খাদ্যে বিষক্রিয়া নয়, তরমুজে মেশানো হয়েছিল ইঁদুরের বিষ। মুম্বইয়ে একই পরিবারের চার জনের মৃত্যুতে এমনই দাবি করা হল ফরেনসিক রিপোর্টে। আর সেই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসতেই প্রশ্ন জোরালো হতে শুরু করেছে, কী ভাবে তরমুজে ইঁদুরের বিষ এল? তা হলে কি পরিকল্পনা করে খুন করা হল দোকারিয়া পরিবারকে?
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, তরমুজের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছিল। সেখানে যে বিষাক্ত পদার্থ পাওয়া গিয়েছে, সেই পদার্থের সঙ্গে মৃতদের দেহে মেলা বিষাক্ত পদার্থের নমুনা পরীক্ষা করে দেখা হয়। আর সেখান থেকেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়। ঘটনাচক্রে, ময়নাতদন্তের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, মৃতদের অভ্যন্তরীণ অঙ্গ সবুজাভ হয়ে গিয়েছিল। সাধারণত বিষক্রিয়ার কারণেই এমনটা হয়ে থাকে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা। কিন্তু সেই বিষ কোথা থেকে এল, কী ভাবে দোকারিয়া পরিবারের চার সদস্যের শরীরে প্রবেশ করল, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল।
তদন্তকারীরা এটাও জানিয়েছেন, প্রাথমিক ভাবে মনে করা হয়েছিল যে, তরমুজে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের জেরেই দোকারিয়া পরিবারের চার সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু বৃহস্পতিবার মুম্বইয়ের সরকারি হাসপাতালের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রাথমিক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, মৃতদের শরীরে কোনও সংক্রমণের চিহ্ন মেলেনি। ফলে তরমুজ খেয়ে সংক্রমণের যে তত্ত্ব জোরালো হচ্ছিল, সেই তত্ত্ব খারিজ হয়ে যায়।
পুলিশ সূত্রে খবর, চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, মৃতদের শরীরে জিঙ্ক ফসফাইট মিলেছে। এই রাসায়নিক সাধারণত ইঁদুরের বিষ তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। তরমুজেও জিঙ্ক ফসফাইট পাওয়া গিয়েছে বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। কী ভাবে তরমুজে ওই রাসায়নিক এল? না কি বাইরে থেকে এই রাসায়নিক তরমুজে ঢোকানো হয়েছে? এখন এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বার করাই তদন্তকারীদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।
গত ২৫ এপ্রিল মুম্বইয়ের আবদুল্লা দোকারিয়া, তাঁর স্ত্রী নাসরিন, দুই কন্যার মৃত্যু হয়। প্রাথমিক ভাবে জানা যায়, ওই দিন আত্মীয়দের সঙ্গে নৈশভোজের পর তরমুজ খেয়েছিলেন দোকারিয়া পরিবারের চার জন। ভোরবেলা থেকে তাঁদের বমি শুরু হয়। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় চার জনকে। কিন্তু চিকিৎসা চলাকালীন মৃত্যু হয় তাঁদের। মৃত্যুর আগে আবদুল্লার বয়ান রেকর্ড করেছিল পুলিশ। তিনি জানিয়েছিলেন, বাড়িতে কয়েক জন আত্মীয় এসেছিলেন। তাঁদের সঙ্গে খাওয়াদাওয়া করেন। আত্মীয়েরা চলে যাওয়ার পর রাত ১টা নাগাদ তরমুজ খান চার জনে। তরমুজ এনেছিলেন আত্মীয়েরা।