Advertisement
E-Paper

পুরভোটের আগে ভাঙল বিরোধী-ঘর

গত বছর কংগ্রেসে যোগ দিয়ে দুর্গাপুর পশ্চিম কেন্দ্র থেকে ভোটে জিতে বিধায়ক হওয়া বিশ্বনাথ পাড়িয়ালও আবার তৃণমূলে ফিরতে পারেন বলে এ দিন ইঙ্গিত দেন অরূপবাবু।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২০ জুন ২০১৭ ০১:০০
দুর্গাপুরে দলবদল। নিজস্ব চিত্র

দুর্গাপুরে দলবদল। নিজস্ব চিত্র

তাঁদের কাউন্সিলরদের দলে যোগ দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে তৃণমূল, দিন কয়েক আগেই অভিযোগ তুলেছিল বামেরা। সোমবার দুর্গাপুরে তিন বাম কাউন্সিলর যোগ দিলেন তৃণমূলে। তবে কোনও চাপ নয়, ভাল ভাবে কাজ করার জন্য স্বেচ্ছায় দল পাল্টেছেন বলে দাবি করেন ওই কাউন্সিলররা। রাজ্যের মন্ত্রী তথা তৃণমূলের এই জেলার পর্যবেক্ষক অরূপ বিশ্বাসের উপস্থিতিতে এ দিন বিজেপি ছেড়ে শাসকদলে যোগ দেন শহরের এক বিজেপি নেতাও।

দুই সিপিএম কাউন্সিলর নিজামুদ্দিন ও রিনা চৌধুরী এবং আরএসপি কাউন্সিলর লোকনাথ দাসের হাতে এ দিন দলের পতাকা তুলে দেন অরূপবাবু। নিজামুদ্দিন ১ নম্বর, রিনাদেবী ২ নম্বর এবং লোকনাথবাবু ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। এ দিনের সভায় তৃণমূলে যোগ দেওয়া অখিল মণ্ডল বিজেপি-র রাজ্য কমিটির সদস্য ছিলেন। অরূপবাবু বলেন, ‘‘দুর্গাপুরকে মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে চাই আমরা। তাই অন্য রাজনৈতিক দল থেকেও মানুষজন আমাদের দলে যোগ দিচ্ছেন।’’

গত বছর কংগ্রেসে যোগ দিয়ে দুর্গাপুর পশ্চিম কেন্দ্র থেকে ভোটে জিতে বিধায়ক হওয়া বিশ্বনাথ পাড়িয়ালও আবার তৃণমূলে ফিরতে পারেন বলে এ দিন ইঙ্গিত দেন অরূপবাবু। বিশ্বনাথবাবুর দলে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে কি না, এই প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘‘তৃণমূল ছাড়া কোনও রাজনৈতিক দল মানুষের উন্নয়নের কাজ করছে না। তাই রাজ্যকে যাঁরা ভালবাসেন তাঁরা সবাই তৃণমূলে সামিল হবেন। অপেক্ষা করুন। সময়ে সব জানতে পারবেন।’’ বিশ্বনাথবাবুর ফোন বন্ধ থাকায় তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।

দুর্গাপুরের ৪৩টি ওয়ার্ডের মধ্যে বামেদের দখলে রয়েছে ১১টি। কাউন্সিলরের মৃত্যুর কারণে একটি আসন দীর্ঘদিন ধরে ফাঁকা। বর্তমান বোর্ডের মেয়াদ শেষ হচ্ছে এই জুনেই। তার পরে পুরভোট হওয়ার কথা। তার আগে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার জন্য দলের কাউন্সিলরদের টানা হুমকি দেওয়া হচ্ছে, সম্প্রতি প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দিয়ে অভিযোগ করেছিল সিপিএম। দুই সিপিএম কাউন্সিলর থানায় অভিযোগও করেছিলেন। তৃণমূলের যদিও দাবি, অনেকে নিজে থেকেই যোগাযোগ করছেন, কাউকে জোর করা হয়নি।

যে তিন বাম কাউন্সিলর তৃণমূলে যোগ দিলেন, তাঁরা সকলেই ২০১২ সালে প্রথম কাউন্সিলর হন। তাঁদের দাবি, মানুষের জন্য কাজ করার জন্যই এই দলবদল। রিনাদেবীর কথায়, ‘‘আমার ওয়ার্ড বস্তি অধ্যুষিত। অনেক কাজ বাকি। কাজ করার জন্য তৃণমূলে যোগ দিয়েছি।’’ তাঁর দাবি, পুরভোটে তৃণমূল তাঁকে প্রার্থী করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে। বিজেপি ছেড়ে আসা অখিলবাবুর বক্তব্য, ‘‘আমি দলের বহু পুরনো কর্মী। মানুষকে সঙ্গে নিয়ে রাজনীতি করি। কিন্তু এখন কিছু নেতা যে ভাবে দল চালাচ্ছেন তাতে মানুষের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছে।’’

শহরের সিপিএম নেতা পঙ্কজ রায় সরকার অবশ্য বলেন, ‘‘কাউন্সিলরদের মেয়াদ পাঁচ বছর পেরিয়ে গিয়েছে। এত উন্নয়ন হয়েছে বলা হচ্ছে। তার পরেও মেয়াদ উত্তীর্ণ কাউন্সিলরদের নিয়ে টানাটানি কেন? আসলে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ভোটে লড়তে ভয় পাচ্ছে তৃণমূল।’’ অখিলবাবুর দাবি উড়িয়ে দিয়েছেন বিজেপি নেতারাও।

গত বিধানসভা ভোটে দুর্গাপুরে দু’টি আসনেই হারে তৃণমূল। তার পরে অরূপবাবু পাড়ায়-পাড়ায় গিয়ে বাসিন্দাদের ক্ষোভের মুখে পড়েন। তৃণমূলের একটি সূত্রের দাবি, তার পরেই পুরভোটের আগে সংগঠন মজবুত করার সিদ্ধান্ত হয়। এ দিনের সভায় ভিড় দেখে অরূপবাবু বলেন, ‘‘বিধানসভা ভোটে অপপ্রচার করে আমাদের হারানো হয়েছিল। এখন মানুষ ভুল বুঝেছেন। ফের ক্ষমতায় এসে দুর্গাপুরের উন্নয়ন করতে চাই।’’

TMC cpm তৃণমূল Councillors নিজামুদ্দিন রিনা চৌধুরী
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy