Advertisement
E-Paper

দাম নেই, বোরো কেনার শিবির চান চাষিরা

আলুর ধাক্কা কাটতে না কাটতেই ফের ধাক্কা বোরো ধানে। চাষিদের দাবি, মাঠ থেকে ধান উঠতেই দর ক্রমশ নামতে শুরু করেছে। সরকারি ভাবে সহায়ক মূল্যে ধান কেনার কথা বলা হলেও জেলায় পর্যাপ্ত শিবির নেই। এমনকী প্রচারও নেই বলেই তাঁদের দাবি। তবে বর্ধমান জেলা পরিষদ সূত্রে জানানো হয়েছে, আজ, শুক্রবার বর্ধমান শহরের অঙ্গীকার ভবনে ধান কেনার বিষয় নিয়ে একটি প্রশাসনিক বৈঠক হওয়ার কথা।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৮ মে ২০১৫ ০২:৩৩

আলুর ধাক্কা কাটতে না কাটতেই ফের ধাক্কা বোরো ধানে। চাষিদের দাবি, মাঠ থেকে ধান উঠতেই দর ক্রমশ নামতে শুরু করেছে। সরকারি ভাবে সহায়ক মূল্যে ধান কেনার কথা বলা হলেও জেলায় পর্যাপ্ত শিবির নেই। এমনকী প্রচারও নেই বলেই তাঁদের দাবি। তবে বর্ধমান জেলা পরিষদ সূত্রে জানানো হয়েছে, আজ, শুক্রবার বর্ধমান শহরের অঙ্গীকার ভবনে ধান কেনার বিষয় নিয়ে একটি প্রশাসনিক বৈঠক হওয়ার কথা। সেখানে চালকল মালিক, প্রশাসনিক কর্তাদের নিয়ে বৈঠক করবেন রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক।

এ বার রাজ্য জুড়েই আলুর ফলন ছিল ভাল। ফলে শুরু থেকেই তেমন দর পাননি চাষিরা। চাষিদের দাবি, বিঘা প্রতি জমিতে লোকসান হয়েছে প্রায় সাত হাজার টাকা। অভাবি বিক্রিতে একদিকে চাষিদের ঋণের বোঝা বেড়ে যায়, অন্যদিকে গ্রামীণ কৃষি সমবায়গুলি বহু চাষির কাছে কৃষি ঋণ আদায় করতে ব্যর্থ হয়। কৃষি দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলায় কয়েক লক্ষ চাষি বোরো ধান চাষ করেন। চাষ হয় প্রায় এক লক্ষ ৮০ হাজার হেক্টর জমিতে। সেখান থেকে উৎপাদন হয়েছে ৮ লক্ষ ৩৩ হাজার ৯৭২ মেট্রিক টন ধান। চাষিদের দাবি, সম্প্রতি মাঠ থেকে খোলা বাজারে ধান উঠেছে। বস্তা পিছু দাম ৪৫০ থেকে ৪৬০ টাকা। তাঁদের দাবি, গত এক দশকে ধানের দাম এতটা নামেনি, ফলে ব্যপক লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে তাঁদের। এই পরিস্থিতিতে সরকারি দামে (বস্তা পিছু ৮১৬ টাকা) ধান বিক্রি করা গেলে কিছুটা স্বস্তি পান চাষিরা। কারণ খোলা বাজারের থেকে সরকারি দাম প্রায় দ্বিগুণ। চাষিদের দাবি, ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে সরকারি উদ্যোগে ধান কেনা শুরু হলেও শিবিরের সংখ্যা অত্যান্ত কম। যে কিসান মান্ডিগুলিতে ধান কেনা হচ্ছে তার পরিমাণও অত্যন্ত কম।

বুধবার কালনা ১ ব্লক অফিসে পঞ্চায়েত প্রধানদের নিয়ে একটি প্রশাসনিক বৈঠক করেন বিডিও। সেখানে প্রধানেরা জানান, কালনা কিসান মান্ডিতে প্রতিদিন ২৭টি করে টোকেন দেওয়া হয়। এক একটি টোকেনে ৩০ বস্তা করে ধান কেনা হয়। তাঁদের দাবি, সরকারকে আরও বেশি ধান কিনতে হবে। সভায় প্রশাসনের আধিকারিকেরা জানান, কালনায় একটি মাত্র মিল ধান কিনছে। তাদেরও ২৭০ বস্তার বেশি ধান কেনার পরিকাঠামো নেই। অভিযোগ, যে যে ব্লকে কিসাম মান্ডি নেই সেখানে পরিস্থিতি আরও শোচনীয়। এ দিনই কালনা ২ ব্লকের সাধপুকুর ,ভবানন্দপুর, চা গ্রাম এলাকার কিছু চাষি কালনা মহকুমা খাদ্য নিয়ামক আধিকারিকের সঙ্গে দেখা করেন। তাঁদের দাবি, ওই এলাকাগুলি থেকে এক বস্তা ধানও কেনা হয়নি। কালনা ২ ব্লকের চাষি আসমত আলি শেখ, উদয় সরেনরা জানান, বেশ কয়েক বছর খোলা বাজারের সঙ্গে সহায়ক মূল্যের ধান দরের তেমন পার্থক্য ছিল না। কিন্তু এ বার পরিস্থিতি ভিন্ন। খোলা বাজারের প্রায় দ্বিগুণ দাম মিলছে সরকারের ঘরে। ফলে চাষিরাও ধারদেনা শুধতে সরকারি শিবিরেই ধান বিক্রি করতে চাইছেন। এই ব্লকের ভবানন্দপুর সমবায় সমিতির হিসাবরক্ষক হিরাচাঁদ ঘোষের বক্তব্য, ‘‘আগের বার আমাদের সমিতি নিজেদের টাকায় চাষিদের ধান কিনেছিল। ওই টাকা পেতে দীর্ঘসময় লেগে গিয়েছিল। তাই এ বার ধান কেনার ব্যাপারে সমবায়ের তেমন উৎসাহ নেই।’’

Advertisement

কালনা ২ ব্লকের বাসিন্দা, জেলা সভাধিপতি দেবু টুডুর অবশ্য আশ্বাস, শীঘ্রই ওই ব্লকে একটি সমবায় সমিতি চাষিদের ধান কিনবে। পূর্বস্থলী উত্তর কেন্দ্রের বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায়ও জানান, বহু চাষি সহায়ক মূল্যে ধান বিক্রি করতে চাইছেন। দ্রুত শিবির খোলার চেষ্টা হচ্ছে। এর মধ্যেই কালনার বেগপুর পঞ্চায়েতে মান্ডিতে ধান বিক্রির প্রচার নেই বলে অভিযোগ উঠেছে। সঙ্গে প্রধান অভিযোগ করেছেন, কিসাম মান্ডিতে অসাধু কারবার চলছে। দুর্নীতিতে যুক্ত কিছু ব্যবসায়ী এবং কয়েকজন সরকারি কর্মচারী।

এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে জেলায় ধান কেনার শিবির ত কম কেন? প্রশাসনের এক আধিকারিকের জবাব, ‘‘ধান কেনার ব্যাপারে সরকারের একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য রয়েছে। তবে মিল মালিকদের একাংশ ঠিকঠাক সহযোগিতা না করায় শিবির নিয়ে কিছু সমস্যা হচ্ছে। পরিস্থিতি শোধরানোর চেষ্টা শুরু হয়েছে।’’ দেবু টুডুও বলেন, ‘‘ধান কেনার গতি বাড়াতে চেষ্টা করছে প্রশাসন। শুক্রবারের বৈঠকে মিল মালিকদের ডাকা হয়েছে। সেখানে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy