Advertisement
E-Paper

টাকা বিলিতে স্বচ্ছতা আনতে চালু ইএফএম

সময়মতো কাজ শেষ করার পরেও টাকা মেলে না, একশো দিনের প্রকল্পে এ অভিযোগ বহু দিনের। সমস্যা মেটাতে চলতি আর্থিক বছরের জুলাই মাস থেকেই ইএফএম বা ইলেকট্রনিক ফান্ড ম্যানেজমেন্ট পদ্ধতিতে টাকা বিলি করার উদ্যোগ করছে জেলা পরিষদ।

কেদারনাথ ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: ২১ জুন ২০১৪ ০১:১৬

সময়মতো কাজ শেষ করার পরেও টাকা মেলে না, একশো দিনের প্রকল্পে এ অভিযোগ বহু দিনের। সমস্যা মেটাতে চলতি আর্থিক বছরের জুলাই মাস থেকেই ইএফএম বা ইলেকট্রনিক ফান্ড ম্যানেজমেন্ট পদ্ধতিতে টাকা বিলি করার উদ্যোগ করছে জেলা পরিষদ।

জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গিয়েছে, টাকা বিলির ব্যাপারে ও স্বচ্ছতা দ্রুততা আনতে ওই পদ্ধতি চালু করার কথা ভাবা হচ্ছে। রাজ্যে একমাত্র উত্তর চব্বিশ পরগণাতে এই পদ্ধতি চালু রয়েছে। প্রশাসনের দাবি, এই ব্যবস্থায় জব কার্ড রয়েছে এমন ব্যক্তিদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পৌঁছে যাবে।

নিয়ম অনুযায়ী একশো দিনের প্রকল্পের বিভিন্ন পরিকল্পনা প্রাথমিক ভাবে নির্ধারিত হয় বুথ স্তর থেকে। পরে শ্রম দিবস এবং মজুরির পরিমাণের বিষয়টি ঠিক করেন পঞ্চায়েত আধিকারিকেরা। এরপর বিডিও মারফত পরিকল্পনাগুলি জেলায় পৌঁছয়। অনুমোদনের পরে পঞ্চায়েতকে নির্দিষ্ট অর্থ বরাদ্দ করে জেলা প্রশাসন। অনেক সময়ই দেখা যায় বরাদ্দ টাকা দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু পুকুর কাটা বা রাস্তা তৈরির কাজ চলছে। পুজো বা ঈদের আগে টাকা চেয়ে পঞ্চায়েত দফতর শ্রমিকদের বিক্ষোভও চেনা ছবি। আবার বহু পঞ্চায়েত পরিকল্পনা জমা দেওয়ার পরেও কাজ সময়ে শুরু করতে না পারায় টাকা জমে থাকে। টাকা বিলির ক্ষেত্রেও সমস্যা দেখা যায় বলে জেলা প্রশাসনের দাবি। সাধারণত জব কার্ড থাকা ব্যক্তিদের অ্যাকাউন্ট থকে ডাকঘর বা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে। পঞ্চায়েতকে এ ক্ষেত্রে ব্যাঙ্ক বা ডাকঘরগুলিুকে চেক পাঠাতে হয়। চেক পাওয়ার পরে একটি নির্দিষ্ট দিনে অ্যাকাউন্টগুলিতে টাকা পাঠায় ব্যাঙ্ক বা ডাকঘরগুলি। কিন্তু বহুক্ষেত্রেই গড়িমসির কারণে এ কাজে দেরি হয় বলে অভিযোগ।

জেলা প্রশাসনের আধিকারিকেরা জানান, গত কয়েক বছর ধরে একশো দিনের প্রকল্পে ই-মাস্টাররোল চালু হওয়ায় কোন পঞ্চায়েতে, কোন দিন, কত জন কাজ করছেন সেই নথি সরাসরি দিল্লির সার্ভারে পৌঁছে যায়। সেখান থেকে জেলা, পঞ্চায়েত ব্যাঙ্ক হয়ে সাধারণ মানুষের টাকা পৌঁছতে স্বাভাবিক ভাবেই অনেক সময় লেগে যায়। তবে ইএফএম পদ্ধতিতে সে সম্ভবনা নেই বলেই জেলা পরিষদের দাবি। এই পদ্ধতিতে ই-মাস্টাররোল দেখে টাকা সরাসরি ওই শ্রমিকের অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে। শুধু তাই নয় পরিকল্পনার জন্য অন্তত ১৫ দিনের টাকা সবসময় মজুত থাকবে সরকারি অ্যাকাউন্টে। জেলা পরিষদ সভাধিপতি দেবু টুডু বলেন, “জোরকদমে ওই পদ্ধতি চালু করার কাজ চলছে। ইতিমধ্যেই ৩০ শতাংশ কাজ শেষ হয়ে গেছে। জুলাইয়ের মধ্যে কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার কথা।”

ইএফএম পদ্ধতি চালু হওয়ার খবরে খুশি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ও প্রধানেরা। তাঁদের মতে, টাকা না পেয়ে ক্ষোভ তৈরি হত। বারবার টাকা চেয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন কর্তাদের চিঠি বা ই-মেল করতে হত। কিন্তু এই পদ্ধতিতে সে সমস্যা নেই। বরং স্বচ্ছতা থাকায় প্রশাসনের দিকে সাধারণ মানুষ আঙুল তুলতে পারবেন না। পূর্বস্থলী ১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি দিলীপ মল্লিক বলেন, “জমা দু’লক্ষের নীচে নেমে গেলেই এই প্রকল্পে টাকা চেয়ে আবেদন করতে হয়। ইএফএমে আর টাকা চাইতে হবে না। মজুরির পাশাপাশি ঠিকাদারদেরও একই ভাবে টাকা দেওয়া যাবে।”

transperancy in payment efm system kedarnath bhattacharya kalna
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy