রাস্তার মাঝখানে থাকা আইল্যান্ড বেশ খানিকটা জায়গা জুড়ে থাকায় দুর্গাপুর মহিলা কলেজের সামনের রাস্তাJ আশেপাশে প্রায়শই ঘটছে দুর্ঘটনা। অবলম্বে আইল্যান্ডটি ছোট করে রাস্তাটি আরও বাড়ানো দরকার বলে দাবি চালক থেকে শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেল, আইল্যান্ডটি কয়েক দশকের পুরনো। টাউনশিপ তৈরির সময় বিভিন্ন রাস্তার এ ধরণের বড় আইল্যান্ড তৈরি করে ডিএসপি কর্তৃপক্ষ। আগে যানবাহনের চাপ কম থাকায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তেমন ছিল না। এলাকায় গিয়ে দেখা গেল, আইল্যান্ডটির তিন দিকে রয়েছে রাস্তা। একটি রাস্তা চলে গিয়েছে সোজা ডিএসপি টাউনশিপে। ওই রাস্তারই অন্য অংশ মিশছে গাঁধী মোড়ে ২ নম্বর জাতীয় সড়কের সঙ্গে। আরও একটি রাস্তা আইল্যান্ড সংলগ্ন এলাকা থেকে বেরিয়ে চলে গিয়েছে সিটি সেন্টারের দিকে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ডিএসপি টাউনশিপে যাওয়ার রাস্তাটি আগে থেকেই দ্বিমুখী ছিল। বছর খানেক আগে জাতীয় সড়কের দিকে রাস্তাটির সম্প্রসারণ করে দ্বিমুখী করা হয়। কিন্তু গত কয়েক বছরে শহরে যানবাহনের সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে গিয়েছে। পরিবহণ দফতরের হিসেব অনুযায়ী কলকাতার পর দুর্গাপুরেই সবচেয়ে বেশি গাড়ির রেজিস্ট্রেশন করানো হয়। সম্প্রসারণের পর অনেকেই ব্যবহার করছেন আইল্যান্ড সংলগ্ন রাস্তাগুলি।
যানবাহনের চাপ বাড়লেও রাস্তার আয়তন সেই তুলনায় বাড়েনি বলে দাবি বাসিন্দাদের। এর জেরে ওই এলাকায় প্রায়শই ঘটছে দুর্ঘটনা। গত এক বছরে ছোটবড় মোট ১৫টি দুর্ঘটনা হয়েছে। প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৫ জন। জখম জনা দশেক। গত সোমবার রাতে সিটি সেন্টারে নিজের দোকান থেকে মোটরবাইকে করে বেনাচিতির নিবেদিতা প্লেসের বাড়িতে ফিরছিলেন জয়ন্ত কর্মকার (৩৩)। মহিলা কলেজের কাছে আইল্যান্ডটির সামনে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারান জয়ন্তবাবু। রাস্তার পাশের একটি গাছে সজোরে ধাক্কা মারে মোটরবাইকটি। ঘটনাস্থলেই মারা যান ওই দোকানদার। মাস কয়েক আগে ওই এলাকায় আরও একটি পথ দুর্ঘটনায় জখম হন এ-জোনের বাসিন্দা বাসুদেব বসু। তিনি বলেন, ‘‘আইল্যান্ডটির পাশে জায়গা কম। তার উপর রাস্তার পাশেই বড়বড় গাছ। রাতের আলো-আঁধারিতে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ রাখা মুশকিল হয়ে পড়ে।’’
বাসিন্দাদের দাবি, আইল্যান্ডটি অবিলম্বে ছোট করে রাস্তার জায়গা বাড়ানো দরকার। এই রাস্তা দিয়েই যাতায়াত করেন কমলপুরের শ্রীনাথ মাল, মিশ্র ইস্পাত কারখানার ঠিকাকর্মী শ্যামল নাগ। তাঁরা বলেন, ‘‘জাতীয় সড়ক ও সিটি সেন্টারের দিক থেকে আসার সময় আইল্যান্ডের সামনে বাঁক নিতে সমস্যায় পড়তে হয়।’’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সিভিক ভলেন্টিয়ারও জানান, দিনেরবেলাতেও যান নিয়ন্ত্রণ করতে সমস্যায় পড়তে হয়। পুলিশের এক আধিকারিকের দাবি, ‘‘দুর্ঘটনা কমাতে আইল্যান্ডটি ছোট করে রাস্তাটি চওড়া করা দরকার।’’ ডিএসপি-র এক আধিকারিক যদিও জানান, এ ধরণের সমস্যার কথা তাঁদের কাছে জানানো হয়নি। লিখিত ভাবে সমস্যার কথা জানানো হলে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলে আশ্বাস দেন ওই আধিকারিকের।