অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়ল নানা অপরাধে অভিযুক্ত মঙ্গলকোটের সাইফুল খান। রবিবার রাতে তাঁকে লাখুরিয়া গ্রাম থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগে কাটোয়া আদালত থেকে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে বলে পুলিশ জানায়। তৃণমূল ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত সাইফুলের সঙ্গে দেখা করতে মঙ্গলকোট থানায় গিয়েছিলেন দলের একাধিক নেতা। সোমবার ধৃতকে আদালতে তোলা হলে ১৪ দিন পুলিশি হেফাজত হয়। তবে সাইফুলের বিরোধী গোষ্ঠী বলে পরিচিত আজাদ মুন্সি এখনও পুলিশের নাগালের বাইরে। জেলার এক পুলিশকর্তা বলেন, বিধানসভা ভোটের আগে থেকে আজাদের খোঁজ চলছে। কিন্তু তাঁকে ধরা যাচ্ছে না।
পুলিশ জানিয়েছে, কুনুর নদী-অজয় নদের তীরবর্তী পশ্চিম মঙ্গলকোটের বিস্তীর্ণ এলাকা বর্তমানে সাইফুলের দখলে। তিনি এক সময় লাখুরিয়া গ্রামের তৃণমূলের বুথ কমিটির সদস্য ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে দু’বছর আগে আজাদ-বাহিনীর সঙ্গে লড়াইয়ে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। তার পর থেকে আজাদ মুন্সি এলাকায় নেই। আজাদের ভাই অঞ্জন মুন্সি মঙ্গলকোট সদর গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্য। সোমবার আদালতে তোলার সময় সাইফুল বলেন, “কী বলব বলুন তো! আমাকেও ধরে ফেলল।” তৃনমূলের লাখুড়িয়া অঞ্চল সভাপতি অসীম দাসের প্রশ্ন, “সাইফুলকে ধরেছে, ঠিক আছে। কিন্তু খুন, রাহাজানি, তোলাবাজির অভিযোগ সত্ত্বেও পুলিশ আজাদ মুন্সির টিকি পাচ্ছে না কেন? এলাকার মানুষ সে জবাব পুলিশের কাছে চাইছেন।”
পুলিশ জানিয়েছে, বিধানসভা ভোটের পর থেকে আজাদ কার্যত এলাকা ছাড়া।
কে এই সাইফুল? পুলিশ ও গ্রামবাসীরা জানান, ২০১২ সালে এলাকা দখল নিয়ে মঙ্গলকোট ও নানুরে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বারবার সংঘর্ষ বাধত। সে বছর বিজয়া দশমীর দিন দু’জন মারাও যান। সেই সময়ে আজাদ মুন্সির লোকজনের দৌরাত্ম্য থেকে বাঁচতে সাইফুলের শরণাপন্ন হন এলাকার বাসিন্দাদের একাংশ। তৃণমূলের একটি সূত্রে খবর, এক সময়ে পুলিশের তাড়া খেয়ে মঙ্গলকোট গ্রাম থেকে পালিয়ে আসা আজাদ ও তার দলবলকে আশ্রয় দেন ঝিলেরা গ্রামে তৃণমূলের বুথ কমিটির সদস্য সাইফুল খান। কিন্তু গোষ্ঠী রাজনীতির অঙ্ক বদলে ঘনিষ্ঠতা পাল্টে যায় শত্রুতায়। এক সময়ে মঙ্গলকোট-কেতুগ্রামের তৃণমূলের পর্যবেক্ষক অনুব্রত মণ্ডলের অনুগামী হিসেবে পরিচিত আজাদ ইতিমধ্যে তাঁদের বিরোধী কাজল শেখের শিবিরে নাম লিখিয়েছিলেন। সাইফুল থেকে গিয়েছিলেন অনুব্রত-ঘনিষ্ঠদের সঙ্গেই। তার পর এলাকা দখল নিয়ে গোলমাল শুরু হয়। এলাকাছাড়া হন আজাদ। পুলিশের একটি সূত্রে জানা যায়, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকা সমস্ত অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা শুরু হয়েছে। আর সে জন্যই রবিবার তাস খেলার আসর থেকে সাইফুলকে ধরা হয়। সিপিএমের ভাগীরথী-অজয় জোনাল সম্পাদক দুর্যোধন সর বলেন, নির্বাচন কমিশনের চাপে দেরিতে হলেও পুলিশ সাইফুলকে ধরল। আশা করি সুষ্ঠু ভাবে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা হবে।”