সরকারি দফতর, হাসপাতাল সব রয়েছে। আছে হাইস্কুল, এমনকী প্রাথমিক শিক্ষক শিক্ষণকেন্দ্রও। অভাব শুধু ডিগ্রি কলেজের। এর জেরে উচ্চ মাধ্যমিক উত্তীর্ণ হলেই সঙ্কটে পড়েন দুর্গাপুর-ফরিদপুর ব্লকের লাউদোহার পড়ুয়ারা। সম্প্রতি মহকুমাশাসকের কাছে চিঠি দিয়ে এলাকায় কলেজ গড়ার দাবি জানিয়েছেন গ্রামবাসীদের একাংশ।
এলাকায় গিয়ে জানা গেল, ফরিদপুর ব্লকে মোট ১১টি হাইস্কুল রয়েছে। ফি বছর কয়েকশো পড়ুয়া উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন। কিন্তু প্রায় ৫১টি গ্রামের পড়ুয়াদের উচ্চশিক্ষার জন্য ছুটতে হয় অন্ডালের খাঁদরা বা পাণ্ডবেশ্বর কলেজে। পড়ুয়ারা জানান, দুর্গাপুরের কলেজে ভর্তি হলে সমস্যা হয় পরিবহণের। ন্যূনতম প্রায় ত্রিশ কিলোমিটার দূরে রয়েছে দুর্গাপুরের কলেজগুলি। ছাত্রীদের জন্য সমস্যাটা আরও প্রকট বলে মত বাসিন্দাদের। বালিজুড়ির বাসিন্দা রঞ্জিৎ মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘উচ্চশিক্ষার জন্য এলাকার পড়ুয়াদের অনেককেই দুর্গাপুরে বাড়ি ভাড়া করতে হয়।’’ এ ছাড়া এলাকার বেশির ভাগ বাসিন্দাই আর্থিক ভাবে পিছিয়ে। ফলে, বাইরে গিয়ে পড়াশোনা চালানোও সম্ভব হয় না অনেকের পক্ষে। তাই উচ্চশিক্ষার ইচ্ছে থাকলেও তার খরচ টানতে পারেন না অনেক পড়ুয়াই।
বাসিন্দাদের দাবি, ব্লকে অন্তত একটি কলেজ গড়া দরকার। তার প্রাথমিক পরিকাঠামোও তাঁরাই তৈরি করে দেবেন বলে জানান তাঁরা। স্থানীয় বাসিন্দা অনন্ত বন্দ্যোপাধ্যায়, অনুপম চট্টোপাধ্যায়, রঞ্জিৎ চৌধুরীদের আক্ষেপ, লাউদোহায় হাসপাতাল, থানা, উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক থাকলেও কলেজ তৈরি করা হয়নি। চঞ্চল মণ্ডলের কথায়, বড় রাস্তার পাশে খানিকটা ফাঁকা জায়গা আছে, সেখানে কলেজ গড়া যেতেই পারে। তিনি বলেন, ‘‘সরকার উদ্যোগী হলে দরকারে আমরা নিজেরাই জায়গার ব্যবস্থা করব।’’ জেলাশাসকের দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, বাসিন্দাদের চিঠি সংশ্লিষ্ট দফতরে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন মিললেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।