিলেন। এ বার ওঁকে আপনারা জিতিয়ে দিন। আমরা ওঁকে বড় জায়গায় নিয়ে যাব।’’ জিতেন্দ্র ভোটে জেতার পরে, তাঁর অনুগামী কর্মী-সমর্থকদের অনেকের আশা, তাঁকে মন্ত্রী করবে দল। তাঁদের মতে, জিতেন্দ্র আসানসোল পুরসভার মেয়র হিসাবে কাজ করেছেন। ২০১৬ থেকে পাঁচ বছর বিধায়কও ছিলেন। তাঁর প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে।
মন্ত্রিত্বের দৌড়ে বেশি আলোচিত হয়ে উঠেছেন আসানসোল দক্ষিণে পর পর দু’বার নির্বাচিত বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি দলের মহিলা মোর্চার রাজ্য স্তরের দায়িত্ব সামলেছেন। বর্তমানে দলের রাজ্য কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে আছেন। দলের নেতা-কর্মীদের একটি বড় অংশের ধারণা, অগ্নিমিত্রা রাজ্য স্তরে লড়াকু নেত্রী বলে পরিচিত হয়ে উঠেছেন। বিজেপির অন্দরে তাঁকে মন্ত্রী করার পরিকল্পনা চলছে বলে খবর ছড়িয়েছে। তা ছাড়া, তিনি তুলনায় দলের পুরনো কর্মী। দলের খারাপ সময়েও কাজ করেছেন।
তৃণমূলের গত সরকারের আমলে পশ্চিম বর্ধমান থেকে দু’জনকে পূর্ণ মন্ত্রী করা হয়েছিল। আসানসোল ও দুর্গাপুর, দুই মহকুমা থেকে দু’জন মন্ত্রিসভায় ছিলেন। জেলার বিজেপি কর্মীদের একাংশের দাবি, তাঁদের দলের সরকারের আমলেও সে নীতি নিলে মানুষের আস্থা অর্জনে সুবিধা হবে। সে ক্ষেত্রে আসানসোল মহকুমা থেকে অগ্নিমিত্রাকে মন্ত্রী করা হলে, দুর্গাপুর মহকুমা থেকে জিতেন্দ্র বা লক্ষ্মণ ঘোড়ুইয়ের নাম বিবেচিত হতে পারে, আশা তাঁদের।
জিতেন্দ্র বলেন, ‘‘দল আমাকে বিধায়ক করে সাধারণ মানুষের কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছে। তাতেই আমি কৃতজ্ঞ।’’ অগ্নিমিত্রার বক্তব্য, ‘‘মানুষের কাজ করার সুযোগ পেয়েছি, সেটা করব। দল বাড়তি কোনও দায়িত্ব দিলে, সেটাও পালন করব। এটা দলের সিদ্ধান্ত।’’ বিজেপির আসানসোল সাংগঠনিক জেলা সভাপতি দেবতনু ভট্টাচার্য জানান, তাঁদের দলের সরকারে কে মন্ত্রী হবেন, তা একেবারেই শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)