Advertisement
E-Paper

পুজোর মাঝেই প্রশ্ন, স্কুলের কী হবে

অন্যান্য বছর এই দিনে সেজে ওঠে স্কুল চত্বর। কিন্তু এ বার পুজো, পংক্তিভোজ, সব কিছু হলেও চার দিকে যেন বিষাদের ছবি! বুধবার স্কুলে গিয়ে দেখা গেল, মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে একটাই প্রশ্ন, ‘স্কুলের কী হবে’।

সুশান্ত বণিক

শেষ আপডেট: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ০০:২৫
পড়াশোনার কী হবে, চিন্তায় পড়ুয়ারা। ছবি: শৈলেন সরকার

পড়াশোনার কী হবে, চিন্তায় পড়ুয়ারা। ছবি: শৈলেন সরকার

অন্যান্য বছর এই দিনে সেজে ওঠে স্কুল চত্বর। কিন্তু এ বার পুজো, পংক্তিভোজ, সব কিছু হলেও চার দিকে যেন বিষাদের ছবি! বুধবার স্কুলে গিয়ে দেখা গেল, মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে একটাই প্রশ্ন, ‘স্কুলের কী হবে’। স্কুলের মাস্টারমশাইদেরই যে আর চাকরি নেই। কারখানা বন্ধ হওয়ার পরে এমনই অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে রূপনারায়ণপুরের হিন্দুস্তান কেব্‌লসের দু’টি স্কুলের।

রাজ্য সরকার অনুমোদিত হিন্দুস্তান কেব্‌লস হাইস্কুল ফর গার্লস ও হিন্দুস্তান কেব্‌লস হাইস্কুল ফর বয়েজে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বেতন-সহ যাবতীয় খরচ বহন করত কারখানা।

কেন্দ্রীয় ভারী শিল্প মন্ত্রকের নির্দেশে গত ৩১ জানুয়ারি বন্ধ হয়ে গিয়েছে কারখানা। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দু’টি স্কুলে এই মুহূর্তে ২৫ জন শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী রয়েছেন। তাঁদেরকেও পাওনা বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু শিক্ষকেরা জানান, শিক্ষাবর্ষের মাঝ পথে তাঁরা পড়ুয়াদের ছেড়ে কোনও মতেই যেতে পারছেন না। এই মুহূর্তে কেব্‌লসের স্কুল ছেড়ে অন্য কোথাও ভর্তি হওয়ারও সুযোগ পাবে না পড়ুয়ারা।

পুষ্পাঞ্জলী দিতে যাওয়ার পথে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী সুনিতা কুমারির আক্ষেপ, ‘‘এ বছরই হয়তো স্কুল ছাড়তে হবে। কিন্তু আমরা যাব আক কোথায়?’’ তবে পডুয়াদের মুখের দিকে তাকিয়ে আপাতত বিনা বেতনেই ক্লাস নেওয়ার কথা জানালেন শিক্ষিকা সুনন্দা সামন্ত, বালক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক গোবিন্দ বন্দ্যোপাধ্যায়েরা।

স্কুল পরিচালনার দায়িত্বে থাকা শুভজিৎ মল্লিকের অভিযোগ, ‘‘অন্তত আগামী শিক্ষাবর্ষের ব্যয় বহনের জন্য ভারী শিল্প মন্ত্রকের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। কিন্তু এ যাবৎ কোনও উত্তর মেলেনি।’’ তবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়ের আশ্বাস, ‘‘বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা হয়ে গিয়েছে। দ্রুত সমস্যা মিটবে।’’

এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের শিক্ষা দফতর কোনও পদক্ষেপ করতে পারে কি না জানতে চাওয়া হলে আসানসোলের সহকারি জেলা স্কুল পরিদর্শক অজয় পাল বলেন, ‘‘কেব্‌লস কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিত কোনও সিদ্ধান্ত জানাতে পারেননি। তাই আমরা কিছুই করতে পারছি না। তবে কেব্‌লস কর্তৃপক্ষ যদি পুরোপুরি হাত তুলে নেন, তা হলে ওই দু’টি স্কুলের পড়ুয়াদের অন্য কোথাও ভর্তির ব্যবস্থা
করা হবে।’’

কেব্‌লস কর্তৃপক্ষের অবশ্য সাফাই, কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের অনুমতি ছাড়া কোনও সিদ্ধান্ত তাঁরা নিতে পারেন না।

Students
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy