Advertisement
E-Paper

পর্যটনের শহরে দাপট ফ্লেক্স-ফেস্টুনের, ক্ষোভ

পর্যটনের শহর না বিজ্ঞাপনের, শহরে ফ্লেক্স-ফেস্টুন ব্যানারের বাড়বাড়ন্ত দেখে সেই প্রশ্নই মাথাচা়ড়া দিয়েছে কালনায়। একটু ঘুরলেই দেখা যাবে শহরের ১০৮ শিবমন্দির, পুরানো বাসস্ট্যান্ড, তেঁতুলতলা, সিদ্ধেশ্বরী মোড়-সহ জনবহুল এলাকায় ফ্লেক্সের দাপট।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৮ মার্চ ২০১৬ ০২:১১
কালনায় যত্রতত্র এমনই পোস্টার, ব্যানারের ছড়াছড়ি। নিজস্ব চিত্র।

কালনায় যত্রতত্র এমনই পোস্টার, ব্যানারের ছড়াছড়ি। নিজস্ব চিত্র।

পর্যটনের শহর না বিজ্ঞাপনের, শহরে ফ্লেক্স-ফেস্টুন ব্যানারের বাড়বাড়ন্ত দেখে সেই প্রশ্নই মাথাচা়ড়া দিয়েছে কালনায়।

একটু ঘুরলেই দেখা যাবে শহরের ১০৮ শিবমন্দির, পুরানো বাসস্ট্যান্ড, তেঁতুলতলা, সিদ্ধেশ্বরী মোড়-সহ জনবহুল এলাকায় ফ্লেক্সের দাপট। এক দিন দু’দিন ধরে নয়। বেশ কিছু দিন ধরে ফ্লেক্স, ফেস্টুন-ব্যানারের এই বাড়বাড়ন্ত দেখে ক্ষোভ বাড়ছে এলাকাবাসীর। স্থানীয়দের আর্জি, পুরসভা এ বার ব্যবস্থা নিক। না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।

পুরভোটের পরে ক্ষমতায় এসে নতুন বোর্ড স্লোগান তোলে নির্মল শহরের। রাশ টানা হয় প্ল্যাস্টিকের ব্যবহারে। মজে যাওয়া অজস্র পুকুর সংস্কারে নামে পুরসভা। নানা সরঞ্জাম কেনা, অস্থায়ী সাফাই কর্মী নিয়োগ-সহ ঢেলে সাজানো হয় সাফাই ব্যবস্থ্যাকে। তারপরে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও রাশ টানা যায়নি ফ্লেক্সে।

এ শহরের বিভিন্ন রাস্তায় হাঁটলে চোখে পড়বে দোকান, বিদ্যুতের খুঁটি, ফুটপাথ, ট্রান্সফরমার-সহ নানা জায়গায় ঝুলছে ফ্লেক্স। ১০৮ শিবমন্দির, পুরানো বাসস্ট্যান্ড, তেঁতুলতলা, সিদ্ধেশ্বরী মোড়-সহ জনবহুল এলাকাগুলিতে ফ্লেক্সের ছড়াছড়ি সবচেয়ে বেশি। কোথাও খোদ পুরসভাই ফ্লেক্সের মাধ্যমে জনসচেতনেতা মূলক প্রচার চালিয়েছে। আবার কোথাও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ফ্লেক্সের মাধ্যমে তুলে ধরেছে নিজের বক্তব্য। শুধু কি ফ্লেক্স? বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরলেই নজরে পড়বে দেওয়াল নোংরা করে লাগানো রয়েছে অজস্র পোস্টার। বহু দেওয়ালে জ্বল জ্বল করছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ভোট প্রচার। বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে দেওয়াল লিখন।

যেখানে সেখানে ফ্লেক্স, দেওয়াল লিখন দেখে শহরবাসী ক্লান্ত। খুশি নয় পর্যটকেরাও। রাঁচি থেকে কালনায় বেড়াতে আসা প্রত্যুষ চট্টোপাধ্যায়ের কথায়, কালনা শহরে অজস্র পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শন রয়েছে। যা দেখে মন ভরে গিয়েছে। তবে ভাল লাগেনি শহর জুড়ে ছড়িয়ে থাকা অজস্র ফ্লেক্স। শহরকে সুন্দর করে গড়ে তুলতে গেলে বন্ধ করতে হবে দৃশ্য-দূষণ। শহরের পথে ঘাটে প্রচারের নামে দেদার ফ্লেক্স সাঁটানোতে আপত্তি রয়েছে অনেকেরই। ব্যবসায়ী চন্দন ঘোষের কথায়, ‘‘প্রচারের দরকার রয়েছে। তবে সে জন্য নির্দিষ্ট স্থান চিহ্নিত করতে পারলে ভাল হবে।’’ সে দায়িত্ব নিতে হবে পুরসভাকেই, মত অনেকের।

শহরবাসীর ক্ষোভ বাড়ছে দেখে আশ্বাসের কথা শুনিয়েছে পুর-কর্তৃপক্ষ। চেয়ারম্যান দেবপ্রসাদ বাগ বলেন, ‘‘কিছু দিন আগেই বেশ কিছু পুরানো ফ্লেক্স নামিয়ে দিয়েছি। সপ্তাহ খানেকের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু এলাকা থেকে আরও কিছু ফ্লেক্স নামিয়ে দেব।’’ একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, ফ্লেক্স, ফেস্টুন-ব্যানারের জন্যে নির্দিষ্ট এলাকা চিহ্নিত করে দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে।

কাজ কবে হয়, দেখার সেটাই।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy