কেউ দু’দশক, কেউ আবার তৃণমূলের পুর-প্রতিনিধি রয়েছেন তিন দশক। তবু নিজের ওয়ার্ডে এ বারের ভোটে ধরাশায়ী তাঁরা। সেই ওয়ার্ডগুলিতে জয়জয়কার বিজেপির। এমনই ছবি মালদহের দুই পুরসভা ইংরেজবাজার ও পুরাতন মালদহে। এক বছরের মধ্যে পুরভোট। শহরে পিছিয়ে থাকায় তা নিয়ে সিঁদুরে মেঘ দেখছে তৃণমূল।
ইংরেজবাজার পুরসভায় ২৯টি ও পুরাতন মালদহে ২০টি ওয়ার্ড রয়েছে। এ বারের ভোটে ইংরেজবাজারে ২৭টি ও পুরাতন মালদহে ১৮টি ওয়ার্ডে তৃণমূল ধরাশায়ী। সে ওয়ার্ডগুলিতে জয়ী হয়েছে বিজেপি। দুই শহরের ভোটে ভর করে ইংরেজবাজারে ৯৩ হাজার ও মালদহে ৩৮ হাজার ভোটে বিজেপি জয়ী হয়। অথচ দুই পুরসভায় তৃণমূল। তৃণমূলের দাবি, গত বিধানসভা থেকে শুরু করে লোকসভা ভোটে তৃণমূলের দখলে থাকা ওয়ার্ডে বিজেপির জয় চেনা ছবি হয়ে উঠেছে। গত বছর ইংরেজবাজারে তৃণমূল নেতা দুলাল সরকার খুনের ঘটনায় তাঁর বাড়িতে দেখা করতে গিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন খোদ তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছিলেন, মালদহের রাজনীতি বুঝি না। পুরসভা ভোটে জয়ী হলেও আমরা লোকসভা, বিধানসভায় হেরে যাই। এমনটা কেন হয় জানি না।”
পুরসভাগুলিতে তৃণমূলের পুর-প্রতিনিধিদের মধ্যে সিংহ ভাগই এক ওয়ার্ডে দীর্ঘ বছর ধরে ক্ষমতায় রয়েছেন। তাঁদের অনেকেই আবার তৃণমূলের শুধু শহর নয়, জেলার পদাধিকারীও রয়েছেন। তার পরেও এ বারে ভরাডুবি নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে তৃণমূলের অন্দরে। তৃণমূলেরই একাংশের দাবি, প্রতিনিধিরা নিজেদের ভোটে যে ভাবে প্রচার করেন, সে ছবি লোকসভা ও বিধানসভায় দেখা যায় না। এ ছাড়া বছরের পর বছর এক ওয়ার্ডে ক্ষমতায় থাকায় তাঁদের ভূমিকায় মানুষের মধ্যে ক্ষোভের চোরা স্রোত রয়েছে। যার বহিঃপ্রকাশ বিধানসভা এবং লোকসভায় পড়ে। এ বারে রাজ্যে পালাবদলের পরে পুরভোটেও প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন অনেক নেতা। তৃণমূলের জেলা মুখপাত্র আশিস কুন্ডু বলেন, “পুরভোটে ঠিকই ঘুরে দাঁড়াব। ভোটের হারের কারণ পর্যালোচনা করা হচ্ছে।”
রাজ্যে পালাবদলের পরে এখন নিজেদের রং বদলের জন্য বিজেপি শিবিরে যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন তৃণমূলের অনেক পুর-প্রতিনিধিই। যদিও এখনই দলবদলুদের জন্য দলের দরজা খুলবে না বলে বার্তা দিয়েছেন বিজেপির নেতারা। বিজেপির দক্ষিণ মালদহের সভাপতি অজয় গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “তৃণমূলের অনেকেই এখন বিজেপিতে যোগ দিতে চাইছে। তবে তাঁদের জন্য দরজা আপাতত বন্ধ রয়েছে। নেতৃত্বের নির্দেশের পরেই তা খোলা হবে।”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)