মনোনয়ন প্রত্যাহারের জন্য জেলার নানা প্রান্তে বিরোধী প্রার্থীদের বাড়িতে হামলা চালানো, মারধর, হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। সোমবার রাতে সালানপুরের বিজেপি প্রার্থী চিন্ময় তিওয়ারি ও দীপা মণ্ডল নামে কাঁকসার এক সিপিএম প্রার্থীর বাড়িতে হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে। বিজেপি প্রার্থীর মাথা ফেটে গিয়েছে। দুই ক্ষেত্রেই পুলিশে অভিযোগ হয়েছে। যদিও হামলা ও মারধরের অভিযোগ মানতেচায়নি তৃণমূল।
বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, সালানপুর ব্লক থেকে এ বার দলের পশ্চিম বর্ধমান জেলা পরিষদের প্রার্থী হয়েছেন হরিষাডির বাসিন্দা চিন্ময় তিওয়ারি। পঞ্চায়েত সমিতির প্রার্থী হয়েছেন তাঁর স্ত্রী সিঙ্কু। চিন্ময়ের দাবি, ভোটে দাঁড়ানোর পরে থেকেই মনোনয়ন প্রত্যাহারের জন্য তাঁকে ও তাঁর স্ত্রীকে চাপ দিচ্ছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। চিন্ময়ের অভিযোগ, “তাতে রাজি হইনি। সোমবার রাত ১০টা নাগাদ ২৫ জনের একটি দল লাঠি, রড নিয়ে আমার বাড়িতে চড়াও হয়। ওই সময়ে আমি দলের বৈঠক সেরে বাড়ি ফিরছিলাম। আমাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। প্রহৃত হন আমার কাকাও।” তাঁর দাবি, ওঁরা সকলেই এলাকায় তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতী বলে পরিচিত। মনোনয়ন প্রত্যাহারের হুমকি দিয়ে ওঁরা এলাকাছেড়ে চলে যান।
দলীয় প্রার্থীর উপরে হামলার পরেই, এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। রাতেই চিন্ময় পুলিশকে গোটা বিষয়টি জানান। ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। মাথা ফেটে যাওয়ায় পিঠাইকেয়ারি ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিন্ময়ের চিকিৎসা হয়েছে। তাঁর কাকার বাঁ চোখের উপরে ফেটে গিয়েছেবলে দাবি। এ দিকে, দোষীদের গ্রেফতারের দাবিতে মঙ্গলবার বিজেপির জেলা নেতৃত্ব প্রহৃতদের বাড়ি হয়ে রূপনারায়ণপুর ফাঁড়িতে যান। সিঙ্কু বলেন, “আবার কখন হামলা চালানো হবে, এই ভেবেই আতঙ্কে রয়েছি। তবে কোনও মতেই আমরা প্রার্থিপদ প্রত্যাহার করছি না।” বিজেপির আসানসোল সাংগঠনিক জেলা সভাপতি দিলীপ দে’র দাবি, “তৃণমূলের জনসমর্থন নেই। তাই মারধর, হুমকি দিয়ে প্রার্থিপদ প্রত্যাহার করিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চাইছে।”
এ দিকে, সোমবার রাতেই কাঁকসার রেলপাড়ে সিপিএম প্রার্থী দীপা মণ্ডলের শ্বশুরবাড়িতে হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে। দীপা জানান, রাতে তিনি অন্য একটি বাড়িতে ছিলেন। অভিযোগ, রাত ১১টায় শ্বশুরবাড়ি থেকে ফোন করে জানানো হয়, জনা পাঁচেক যুবক বাড়িতে আসেন। দরজা খুলতেই শাশুড়ি ও দুই দেওরের স্ত্রীদের মারধর করা হয়েছে। তিনি এসে শাশুড়ি-সহ তিন জনকে পানাগড় ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যান। দীপার দাবি, “মনোনয়ন প্রত্যাহার করাতে এই কাজ করেছে তৃণমূল। প্রতিবেশী যুবকেরাএর সঙ্গে যুক্ত।”
বিজেপির অভিযোগ প্রসঙ্গে তৃণমূলের সালানপুর ব্লক সম্পাদক ভোলা সিংহ দাবি করেন, “ঘটনার কথা আমিও শুনেছি। তবে এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই। তৃণমূল কোনও ভাবেই জড়িত নয়। এটি পারিবারিক বিবাদ।” তৃণমূলের কাঁকসা ব্লক সহ-সভাপতি হিরন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়ও দাবি করেন, “দুই প্রতিবেশীর ঝামেলায় সিপিএম রাজনৈতিক রং লাগাচ্ছে। আসলে প্রচার করার কোনও লোক নেই। তাই মিথ্যা অভিযোগ করে প্রচারে থাকতে চাইছে সিপিএম।”
রূপনারায়ণপুর ফাঁড়ি ও কাঁকসা থানার পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)