Advertisement
E-Paper

কারখানা বাড়াতে জমি দেয়নি এডিডিএ, ক্ষোভ

সম্প্রসারণ প্রকল্পের জন্য জমি চেয়েও মিলছে না আসানসোল-দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদের (এডিডিএ) কাছ থেকে। এমনই অভিযোগ নানা কল-কারখানার। সম্প্রসারণের অভাবে শিল্প মুখ থুবড়ে পড়বে বলেও দাবি করেছেন তাঁরা। যদিও এডিডিএ কর্তৃপক্ষের দাবি, পর্ষদের কোথায় কত জমি রয়েছে তা ওয়েবসাইটে প্রকাশের পরে শীঘ্রই ই-নিলাম করে জমি দেওয়া হবে।

সুব্রত সীট

শেষ আপডেট: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৪ ০২:৪২

সম্প্রসারণ প্রকল্পের জন্য জমি চেয়েও মিলছে না আসানসোল-দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদের (এডিডিএ) কাছ থেকে। এমনই অভিযোগ নানা কল-কারখানার। সম্প্রসারণের অভাবে শিল্প মুখ থুবড়ে পড়বে বলেও দাবি করেছেন তাঁরা। যদিও এডিডিএ কর্তৃপক্ষের দাবি, পর্ষদের কোথায় কত জমি রয়েছে তা ওয়েবসাইটে প্রকাশের পরে শীঘ্রই ই-নিলাম করে জমি দেওয়া হবে।

গত বছর দশেকে এডিডিএ-র কাছে জমি চেয়ে অনেকেই তা পাননি বলে অভিযোগ। কেউ কেউ সহজে জমি পেয়েছেন। আবার অনেকে বছরের পর বছর ঘুরেও সফল হননি। এডিডিএ-র এমন ভূমিকা নিয়ে বিনিয়োগকারীরা বারবার সরব হয়েছেন। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের সংগঠন ‘দুর্গাপুর স্মল ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন’-এর সাধারণ সম্পাদক কৃপাল সিংহের দাবি, “সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সম্প্রসারণ না হলে শিল্প এক দিন অস্তিত্বের সঙ্কটে পড়বে। কিন্তু, এখানে প্রয়োজনীয় জমি চেয়ে না পাওয়ায় অনেকেই সমস্যায় পড়ছেন।”

২০০৬ সালে পূর্ব ভারতের একমাত্র স্থলবন্দর গড়ে ওঠে দুর্গাপুরের বাঁশকোপায়। একটি বেসরকারি সংস্থা প্রায় ৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে সেটি গড়ে তোলে। ২০১১ সালে ‘কনটেনার কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া লিমিটেড’-এর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে এই বন্দরের সঙ্গে রেলের সরাসরি যোগাযোগ গড়ে তুলতে উদ্যোগী হয় সংস্থাটি। কিন্তু বন্দর থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরেই রেললাইন গড়ে তোলার উদ্যোগ থমকে যায়। সংস্থার সিইও তথা ডিরেক্টর প্রমোদকুমার শ্রীবাস্তব বলেন, “এডিডিএ জমি না দেওয়ায় বন্দর পর্যন্ত সরাসরি রেল যোগাযোগ গড়ে তোলা যায়নি। এখন তিন কিলোমিটার দূর থেকে ট্রাকে করে মাল আনা-নেওয়া করতে হয়।”

দুর্গাপুরের খয়রাশোলে প্রায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে কাগজকল গড়ছে একটি সংস্থা। কাগজ তৈরির উপকরণ প্রস্তুত করার জন্য প্রায় এক একর জমি দরকার। কিন্তু এডিডিএ জানিয়েছে, কাগজকলে উৎপাদন শুরুর আগে আর জমি দেওয়া যাবে না। কারখানার অন্যতম মালিক স্বপন রায় বলেন, “মুম্বই থেকে বেশি দামে উপকরণ কিনে এনে কারখানা চালানো কঠিন। এডিডিএ তা বুঝছে না। আমাদের ভিন্ রাজ্যেও কারখানা রয়েছে। সেখানে এমন মনোভাব দেখিনি।”

এনএন বসু রোডে পাশাপাশি কারখানা রয়েছে তপনকুমার মুখোপাধ্যায়, সন্তোষ মালাকার, কৃষ্ণেন্দু চৌধুরী-সহ আরও কয়েক জনের। তাঁদের অভিযোগ, নিজেদের কারখানার পিছনে কিছুটা করে ফাঁকা জমি পড়ে আছে। সেই জমিতে পৌঁছনোর কোনও রাস্তা নেই। তাই অন্য কেউ সে জমি কিনবেন না। পিছনেই বন্ধ কারখানার পাঁচিল। ফলে পাঁচিল টপকে দুষ্কৃতীরা সহজেই হানা দিতে পারে। তা ছাড়া সম্প্রসারণ প্রকল্প হাতে নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। তাই পিছনের ফাঁকা জমিগুলি তাঁদের দরকার। ‘দুর্গাপুর স্মল ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন’-এর প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক সমীর বসু বলেন, “আমি ২০০৬ সালে বিষয়টি জানিয়ে এডিডিএ-কে চিঠি দিই। তার পরে কারখানার মালিকেরাও বহু বার এডিডিএ-র কাছে দরবার করেছেন। কিন্তু কোনও ফল হয়নি।”

কেন এমন পরিস্থিতি? এডিডিএ সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্দিষ্ট পরিকল্পনা জমা দিয়ে জমির জন্য পর্ষদের কাছে আবেদন করেন বিনিয়োগকারীরা। এর পরে বোর্ডে মিটিংয়ে তা চূড়ান্ত হয়। এডিডিএ-র এক কর্তার দাবি, অতীতে শাসকদলের সঙ্গে সুসম্পর্ক কাজে লাগিয়ে অনেকেই প্রয়োজনের বেশি জমি নিয়েছেন। অথচ, অনেকে চেয়েও জমি পাননি অনেকে। সে জন্য একটি স্বচ্ছ পদ্ধতি গড়ে তোলার প্রক্রিয়া হাতে নেওয়া হয়েছিল। সম্প্রতি তা শেষ হয়েছে। এডিডিএ-র চেয়ারম্যান নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “শিল্পের জন্য এডিডিএ-র কোথায় কত জমি আছে তা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। এর পরে ই-নিলামে যিনি বেশি দর দেবেন, তিনি জমি পাবেন।” নতুন এই পদ্ধতি নিয়ে অবশ্য আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোগীরা। তাঁদের অভিযোগ, কম বাজেট নিয়ে নিলামে জমি কিনে কারখানা গড়তে গেলে সমস্যায় পড়বেন তাঁরা। নিখিলবাবুর অবশ্য দাবি, এই পদ্ধতিতে একই সঙ্গে দ্রুততা ও স্বচ্ছতা আসবে।

subrata shit durgapur adda agitation
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy