দিল্লি পুলিশের হাতে গ্রেফতার ‘পাক-সমর্থিত’ গোষ্ঠী শাহজাদ ভট্টী মডিউল-এর ন’জন জঙ্গি। বৃহস্পতিবার অস্ত্র-সহ ওই ন’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, দিল্লির একটি প্রসিদ্ধ মন্দির এবং হরিয়ানার সেনাছাউনিতে হামলার ছক ছিল। কিন্তু তার আগেই তল্লাশি চালিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশের দাবি, জেরায় ধৃতেরা জানিয়েছে যে, দিল্লির এক মন্দিরের রেকি করা হয়। শুধু তা-ই নয়, বেশ কিছু দিন ধরে মন্দির চত্বরের আশপাশে ঘুরে ছবিও তোলা হয়েছে। তার পর সেই ছবি পাক হ্যান্ডলারদের কাছে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতদের সঙ্গে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগ রয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। বেশ কিছু সংবেদনশীল জায়গায় ছবি এবং তথ্য উদ্ধার হয়েছে ধৃতদের মোবাইল এবং ইলেকট্রনিক গ্যাজেটস থেকে।
তদন্তকারী সূত্রের খবর, ধৃতেরা রেকি করেছিল মন্দিরে কখন ভিড় হয়, সেখানে নিরাপত্তা কেমন, সেনাছাউনির কোন কোন জায়গায় হামলা চালানো যায়। তদন্তকারীরা আরও জানিয়েছেন, দিল্লি-সোনীপত হাইওয়েতে একটি নামী ধাবাতেও হামলার ছক ছিল জঙ্গিদের। সেখানে গ্রেনেড হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। দিল্লিতে ‘পাক-সমর্থিত’ একটি জঙ্গি মডিউল সক্রিয় হয়েছে বলে খবর পেয়েছিলেন গোয়েন্দারা। তার পরই দিল্লি পুলিশকে সতর্ক করা হয়। তদন্তে নেমে দিল্লির বিভিন্ন এলাকা এবং কয়েকটি রাজ্য থেকে ন’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই মডিউল-এর সঙ্গে আর কারা জড়িত, তাদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। শুধু তা-ই নয়, দিল্লি এবং হরিয়ানা ছাড়া আর কোথায় হামলার পরিকল্পনা ছিল, তা-ও জানার চেষ্টা চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা।
প্রসঙ্গত, গত বছরের নভেম্বরে ‘ডক্টরস মডিউল’-এর হদিস মেলে জম্মু-কাশ্মীরে। সেই সূত্র ধরে হরিয়ানার ফরিদাবাদে ওই মডিউলের আরও সদস্যের হদিস পান গোয়েন্দারা। সেখান থেকে ২৯০০ কেজি বিস্ফোরক উদ্ধার হয়। গ্রেফতার হন বেশ আল ফালহা বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েক জন চিকিৎসক। তার পরই গত বছরের ১০ নভেম্বর দিল্লির লালকেল্লা মেট্রোর সামনে গাড়িবোমা বিস্ফোরণ হয়। সেই ঘটনায় ১৫ জনের মৃত্যু হয়। আহত হন ২০ জনেরও বেশি।